১২ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৮শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

পৃথিবীতে আইন অমান্যকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৮, ২০১৮, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ


সমপ্রতি স্বনামধন্য একজন অধ্যাপক বলিয়াছেন যে, পৃথিবীতে আইন অমান্যকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে। অথচ আমাদের দেশের মানুষ বিদেশে গিয়া ঠিকই আইন মানিয়া চলেন। মান্যবর এই অধ্যাপক সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে বলিয়াছেন যে, আমাদের দেশে আইন রহিয়াছে, কিন্তু আইন মানিবার প্রবণতা নাই। এইখানে যাহারা আইন প্রয়োগ করিবেন তাহাদের মধ্যেও দেখা যায় আইন অমান্য করিবার প্রবণতা কাজ করে।
প্রশ্ন হইল, আমাদের মধ্যে আইন অমান্য করার এই প্রবণতা কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে জড়াইয়া রহিয়াছে এই উপমহাদেশের মূলগত কিছু বৈশিষ্ট্য। আমাদের নৃতাত্ত্বিক, মনস্তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে ইহার উত্তর পাওয়া যাইতে পারে। রাস্তা দখল করিয়া হাটবাজার, খালবিল দখল করিয়া প্লট বিক্রয়, ফুটপাত দখল করিয়া সারি সারি দোকান, নিয়ম না মানিয়া রাস্তা ও রেল লাইন পারাপার; অতঃপর দুর্ঘটনা—পত্রিকার পাতায় নিত্যদিন আমরা এমন অসংখ্য খবর পড়িয়া থাকি। কেবল বাংলাদেশ নহে, ইহা এই উপমহাদেশেরই সাধারণ বৈশিষ্ট্য। কিছুদিন পূর্বে একটি গবেষণায় দেখা গিয়াছে, আমাদের দেশের পরিবার ও সমাজে সততার প্রশ্নে ব্যাপক ঘাটতি রহিয়াছে। জরিপে দেখা গিয়াছে, ৯৮ শতাংশ তরুণই মনে করেন—সমাজে সততার ঘাটতি রহিয়াছে। আরো ভয়ঙ্কর কথা হইল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা-বিষয়ক শিক্ষা না পাইবার কথা জানাইয়াছেন ৬২ শতাংশ তরুণ। সাধারণভাবে নিয়ম বা আইনকানুন মানিবার ক্ষেত্রে সততা ও শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের জনসংখ্যার বৃহত্তর দরিদ্র অংশের জীবনযাপন কীরূপে চলিবে, তাহারা কোন উপায়ে বাঁচিবে—সেই উপায় তাহাদের নিজেদেরই খুঁজিয়া লইতে হয়। জনঘনত্বে আমরা শীর্ষে বটে, কিন্তু জনসংখ্যার তুলনায় ন্যূনতম আয়কর প্রদানকারী জনগোষ্ঠীও আমাদের খুব কম। জীবনধারণের জন্য এই দেশে বিবিধ ধরনের প্রতিযোগিতা-রেষারেষি এতটাই বেশি যে, প্রায় সকলেই যেকোনো উপায়ে কার্য হাসিল করিতে ব্যগ্র থাকেন। ইহা বড় ধরনের সামাজিক সমস্যা। যিনি মোবাইল ফোনে কথা বলিতে বলিতে রাস্তা বা রেললাইন পার হইতেছেন, তিনি জানেন না, এই অনিয়মের জন্য যেকোনো মুহূর্তে তাহার মৃত্যু হইতে পারে। কিন্তু এই কাজ ওই লোকটি আরো অসংখ্য মানুষকে করিতে দেখিয়াছেন। অনিয়ম করিয়া কয়েক হাজারে একজন হয়তো দুর্ঘটনার শিকার হন, কিন্তু যাহারা ভাগ্যক্রমে বাঁচিয়া গিয়াছেন, তাহাদের দেখিয়া অন্যরাও উত্সাহিত হন একইভাবে পথ চলিতে। ইহাই মানুষের সাধারণ মনস্তত্ত্ব। কিন্তু যদি আইন ভাঙিবার কারণে প্রতিটি ক্ষেত্রেই অর্থদণ্ড বা কোনো ধরনের দণ্ড ভোগ করিতে হইত—তাহা হইলে সেই দণ্ডের ভয়ে আইন না মানিয়া কাহারো কোনো উপায় থাকিত না। সুতরাং এদেশের মানুষ যখন উন্নত দেশে যান, তখন ওই দেশটির আইন-কানুন-নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটান না। কারণ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাইলেই তাহাকে বেশ ভালো অঙ্কের মূল্য চোকাইতে হইবে।
আইন ও নিয়ম-কানুন না মানিয়া পৃথিবীর কোনো দেশ উন্নতি করিতে পারে নাই। প্রকৃতি তথা বিশ্বজগতের ভিতরেও রহিয়াছে সুশৃঙ্খলতার অপূর্ব বিন্যাস। সেই অপূর্ব বিন্যাস দেখিয়া বোঝা যায়, সুশৃঙ্খলাই এই জগতের সবচাইতে বড় সৌন্দর্য। আমাদেরও সেই সৌন্দর্যকে ধারণ করিতে হইবে। জাতি হিসাবে উন্নতিসাধন করিতে হইলে ইহার কোনো বিকল্প নাই।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT