২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

বাণিজ্য মেলায় চাকরি পাওয়ার গল্প

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১৯, ২০১৮, ৪:২১ অপরাহ্ণ


জমজমাট ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মেলায় আসা ক্রেতারা কিনছেন, দেখছেন, পরখ করছেন। কেউ বা দেশি-বিদেশি রকমারি পণ্যের খুঁটিনাটি জানছেন। ছোট-বড় প্রতিটি স্টলে বিকিকিনিতে সহযোগিতা করছেন একদল চৌকস বিক্রয়কর্মী। জেনে নেওয়া যাক তাঁদের চাকরি পাওয়ার টুকরো গল্প।

মেলা টাওয়ারের পাশেই হাতিল ফার্নিচারের প্যাভিলিয়ন। এখানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন ইকরামুল। তাঁর কাছে চাকরি পাওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা শেষ। বেলা করে ঘুম থেকে উঠে ঘুরে বেড়ানোই ছিল কাজ। এই করে অলস সময় পার করছিলাম। নভেম্বরের মাঝামাঝি এক বড় ভাই বললেন, “বেকার বসে না থেকে একটু খোঁজখবর রাখো। আসছে বাণিজ্য মেলায় একটা খণ্ডকালীন চাকরি জুটেও যেতে পারে।” পাড়াতো ভাইয়ের কথাটা মনে ধরল। নিয়মিত চোখ রাখলাম সব জব সাইটে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সিভি দিলাম। ডাক এল এখান থেকে। তারপর রীতিমতো লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় টিকে চাকরি মিলল।’ তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। ইংরেজি সাহিত্যে সদ্য স্নাতক পাস করেছেন। তাঁর মতো ১৭ জন শিক্ষার্থী হাতিল ফার্নিচারের প্যাভিলিয়নে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। এ প্রসঙ্গে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক লায়লা ইসরাত জাহানের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘কর্মীদের দক্ষতা যাচাই করে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে আমরা মেলায় কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকি। এখানে আকর্ষণীয় বেতনের পাশাপাশি দুপুরের খাবার, সকাল-বিকেল নাশতা এবং রাত্রিকালীন যাতায়াতের জন্য গাড়ির সুবিধা রয়েছে। যারা ভালো করবে তাদের স্থায়ীভাবে চাকরির সুযোগও থাকছে।’

আরএফএল অটোজের শোরুমে পণ্যের তথ্য ক্রেতাকে জানাচ্ছিলেন রহিমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে নিয়মিত থাকা হয়। হঠাৎ একটা লিংকে এখানকার চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখি।’ তাঁর মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে শুরু করলেন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জান্নাতুল ফেরদৌস। তাঁরা দুজন একসঙ্গে সিভি জমা দেন। ঠিক করলেন যদি দুজনের হয় তবেই চাকরি করবেন। তারপর একটা লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় বসে তাঁরা দুই বান্ধবী একসঙ্গে পেয়ে গেলেন জীবনের প্রথম চাকরি। তাঁরা দুজনেই লালমাটিয়া মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

আড্ডা থেকেই চাকরির খোঁজ পেলেন কল্যাণপুরের আল মামুন। রহমানিয়া ফুড অ্যান্ড বেভারেজের প্যাভিলিয়নে বসে তিনি জানালেন, ‘পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানে নিয়মিত সন্ধ্যাকালীন আড্ডা জমে। সেই আড্ডাতেই এক বন্ধু পত্রিকায় ছাপানো চাকরির খবর হাতে তুলে দেয়। তা দেখেই আবেদন করি। কারও দ্বারস্থ না হয়েই নিজ যোগ্যতায় জীবনের প্রথম চাকরিটা আমি পেয়েছি।’

পরীক্ষা কিংবা সিভি জমা না দিয়ে শুধু অভিজ্ঞতা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন কেউ কেউ। এ রকম দুজন মিরপুর গার্লস আইডিয়ালের মিমছা ও তেজগাঁও কলেজের ইব্রাহিম। তাঁরা জানালেন, ‘আমরা দুই বছর ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন ইভেন্টে কাজ করছি। গত বছরও মেলায় কাজ করেছি। সেই যোগাযোগটা ধরে রেখেছিলাম। তাই এবার খুব সহজেই চাকরিটা পেয়েছি।’ তাঁরা সজীব করপোরেশনের প্যাভিলিয়নে ক্রেতাদের সেবা দিচ্ছেন।

বেলিসিমোর আইসক্রিম শোরুমে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন নওশিন। তিনি জানান, ‘মেলা শুরুর দু-তিন মাস আগ থেকে একটু খোঁজ রাখলে চাকরি পাওয়াটা আহামরি কঠিন কিছু না। আমি তিন বছর আগে দুরু দুরু বুকে শুরু করেছিলাম। বর্তমানে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করছি। শিক্ষাজীবন শেষে স্থায়ী চাকরিপ্রাপ্তিতে এটা আমাকে সহযোগিতা করবেই।’ বেশ প্রত্যয়ের সঙ্গে বললেন লালমাটিয়া মহিলা কলেজের সমাজকর্মের এই ছাত্রী।

যাঁরা পরের বাণিজ্য মেলায় চাকরিটা বগলদাবা করবেন বলে ভাবছেন তাঁরা এ বছরের নভেম্বর-অক্টোবরে জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে প্রস্তুত থাকতে পারেন। চাকরি মিলবেই। সঙ্গে ১৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয়ের নিশ্চিত সুযোগ। আপনাকে কেউ আটকাতে পারবে না।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT