১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শীতকাল

প্রথমবারের মতো কারা বন্দিদের জন্য বালিশ ও টেলিভিশন সরবরাহ করা হইল

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ৪, ২০১৮, ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ


বাংলাদেশের কারা ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বন্দিদের জন্য বালিশ ও টেলিভিশন সরবরাহ করা হইল। সমপ্রতি কারা মহাপরিদর্শক গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রায় নয় হাজার কয়েদিকে বালিশ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে ১০টি টেলিভিশন প্রদান করেন। কাশিমপুর কারাগারের পাশাপাশি নেত্রকোণা জেলা কারাগার ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেও এই সুবিধা প্রদান করা হইয়াছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৮টি কারাগারেই এই সুবিধা সমপ্রসারিত হইবে। শীঘ্রই বন্দিদের জন্য সকালের নাশতাও পরিবর্তন করা হইবে। রুটির সঙ্গে শুকনা গুড়ের টুকরার পরিবর্তে সবজি বা হালুয়া এবং খিচুড়িসহ সপ্তাহের একেকদিন একেক ধরনের নাশতা পরিবেশন করা হইবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে তাহাদের নাশতার ব্যয় হিসাব করিয়া বাড়তি অর্থ অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হইয়াছে। কারাগারের ২৩০ বত্সরের ইতিহাসে এইসবই অনন্য ঘটনা। ১৭৮৮ সালে ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে নির্মিত কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্রিমিনাল ওয়ার্ডটি চালু হয়। তখন হইতে সাধারণ কারাবন্দিদের সর্বসাকুল্যে ঘুমাইবার জন্য তিনটি কম্বল (বালিশ, বিছানা ও চাদর হিসাবে ব্যবহারের জন্য), ভাত খাইবার জন্য একটি থালা ও একটি বাটি সরবরাহ করা হইতেছে। শুধু ডিভিশন প্রাপ্ত এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কয়েদিদের জন্য বালিশ, মশারিসহ কিছু অত্যাবশ্যকীয় জিনিস দেওয়া হয়। তাই শত বত্সরের নিষ্ঠুর কারাবিধি ভাঙিয়া কয়েদিদের জন্য যে নূতন সুবিধার ব্যবস্থা করা হইল তাহা অভিনন্দনযোগ্য। ইহাতে বোঝা যায়, বাংলাদেশ যে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি লাভ করিতেছে, তাহার ছোঁয়া কারাগারসহ বিভিন্ন সেক্টরেই লাগিতেছে।

শুধু বালিশ ও টেলিভিশন প্রদান এবং খাবারের মানোন্নয়নই নহে, কারাবন্দিরা যাহাতে ১৫ দিন অন্তর স্বজনদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলিতে পারেন, সেই ব্যাপারেও সরকার ইতোমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে। দেশে ৬৮টি কারাগারে বুথ স্থাপনের কাজ শেষ হইলেই কারাবন্দিরা এই সুযোগ লাভ করিবেন। ইহাছাড়া কারাবন্দিদের তৈরি করা পণ্য ও দ্রব্য বিক্রয় করিয়া যে লভ্যাংশ পাওয়া যায়, তাহার অর্ধেক অর্থ পারিশ্রমিক হিসাবে বন্দিদের দেওয়া হইবে। এইসকল উদ্যোগও নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ও সাধুবাদযোগ্য। বর্তমানে মোট ৭০টি কারাগারে ৭৬ হাজারেরও বেশি বন্দি রহিয়াছে যাহা ধারণক্ষমতার তিন-চার গুণ বেশি। ইহাতে এমনিতেই কারাগারগুলিতে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হইয়াছে। সেইখানে শৌচাগার ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি সাধন যেমন প্রয়োজন, তেমনি থানা হাজত ও কারাগারগুলিতে হাজতি ও কয়েদিদের সহিত পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের নিবর্তনমূলক আচরণেরও পরিবর্তন হওয়া দরকার। আবার কারাবন্দিদের শুধু কিছু সুযোগ-সুবিধা সমপ্রসারণই নহে, কারাগারগুলিকে সত্যিকারার্থে সংশোধনাগার হিসাবে পরিচালিত করিতে হইলে ব্রিটিশ আমলের আইন ও নীতিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন জরুরি। ইতোমধ্যে এই ব্যাপারে খসড়া নীতিমালা ও আইন প্রণীত হইয়াছে বটে। আমরা আশা করি, পরবর্তী পার্লামেন্টে তাহা অনুমোদন লাভ করিবে। ইতোমধ্যে ব্রিটিশ আমলের জেলকোড ও পেনালকোডের বিধান ভারত ও পাকিস্তান অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন করিয়া তাহাতে মানবিক রূপ দিয়াছে। নিপীড়নমূলক কারাগারের বদলে মানবিক কারাগার উপহার দিতে হইলে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার সনদ ও সময়ের চাহিদা অনুসারে আমাদের কারাবিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন একান্ত কাম্য।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT