১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শীতকাল

বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮, ১:১৯ অপরাহ্ণ


খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দাওয়াই কাজে আসছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং তফসিলি ব্যাংকগুলো নানাবিধ পদক্ষেপ নিলেও খেলাপি ঋণ কমাতে কার্যত তা কাজে লাগছে না। পাহাড় সমান খেলাপি ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছে ব্যাংকগুলো। গত এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা; যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। জুন প্রান্তিকে বাণিজ্যিকগুলোর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন প্রান্তিক শেষে ৫৭টি ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ। ওই সময় মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৩১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। উল্লিখিত সময়ে ব্যাংক ব্যবস্থায় মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ২২ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৮০ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা।

ব্যাংকগুলো সঠিক দায়িত্ব পালন না করার কারণে খেলাপি ঋণ কমছে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, খেলাপির বিরুদ্ধে সমন্বিত যে ধরনের উদ্যোগ দরকার ছিল তা দৃশ্যমান হচ্ছে না। এ কারণে খেলাপি ঋণ কমছে না। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে খেলাপি ঋণ কমছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগামীতে নির্বাচনকেন্দ্রিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে খেলাপি ঋণ আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেকই রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিকের। অবশ্য কিছুটা কমেছে আগের প্রান্তিকের তুলনায়। জুন শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই সময় ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণ ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা। মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৪৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ২৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ সময় ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। হিসাব বলছে, তিন মাসের ব্যবধানে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৮০০ কোটি টাকা কমেছে।

গত ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।

বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ২৪১ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ২১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এই সময় তাদের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।

অন্যদিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর। জুন শেষে ৪০টি বেসরকারি ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৩৮ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৬ দশমিক ০১ শতাংশ। গত মার্চে বেসরকারি খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৩৭ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৬ শতাংশ। ওই সময়ে মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৬ লাখ ২১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি ৪০টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৯ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে ঋণ বিতরণ করে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।

দেশে পরিচালিত ৯টি বিদেশি মালিকানার ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। জুন শেষে তাদের মোট ঋণ ৩৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ ২ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। মার্চ শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৭ দশমিক শূন্য এক শতাংশ। মোট ঋণের পরিমাণ ৩১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে ২ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ছিল, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ছিল ওই সময় ৩০ হাজার ৬২২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম খোলা কাগজকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যত পদক্ষেপই গ্রহণ করুক না কেন তাতে সরাসরি খেলাপি ঋণ কমে আসছে না। ব্যাংকগুলোকে নিজেদের উদ্যোগ ও কার্যকর পদক্ষেপ থাকতে হবে। ব্যাংকের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ঋণ বিতরণের সময় মান যাচাই করতে হবে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT