২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

বিএনপিকে বড় জমায়েত করতে দেবে না সরকার

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৮, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ


• আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রস্তুতি।
• গণপরিবহনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পরিকল্পনা।
• মামলা-গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর পরিকল্পনা।
• বিএনপি সহিংসতার পথে গেলে তাতে লাভ দেখছে আওয়ামী লীগ।

খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়ের দিন ঢাকায় বিএনপিকে বড় জমায়েত করতে দেবে না সরকার। সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি, গণপরিবহনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং মামলা-গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি রয়েছে।

অন্যদিকে রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি সহিংসতার পথে গেলে তাতে লাভ দেখছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এতে পুনরায় দলটিকে ‘সহিংস শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে দমন করা যাবে। গত মঙ্গলবার প্রিজন ভ্যানে হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া ও পুলিশকে মারধর করার ঘটনা সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছে সরকার ও আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, মঙ্গলবার পুলিশ খুব সতর্কভাবে, ধৈর্য ধরে বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে আচরণ করেছে। এর ফলে বিএনপির কর্মীদের মারমুখী কর্মকাণ্ডের জন্য মামলা, গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগের বৈধতা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন বিএনপি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এবং এর জন্য সরকারের প্রস্তুতি থাকা দরকার—জনগণকে এটা উপলব্ধি করার সুযোগ করে দিয়েছে বিএনপি। এটা সরকার ও আওয়ামী লীগের জন্য ভালো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি যেভাবে পুলিশের ওপর জঙ্গিদের মতো হামলা করেছে, তাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। তারা হয়তো খালেদার রায়কে কেন্দ্র করে জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে চাইবে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকবে। কোনো সহিংসতা করতে চাইলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আওয়ামী লীগ ও ১৪-দলীয় জোটও বিএনপির কর্মকাণ্ডে সতর্ক দৃষ্টি রাখবে।

সরকার ও আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র বলছে, ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন বিএনপি বিপুল মানুষের উপস্থিতির মাধ্যমে রাজপথ দখলের চেষ্টা করতে পারে—এমন খবর সরকারের কাছে আছে। এটা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নানা কৌশল প্রয়োগ করবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে বিএনপির মাঠের শক্তি দেখেছে সরকার। বর্তমান দলটির সাংগঠনিক শক্তি-সামর্থ্য কেমন এবং জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের শরিকেরা কী আচরণ করে, এ সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা পেতে চায় সরকার। খালেদা জিয়ার মামলার রায় এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিক্রিয়া থেকে তা বোঝা যাবে।

অতীতে দেখা গেছে, ঢাকায় বিএনপির কর্মসূচিতে বড় জমায়েত ঠেকাতে সরকার-সমর্থক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ৮ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করেও এমন পরিকল্পনা আছে। ঢাকা পরিবহন সমিতি ৬ ফেব্রুয়ারি বৈঠক ডেকেছে। তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা হচ্ছে রাজধানীর প্রতিটি বাস টার্মিনালে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো অবস্থান নেবে। পরিবহননেতারা বলছেন, জ্বালাও-পোড়াও যাতে না হয়, সেই সতর্কতা থেকে তাঁরা এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন। একাধিক পরিবহননেতা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য বিএনপির জমায়েত ঠেকানো।

এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াত মাঠে নেমে জ্বালাও-পোড়াও করে পরিবহনের শ্রমিক পর্যন্ত হত্যা করেছে। এ জন্য সতর্কতা অবলম্বন করবেন, টার্মিনাল পাহারা দেবেন তাঁরা। ৬ ফেব্রুয়ারি বৈঠক করে করণীয় চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি অতীতের মতো জ্বালাও-পোড়াও করলে তা ঠেকানোর ক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আছে। তবে ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিএনপিকে কোণঠাসা করার সব অস্ত্রই এখন সরকার ও আওয়ামী লীগের হাতে আছে। খালেদার জন্য মাঠে নেমে বিএনপি সহিংসতা করলে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই তাদের অনেক শক্তি ক্ষয় করতে হবে। সরকারও চাইছে বিএনপির শক্তি আগেই ক্ষয় হোক।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT