১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

প্রেমিকার উরুতে লেখা মোবাইল নম্বর, নৃশংস খুনের কিনারা করল পুলিশ

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ


প্রেমিকার উরুতে মেহেদি দিয়ে লেখা দুটি ফোন নম্বর! সেই ফোন নম্বরের সূত্র ধরেই খুনের কিনারা করে ফেলল পুলিশ। ফাঁস হয়ে গেল নির্মমভাবে খুনিদদের আসল চেহারা। ফাঁস হয়ে গেল খুনের মোটিভও। অনার-কিলিংয়ের শিকার বিহারের তরুণীর বাবা-দাদা ধরা পড়ে গেল অবশেষে। ঘটনাটি ভারতের কলকাতার।

বাবা-ভাইয়ের সঙ্গে গাড়িতে করে কলকাতা থেকে বর্ধমান যাওয়ার পথেই তরুণী বুঝতে পেরেছিল, সে খুন হতে পারে। সেইজন্যই মেহেদি করার অছিলায় উরুতে লিখে রাখে দুটি নম্বর। সে চেয়েছিল, তাকে যদি প্রেমের অপরাধে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতেই হয়, তার খুনিরা যেন শাস্তি পায়। অবশেষে তরুণী খুনের কিনারা হল ওই ফোন নম্বরের সূত্র ধরেই।

কলকাতার গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকতেন যুবতীর বাবা মুহম্মদ মুস্তাক ও ভাই জাহিদ। বিহারের মুজফফরপুরে তাদের বাড়ি। একই গ্রামের বাসিন্দা করণ রামকে ভালোবেসেছিল জেহানা খাতুন। দুজনের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তারা চেয়েছিল বিয়ে করতে। কিন্তু জেহানার বাড়ি থেকে ছিল প্রবল আপত্তি। আপত্তি অগ্রাহ্য করেই করণের সঙ্গে একবার নাগপুরে চলে যায় জেহানা। এরপর জোর করেই করণের হাত থেকে জেহানাকে ছিনিয়ে নিয়ে আসে তার বাবা ও ভাই। এরপর জেহানাকে নিয়ে কলকাতায় চলে আসেন তারা। জেহানাকে বোঝাতে তাকে, করণের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য। কিন্তু নাছোড়বান্দা জেহানা। সে তার ভালোবাসাকে হারাতে চায়নি। তাই বাবা-দাদার কথা অমান্য করেই করণের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখে জেহানা। তারই মাশুল গুণতে হল তাকে। ৩১ আগস্ট ঘটে গেল নির্মম ঘটনা।
পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের নবগ্রামে জাতীয় সড়কের ধার থেকে উদ্ধার হল অজ্ঞাত পরিচয় যুবতীর দেহ। ময়নাতদন্তের সময় পুলিশ জানতে পারে মৃত তরুণীর উরুতে মেহেদি দিয়ে লেখা দুটি ফোন নম্বর। সেই ফোনের সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পুলিশ জানতে পারে, ওই ফোন নম্বরের একটি মহারাষ্ট্রে থাকা যুবক করণ রামের। সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। করণের সঙ্গে জেহানার সম্পর্কের কথা জানতে পারে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরেই পার্কসার্কাসে থাকা বাবা মহম্মদ মুস্তাক ও ভাই জাহিদকে প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জেরায় দুজনেই খুনের কথা স্বীকার করে নেয় বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ জানায়, ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, করণকে বিয়ে করার জেদ ধরায় জেহানাকে নিয়ে ২৯ অগাস্ট কলকাতায় চলে আসে তার বাবা ও ভাই। এরপর ৩০ অগাস্ট তাকে গাড়িতে করে জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিন রাতে গাড়িতে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে জেহানাকে খুন করে তারা। জাতীয় সড়কের ধারে মৃতদেহ ফেলে দেওয়ার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে জেহানার মাথা থেঁতলে দেওয়া হয় পাথর দিয়ে। এই হত্যাকাণ্ডে ধৃত দুজনকে এদিন বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হতে পারে বলে জানিয়েছে বর্ধমান জেলা পুলিশ।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT