২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

বিচারপতি কেনেডির অবসর ট্রাম্পের জন্য সুবর্ণ সুযোগ

প্রকাশিতঃ জুন ২৮, ২০১৮, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ


‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে পরিচিত ৮১ বছর বয়স্ক বিচারপতি অ্যান্টনি কেনেডি জানিয়েছেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট থেকে তিনি অবসর নিচ্ছেন। আগামী ৩১ জুলাই থেকে এই অবসর কার্যকর হবে। অবসরগ্রহণের পত্রটি হাতে পাওয়ার পরপরই উল্লসিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি অতি সত্বর কেনেডির শূন্যস্থানে একজন বিচারপতির মনোনয়ন দেবেন। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই তিনি মার্কিন সিনেটে এই মনোনয়নের অনুমোদন চান। সিনেটের রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে জানিয়েছেন, দ্রুতই তিনি এই মনোনয়নের ব্যাপারে শুনানির আয়োজন করবেন।

নয় সদস্যবিশিষ্ট মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এই মুহূর্তে চারজন রক্ষণশীল ও চারজন উদারনৈতিক—এই ভাগে বিভক্ত। নবম বিচারপতি অ্যান্টনি কেনেডি হলেন এই আদালতের মধ্যপন্থী সদস্য। গর্ভপাতসহ অধিকাংশ সামাজিক ও নাগরিক অধিকার প্রশ্নে তিনি আদালতের উদারনৈতিক শাখার সদস্যদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ভোট দিয়ে থাকেন। তবে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অধিকার, ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রণসহ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ—এমন অনেক প্রশ্নে তিনি রক্ষণশীল পক্ষ নিয়েছেন। তাঁর একবার এই পক্ষ, আরেকবার অন্য পক্ষ, এই ব্যবহারের জন্য কেনেডি আদালতের ‘দোলনা ভোট’ নামে পরিচিত।

কেনেডি অবসর নিলে ট্রাম্প একজন রক্ষণশীল বিচারকের মনোনয়ন দেবেন, এ কথা প্রায় নিশ্চিত। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা স্বেচ্ছায় অবসর না নেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ফলে একজন অপেক্ষাকৃত তরুণ কোনো বিচারপতি এই পদে মনোনীত হলে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট দীর্ঘদিনের জন্য রক্ষণশীলদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এই সম্ভাবনায় শুধু ট্রাম্প একা নন, অধিকাংশ রিপাবলিকান সমর্থক ভীষণ উত্তেজিত। খ্রিষ্টবাদী ইভানজেলিক্যাল রিপাবলিকানরা দীর্ঘদিন থেকেই গর্ভপাত রদের জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। সমকামীদের সমানাধিকার রদের পক্ষেও তাঁরা। এবার সে ইচ্ছা পূরণের সুযোগ আসছে, এমন কথা কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলা শুরু করেছেন।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বে বর্তমান সুপ্রিম কোর্ট এমনিতেই রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত পেয়েছেন। কেনেডি চলে গেলে তা আরও ডান দিকে হেলে পড়বে, এমন উদ্বেগ করে আইনবিষয়ক খ্যাতনামা ব্লগার টম গোল্ডস্টাইন লিখেছেন, এই আদালতকে নিজেদের পছন্দমতো গড়ে নিতে রক্ষণশীলদের আর কোনো বাধা রইল না।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ২৫ জন বিচারকদের একটি সম্ভাব্য তালিকা থেকে একজন যথাযথ প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে তিনি প্রস্তুত। একাধিক সূত্রে বলা হয়েছে, এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন টমাস হার্ডিম্যান নামের একজন আপিল বিভাগীয় বিচারক ও অ্যান্টনি কেনেডির একজন সাবেক সহকর্মী ব্রেট কাভানাগ।

ডেমোক্র্যাটরাও মনে করছেন, পরবর্তী বিচারপতি প্রশ্নে আসন্ন লড়াই তাঁদের জন্য সুবিধাজনক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট যদি রক্ষণশীলদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে অভিবাসন থেকে গর্ভপাত, ভোটাধিকার থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ, এমন অনেক প্রশ্নেই বেকায়দায় পড়বেন ডেমোক্রেটিক সমর্থকেরা। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্ব আশা করছে, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে এই উদ্বেগ থেকে ডেমোক্রেটিক ভোটারদের উজ্জীবিত করা সম্ভব।

ডেমোক্রেটিক সমর্থকেরা এরই মধ্যে মহাবিপৎসংকেতের ঘণ্টা বাজানো শুরু করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই ট্রাম্প বলে আসছেন, তিনি শুধু গর্ভপাতবিরোধী—এমন বিচারকদের মনোনয়ন দেবেন। সে কথা উল্লেখ করে সেন্টার ফর রিপ্রোডাকটিভ রাইটস নামক নাগরিক অধিকার সংস্থার প্রধান ন্যান্সি নর্থাপ বলেছেন, নারীর অধিকার ও শাসনতন্ত্রকে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, কেনেডির অবসর তাঁদের মনে বিপৎসংকেতের সূচনা করবে।

তবে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতৃত্ব যদি আশা করে থাকেন, খুব সহজেই তাঁদের পছন্দের একজন কড়া রক্ষণশীল বিচারকের নিয়োগ প্রদান সম্ভব, তাহলে ভুল করবেন। সিনেটে এই মুহূর্তে রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে ৫২টি আসন, তার একটি সিনেটর জন ম্যাককেইনের, যিনি অসুস্থ থাকায় সম্ভবত ভোট দিতে আসবেন না। ফলে মাত্র এক ভোটের সংখ্যাধিক্য নিয়ে ট্রাম্পকে তাঁর মনোনয়ন অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। সিনেটের অন্ততপক্ষে দুজন রিপাবলিকান সিনেটর—সুসান কলিন্স ও লিসা মুরকাউস্কি—গর্ভপাত ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে অনেক নমনীয়। ট্রাম্প যদি অতি কট্টর কোনো বিচারপতির নিয়োগ দেন, তাহলে এরা হয়তো বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারেন।

সুপরিচিত উদারনৈতিক ভাষ্যকার ই জে ডিওন ডেমোক্রেটিক সমর্থকদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট ডান দিকে ঝুঁকুন, তা চান না? তাহলে এখন থেকে তা ঠেকানোর জন্য সম্ভব এমন সবকিছুই করুন।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT