২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

বাঘের সংখ্যা এখনো অজানা

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৮, ২০১৮, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ


সংখ্যার হিসাবে গরমিল এতটাই যে বিভ্রান্তিতে পড়ে যেতে হয়। একেক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া হিসাব একেক রকম। কখনো বলা হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০, যা দেখে আপনি ‘স্বস্তিদায়ক’ ভাবতে পারেন। প্রায় একই সময় আরেক হিসাবে সংখ্যা তুলে ধরা হচ্ছে ২০০ বা ১০৬, যা দেখে আপনার বিস্ময় প্রকাশ না করার কোনো কারণ নেই।

সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা জোয়ার-ভাটার পানি মতো এই বাড়ছে তো এই কমছে। তথ্যের এই গরমিল সুন্দরবনে বেঙ্গল টাইগারের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অজানা সংখ্যায় ঘুরপাক
বন বিভাগ বিভিন্ন সময়ে বাঘের সংখ্যার ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। বন বিভাগের হিসাবে বাঘের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া ও কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ২০০৪ সালে বন বিভাগ জানিয়েছিল, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ৪৪০।

২০০৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান ক্যামেরা-পদ্ধতিতে বাঘ গণনা করে জানান, বাঘের সংখ্যা ২০০। দুটো হিসাবই সঠিক ধরে নিলে বলতে হয়, মাত্র দুই বছরে বাঘ ২৪০টি কমে গেছে।

২০১০ সালে বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশের যৌথ জরিপে বাঘের সংখ্যা হয় ৪০০ থেকে ৪৫০। এই তথ্যও সঠিক ধরলে বলা যেতে পারে, চার বছরে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ২০০৪ সালের অবস্থায় ফিরে গেছে।

এবার দেখা যাক, পাঁচ বছর পরের এক হিসাবে বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কত এসেছে। ক্যামেরা-পদ্ধতিতে ২০১৫ সালে সুন্দরবনের বাঘ গণনা জরিপে বন বিভাগ জানায়, বাঘের সংখ্যা ১০৬। আর বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে পুরো সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১৭০ বলে জানানো হয়। পরের বছর ২০১৬ সাল থেকে বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড টিম বাঘ গণনা কাজ করে। এরপর ভারতের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের পশ্চিমবঙ্গ অংশে বাঘের সংখ্যা ১০০ বলা হয়, কিন্তু বাংলাদেশের ফলাফল অজানাই রয়ে গেছে।

বাঘের সংখ্যা জানতে বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড টিমের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেও সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

প্রথমে কথা হয় প্রধান বন সংরক্ষক সফিউল আলম চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘ ছিল ১০৬টি। পরে বন বিভাগের বাঘ গণনায় পাওয়া গেছে ১২২টি। তাঁর মতে, বাঘের সংখ্যা এখন বেড়ে ১৩০-এর কাছাকাছি হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য বন সংরক্ষক জাহিদুল কবীরের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা কমেছে, নাকি বেড়েছে, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি বন সংরক্ষক জাহিদুল কবীর। তিনি বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে, সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা কমেনি। স্থিতিশীল রয়েছে।’

বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান বলেন, বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ ও বন্য শূকর। আগে ছিল মহিষ। এখন তা নেই বললেই চলে। বর্তমানে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে ৬০ হাজার থেকে কিছু বেশি হরিণ থাকতে পারে। সাধারণত পাঁচ শ হরিণের জন্য একটি করে বাঘ থাকে বলা হয়। সেই হিসাবে সুন্দরবনে ১২০টির মতো বাঘ থাকতে পারে।

যেভাবে বাঘ গণনা করা হয়
ক্যামেরা ট্র্যাপিং ও ট্রেইলিং পদ্ধতিতে সাধারণত আমাদের দেশে বাঘ গণনা করা হয়ে থাকে। যেসব পয়েন্টে বাঘের আনাগোনা বেশি, সেখানে গাছের সঙ্গে লাগিয়ে রাখা হয় স্থিরচিত্র তোলার ক্যামেরা। যখন বাঘ চলাচল করে, তখন ওই ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি উঠতে থাকে। প্রতিটি বাঘের ডোরাকাটা দাগের ভিন্নতা রয়েছে, ছবি দেখে তা আলাদা করা হয়। প্রতিটি পয়েন্টে বাঘের ছবি নিয়ে সংখ্যা গোনা হয়। গাণিতিক পদ্ধতিতে সুন্দরবন এলাকার পুরো আয়তনের ওপর ভিত্তি করে সেই সংখ্যা থেকে মোট বাঘের একটা আনুমানিক হিসাব কষা হয়।

ট্রেইলিং পদ্ধতিতে বাঘের হাঁটাচলার পথে পায়ের ছাপ দেখে বাঘের সংখ্যা গণনা করা হয়। ডোরাকাটা দাগের মতো বাঘের পায়ের ছাপেও ভিন্নতা রয়েছে। ছাপের নমুনা সংগ্রহ করে বাঘের মোট সংখ্যার হিসাব করা হয়।

বাঘ গণনা প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাঘের বসতি বেশি—এমন তিনটি এলাকায় ক্যামেরা ট্র্যাপিং ও ট্রেইলিং করা হয়েছে। এই অঞ্চলগুলো হলো সাতক্ষীরায় সুন্দরবনের পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকা, খুলনায় সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট এবং বাগেরহাটের কটকা, কচিখালী ও সুপতি এলাকা। এর মধ্যে সাতক্ষীরায় ২০১৭ সালে এবং খুলনা ও বাগেরহাটে এ বছর এই দুই পদ্ধতিতে বাঘ গণনার কাজ করা হয়েছে। এর থেকে পাওয়া বাঘের ছবি ও পায়ের ছাপ সংগ্রহ করে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে বাঘের একটি ধারণা পাওয়া গেছে। তবে এখনই তা প্রকাশ করতে চাইছে না বন বিভাগ।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT