১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

ফুটবল না খেলেও মেসি-রোনালদোর মতো আয়!

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২, ২০১৮, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ


সাদা চোখে যা দেখা যায়, বিষয়গুলো সব সময় আসলে সেভাবে ঘটে না। এ নিয়ে আমরা কিছুটা ভাবনাচিন্তা করেও ছেড়ে দিই। ফুটবলে দলবদল বিষয়টিও ঠিক সে রকমই। কিছুটা সবাই দেখে, বাকি কেউই না। প্রতি দলবদলের মৌসুমেই খেলোয়াড়দের ঠিকানা বদলাচ্ছে। আমরাও দেখছি, শুনছি, বুঝছি। তবে চোখের সামনে দেখা এ ঘটনাতেও থাকে অনেক অদেখা কিছু।

একজন খেলোয়াড়কে খুঁজে বের করার দায়িত্ব থাকে মূলত স্কাউটদের। কোনো খেলোয়াড় সম্পর্কে প্রাথমিক মূল্যায়ন করে ক্লাবের কাছে নিয়ে আসেন তাঁরা। খেলোয়াড়কে দেখে তাঁকে কেনার ব্যাপারে কথা বলেন ‘একজনের’ সঙ্গে। এই লোকই হলো এজেন্ট। মূলত তিনিই থাকেন খেলোয়াড়ের কাছে। তাঁর মূল লক্ষ্য থাকে তাঁর খেলোয়াড়কে আর্থিকভাবে লাভবান করা। দল আর খেলোয়াড়ের মাঝে সংযোগ করাটাই তাঁর কাজ।
বেশির ভাগ সময় এজেন্ট হিসেবে থাকেন তাঁদের বাবা-ভাই-কাজিন কিংবা পরিবারের সদস্য। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসি, আরিয়েন রোবেন, নেইমার, হুয়ান মাতারা বাবাকেই রেখেছেন নিজেদের এজেন্ট হিসেবে। আবার চেলসি তারকা এডেন হ্যাজার্ডের কোনো এজেন্ট নেই, সরাসরি যোগাযোগ করলে তাঁর সঙ্গেই করো।
তবে সুপার এজেন্ট নাম হয়ে গিয়েছে কারও কারও। যাঁরা কিনা এ কাজ করেই নিজেদের শীর্ষে নিয়ে গেছেন। নিজেদের নামের পাশে লাগিয়েছেন ‘সুপার এজেন্ট’ ট্যাগ। দুজনের নাম তো এখন ফুটবল–ভক্ত মানেই জানেন—হোর্হে মেন্ডেজ ও মিনো রাইওলা।

হোর্হে মেন্ডেজ

এই পর্তুগিজ খেলার স্বপ্নটা বিসর্জন দিয়েছেন ২০ পেরোনোর আগেই। টানা ৫-৬টি ক্লাব থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আশাহত মেন্ডেজ বনেছিলেন ডিজে। বার ও নাইট ক্লাবে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই একটা সুযোগ এসে গেল তাঁর সামনে। কোনো এক শুভক্ষণে দেখা হয় নুনোর সঙ্গে। মেন্ডেজকে তিনি স্পেনের লা করুনাতে যাওয়ার পথ করে দেন। ফলে পর্তুগিজ ক্লাব থেকে স্পেনে যাওয়ার সুযোগ দেখে অনেকেই আকৃষ্ট হয়।
হুগো ভিয়েনাকে নিউক্যাসলে নিয়ে তাক লাগিয়ে দেন মেন্ডেজ। এর মাঝেই চলছিল স্কুল-কলেজ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের নিয়ে দলবদলের চিন্তাভাবনা। তবে ২০০৩ সালেই নিজের সেরা কাজটি করে ফেলেন। রিকার্ডো কারেসমা আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এজেন্ট হয়ে যান মেন্ডেজ। এটাই মূলত তাঁর সেরা দলবদল। কারেসমাকে নিয়ে যান বার্সেলোনার কাছে। আর এরপরেই সেই বিখ্যাত ম্যাচ। রোনালদো একা হারিয়ে দেন বেকহামহীন ইউনাইটেডকে। অবশ্য এর আগেই স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের নজর কেড়েছেন। সে ম্যাচে রোনালদোকে দেখে মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও আর্সেনাল চেয়েছিল তাঁকে সেই সময়ে।
হোর্হে মেন্ডেজ বুঝেছেন, রোনালদোকে দিতে হবে ভালো জায়গায়। ফলে হোর্হে মেন্ডেজ বেশি বেতন ও দাম দেওয়া সত্ত্বেও অন্য ক্লাবে নেননি রোনালদোকে। ফার্গুসন বলেছিলেন, শতকরা ৫০ ভাগ ম্যাচেই শুরু থেকে সুযোগ পাবেন রোনালদো। আবার এত কম বয়সেই ইউনাইটেডের খেলাটা যেন চাপ না হয়ে বসে, সেটা নিশ্চিত করতে সব ম্যাচে নামানো হবে না রোনালদোকে।
মেন্ডেজ নিশ্চিন্ত হলেন তাঁর আর এই খেলোয়াড়টার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। রোনালদোর দলবদলের পর তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। এরপর এজেন্ট হন কোচ হোসে মরিনহো আর লুই ফিলিপে স্কলারির। পোর্তো থেকে মরিনহোকে নিয়ে আসেন চেলসিতে, আর স্কলারিকে জোগাড় করে দেন পর্তুগালের কোচের পদ। স্যার অ্যালেক্সকেও এনে দেন অ্যান্ডারসন আর নানি।
সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপের পরে গ্রীষ্মের দলবদলে মোটামুটি কাঁপিয়ে দিয়েছেন মেন্ডেজ। হামেস রদ্রিগেজকে ৬৩ মিলিয়ন ইউরোতে রিয়াল মাদ্রিদে, ৬০ মিলিয়ন ইউরোতে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াকে ইউনাইটেডে, কস্তা আর মাঙ্গালাকে চেলসি আর সিটিতে আনেন ৩২ মিলিয়ন ইউরোতে। শোনা যায়, এই ৪টি দলবদল থেকে মোট ২০ মিলিয়ন ইউরো পেয়েছেন মেন্ডেজ। সর্বশেষ ওলভারটন ওয়ান্ডারসের মূল এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। মাঝে কর নিয়ে অনেক কিছু হলেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT