২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

পেনশন-ভাতার জন্য আর নয় জুতা ক্ষয়

প্রকাশিতঃ মে ২৯, ২০১৮, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ


জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা ও পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এ খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্ভোগ প্রতিরোধে পেনশন ও ভাতা প্রদান প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনে করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে পেনশন কিংবা ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি উপকারভোগীদেরে অ্যাকাউন্টে চলে যাবে।
সুবিধাভোগীরা পছন্দ মতো সোনালী, রূপালী, ডাচবাংলা ব্যাংক কিংবা রকেট ও শিওর যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতার টাকা গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে ভাতাভোগীদের দুর্ভোগ যেমন কমবে তেমনি প্রতি বছর সরকারের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। যা দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা আরও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়ানো যাবে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পেনশনসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ৫৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। এ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৮ লাখ। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ আরও ১০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৬৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা করা হবে। উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে আরও ১০ লাখ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বলছে, এসব অর্থ নগদ হস্তান্তরে ভাতাভোগীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন। এমনকী প্রকৃত উপকারভোগীর পরিবর্তে অন্যজনের অর্থ তুলে নেয়ার ঝুঁকিও থাকে। এছাড়া সরকারের নগদ ব্যবস্থানা ঝুঁকি এবং সরকারি ফান্ডের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা অধিক ব্যয় হয়। তাই অর্থ বিভাগ ভাতাভোগীদের ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে ভাতার অর্থ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে প্রতি মাসে ভাতাভোগীর অর্থ পছন্দ মতো ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। একই সঙ্গে পেনশন ব্যবস্থাপনাকেও অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে পেনশনার কিংবা তার স্ত্রীকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। তারাও তাদের ইচ্ছা মতো অ্যাকাউন্টে অর্থ পেয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, পেনশনসহ ৫৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ রয়েছে। এ অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উপকারভোগীর পছন্দ মতো অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। পেনশন অফিস বানাচ্ছি। পেনশনার মারা গেলে তার স্ত্রীকেও আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। চেয়ারম্যান-মেম্বারের নিকট ধর্ণাও ধরতে হবে না। ফলে দুর্নীতিও থাকবে না। এসব ক্ষেত্রে সরকারের কোনো পেমেন্ট রিসিটে চেক সিস্টেম থাকবে না। সব রিয়েল টাইম হয়ে যাবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বছরে ৫৪ হাজার কোটি টাকা সরকার বিভিন্ন অফিসের মাধ্যমে হাতে হাতে উপকারভোগীদের নিকট হস্তান্তর করে। বর্তমানে বেশকিছু অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে এসব ভাতার অর্থ দেয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাংকগুলোকে সুদসহ বিতরণকৃত অর্থ সরকারকে দিতে হয়। এতে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোকে সুদ হিসেবে দিতে হয়। কিন্তু এটা যদি সেন্ট্রালি এজি অফিস ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালনা হয় তাহলে সরকারের সুদ বাবদ ওই ১০ হাজার কোটি টাকা বেঁচে যাবে। যা দিয়ে বর্তমানে যে পরিমাণ লোক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় রয়েছেন তার চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়ানো যাবে।

ইতোমধ্যে গত ১৭ মে অর্থ বিভাগ ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে প্রথামিকভাবে সাত উপজেলায় শুধু মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান করেছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে- সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ), শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ), সাভার (ঢাকা), টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ), কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা), কালিয়াকৈর (গাজীপুর) ও ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনলাইনের মাধ্যমে ওই সাত উপজেলার আট হাজার ৮১১ জন ভাতাভোগীকে জানুয়ারি থেকে মার্চ- এ তিন মাসে ১৫০০ টাকা করে প্রদান করেন। তাৎক্ষণিক ভাতাভোগীরা তাদের ইচ্ছা মতো ব্যাংক কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, রকেট ও শিওর ক্যাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে যান। আগামী জুন মাসে তাদের একইভাবে এপ্রিল থেকে জুন- এ তিন মাসের ভাতা দেয়া হবে।
এছাড়া আগামী জুন মাসে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থ প্রাথমিকভাবে তিন জেলায় ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে দেয়া হবে। পাইলটিং হতে প্রাপ্ত ফিডব্যাকের ভিত্তিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অন্যান্য সব উপজেলায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সব ধরনের ভাতা প্রদান করা হবে।
তথা বেদে সম্প্রদায় ও তাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি, হিজড়া জনগোষ্ঠী ও চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন অঙ্কের মাসিক ভাতা দেয়া হয়।

এর বাইরে ত্রাণ-দুর্যোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ ২২ মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় ১৩৬টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নাধীন। যেমন- পেনশন সুবিধা এক ধরনের সামাজিক কর্মসূচি। এতে বছরে সরকারের ব্যয় হয় ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি। আবার কম দামে গরিবদের চাল দেয়া, ভিজিডি, ভিজিএফ, ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন ন্যাশনাল সার্ভিসের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মোট বাজেটের ১৩ শতাংশ অর্থ এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়। চলতি অর্থবছরে এ খাতে সর্বমোট বরাদ্দ দেয়া হয় ৫৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির আড়াই শতাংশ। আগামী বাজেটে এ খাতে মোট বরাদ্দ ৬৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT