১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

পুষ্টি বিষয়ে কেয়ার বাংলাদেশের আলোচনা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিতঃ জুলাই ৪, ২০১৮, ১২:৪১ অপরাহ্ণ


কেয়ার বাংলাদেশ’-এর নিউট্রিশন অ্যাট দ্য সেন্টার প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে বহু খাতভিত্তিক (মাল্টি-সেক্টরাল) পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনের চামেলী হলে ‘ইমপ্রুভিং নিউট্রিশন থ্রু মাল্টি-সেক্টরাল অ্যাপ্রোচ: এক্সপেরিয়েন্স অব নিউট্রিশন অ্যাট দ্য সেন্টার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় আয়োজন করে কেয়ার বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বলা হয়, বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি একটি গুরুতর সমস্যা। রক্তস্বল্পতাকে পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতা ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঠপর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বহু খাতভিত্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপুষ্টি মোকাবিলায় বহু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার একটি হলো রক্তস্বল্পতা হ্রাসের উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, সরকার বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ গঠন করেছে। এই প্রতিষ্ঠান সব ধরনের পুষ্টি কার্যক্রম সমন্বয় করে থাকে। নিজের মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের প্রকল্পে আয়রন ফোলিক অ্যাসিড সরবরাহ ও গর্ভাবস্থাকালীন সেবাসহ সব ধরনের সহায়তা প্রদানেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী পুষ্টি কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমার কাছে উপজেলা পুষ্টি কমিটির কার্যক্রম, বিশেষ করে এটির লক্ষ্যে ও বিভিন্ন পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপকে খুবই সময়োচিত মনে হয়েছে।’

সভার নলেজ-শেয়ারিং সেশনে বহু খাতভিত্তিক পদ্ধতিকে পুষ্টিসংশ্লিষ্ট সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি নীতিমালা ২০১৫-এ এই উদ্যোগকে অন্যতম মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই উদ্যোগ থেকে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জন এসেছে। উদ্যোগের আওতায় সব কমিউনিটি ক্লিনিকে জিএমপি, বুকের দুধ খাওয়ানোর স্থান, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবাসহ নানা পুষ্টি সম্পর্কিত সেবাকে একীভূত করা হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণ বিভাগের মতো একাধিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (সেফটি নেট) প্রকল্পে মোট ৩৭ হাজার ৫২৩ জন দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারকে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ২৪টি বিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগের সহায়তায় সবজি বাগান করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয়ের গুরুত্বের বিষয়টিও উঠে আসে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে। আলোচনা সভায় এই প্রচেষ্টা আরও এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সকল সরকারি সংস্থা এতে সহায়তা প্রদানেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান বিশেষ অতিথি ছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির যে উচ্চ হার, তাতে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। শরীর বর্ধন হীনতার হার কমেছে, তবে এখনো এটি ৩৬.১ শতাংশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘৩২.৬ শতাংশ শিশুর ওজন বয়সের তুলনায় কম। বস্তি এলাকায় ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী প্রতি চার শিশুর মাত্র একজনকে (২৫%) সঠিক পন্থায় খাওয়ানো হয়। তুলনামূলকভাবে বস্তির বাইরে এই হার ৪০ শতাংশ।’

মো. হাবিবুর রহমান বলেন, কিশোরী মায়েদের গর্ভধারণের হারও অনেক বেশি। বাংলাদেশে ২৩ শতাংশ শিশু ২৫০০ গ্রামেরও কম ওজন সমেত জন্মগ্রহণ করে। আরও সমন্বিত প্রচেষ্টা না নেওয়া হলে, এমন ঝুঁকিও রয়েছে যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় শরীরবর্ধনহীনতার হার কমানো সম্ভব না-ও হতে পারে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. সমীর কান্তি সরকার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার, কেয়ারইউএসএর নিউট্রিশন অ্যাট দি সেন্টার প্রকল্পের পরিচালক জেনিফার ওর্গলে ও বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালক ড. মো. শাহনেওয়াজ প্রমুখ আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন কেয়ার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকল্প পরিচালক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন। বিজ্ঞপ্তি

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT