২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

ফ্লাইওভারের তার চুরি কি বন্ধ হইবে না?

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮, ১২:২৯ অপরাহ্ণ


মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভারে কেন বাতি জ্বলে না—ইহা লইয়া আমরা একাধিকবার সম্পাদকীয় লিখিয়াছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নাই। এখনো রাত্রিবেলা এই ফ্লাইওভারের অধিকাংশ এলাকা জুড়িয়া নামিয়া আসে রাজ্যের অন্ধকার। ইহাতে চলাচল করিতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়া। অন্ধকারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তো থাকেই, তদুপরি কোনো কোনো অংশে ওত পাতিয়া থাকে ছিনতাইকারীরা। এই অন্ধকারের মূল কারণ বেশিরভাগ লাইটপোস্টই নষ্ট। নষ্ট ক্রসিংয়ের সিগন্যাল বাতিগুলিও। তাই সন্ধ্যার পরই তৈরি হয় এক ভূতুড়ে পরিবেশ। ইহার প্রধান কারণ ফ্লাইওভারের বিদ্যুতের তার চুরি। সর্বশেষ খবরে প্রকাশ, এই ফ্লাইওভারের অধিকাংশ তার তো বটে, এমনকি ইলেকট্রিক বক্সও চুরি হইয়া গিয়াছে। এই ফ্লাইওভারটির রহিয়াছে চারটি অংশ। তন্মধ্যে সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল অংশে বৈদ্যুতিক তার আছে ও জ্বলিতেছে সড়কবাতি। নিউ ইস্কাটন-মৌচাক-রাজারবাগ অংশের (প্রায় দুই কিলোমিটার) উভয় পাশের সব তার ও বক্স খোয়া গিয়াছে। যে কয়েকটি বক্স আছে, তাহার আবার নাই যন্ত্রাংশ। এফডিসি-কাওরানবাজার ও মালিবাগ রেলগেট-মৌচাক-শান্তিনগর অংশেও বিরাজ করিতেছে একই অবস্থা। ফলে বেশির ভাগ বাতি না জ্বলায় রাত্রিবেলা ঝুঁকি নিয়া চলাচল করিতেছে যানবাহনগুলি। এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

এখানে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নিরাপত্তার ব্যাপারে কেন এই অবহেলা? অবস্থাদৃষ্টে মনে হইতেছে বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভারটি দেখভাল করিবার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ নাই। তার ও ইলেকট্রিক বক্স চুরি হইবার দায়-দায়িত্ব কেহ গ্রহণ করিতেছেন না। ইহার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এই ব্যাপারে ফ্লাইওভার বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কথা বলিতেছেন। উদ্বোধনের পর এলজিইডির কথা ছিল তাহারা ফ্লাইওভারটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)কে বুঝাইয়া দিবে। কেননা এই ফ্লাইওভারটি এই দুইটি সিটি করপোরেশনের সীমানায় তৈরি করা হইয়াছে। কিন্তু ইহা দুই সিটি করপোরেশনের নিকট এখনো বুঝাইয়া দেওয়া হয় নাই। যতদিন বুঝাইয়া না দেওয়া হয়, ততদিন ইহার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এলজিইডির-ই পালন করিবার কথা। কিন্তু এই ব্যাপারে তাহাদের গাফিলতি সীমাহীন।

দেশে এখন পর্যন্ত যতগুলি ফ্লাইওভার নির্মিত হইয়াছে, তন্মধ্যে মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভারটি দৈর্ঘ্যের দিক দিয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম। গত বত্সর ২৬ অক্টোবর দীর্ঘ ছয় বত্সরের অপেক্ষার অবসান ঘটাইয়া সোয়া আট কিলোমিটারের এই ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইহা বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞের অন্যতম প্রতীক। কিন্তু সামান্য কিছু ভুল-ত্রুটির কারণে জনগণ ইহা হইতে পুরাপুরি সুফল পাইতেছেন না। দিনের বেলা চলাচল স্বাভাবিক থাকিলেও সন্ধ্যার পর হইতেই ফ্লাইওভারটির অনেকাংশই ফাঁকা হইয়া যায়। বিভিন্ন সংস্থার টানাপড়েনের কারণে এই ফ্লাইওভারটি বর্তমানে যে অভিভাবকশূন্যতায় ভুগিতেছে, শীঘ্রই তাহার অবসান একান্ত কাম্য। ইহা দুই সিটি করপোরেশনের নিকট দ্রুত সুনির্দিষ্টভাবে বুঝাইয়া দেওয়া উচিত। শুধু ফ্লাইওভার নহে, রাজধানীর আন্ডারপাস, ফুটওভারব্রিজ ইত্যাদি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT