১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

পুতিনের সমালোচনা কেন করেন না ট্রাম্প?

প্রকাশিতঃ জুলাই ২১, ২০১৮, ৯:১৩ অপরাহ্ণ


কারও সম্পর্কে মন্দ কথা বলায় জুড়ি নেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। পোপ ফ্রান্সিস থেকে শুরু করে গোল্ড স্টার ফ্যামিলি, জন ম্যাককেইন ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাংবাদিক সম্পর্কেও মন্দ কথা বলতে তিনি কার্পণ্য করেনি। বলা যায়, এমনটাই হচ্ছেন ট্রাম্প।
কিন্তু শুধু একজনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত কোনো মন্দ কথা বলেননি। তিনি হলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রায় ১৮ মাস হতে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে পুতিনকে নিয়ে কোনো রকম খারাপ কথাই বলেননি ট্রাম্প। উল্টো প্রশংসার স্রোত বইয়ে দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল রাশিয়া। রাশিয়া ও পুতিন নিয়ে মন্দ কিছু না বলার পেছনে হয়তো এটাই ট্রাম্পের কারণ। যদিও মার্কিন বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ১২ জন রুশ নাগরিক হস্তক্ষেপ করেছেন বলে শনাক্ত করলেও ট্রাম্প এ ব্যাপারে কোনো কথাই বলেননি।
২০১৭ সালে মার্কিন ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে নিয়ে কী কী বলেছেন তা বিশ্লেষণ করে বের করেছেন সিএনএন পলিটিকসের মাল্টি প্ল্যাটফর্ম সম্পাদক ব্রেনা উইলিয়ামস।
ব্রেনা জানিয়েছেন, ট্রাম্প পুতিনকে নিয়ে এ পর্যন্ত কোনো খারাপ কিছু বলেননি। বরং নানা সময়ে পুতিনের বিষয়ে বলতে গিয়ে মোট ১১ বার প্রশংসা করেছেন। ওই প্রশংসাসূচক মন্তব্যগুলো হলো—
১. ২০১৮ বিশ্বকাপ জেতা এবং অসাধারণ খেলার কারণে ফ্রান্সকে অভিনন্দন। অভিনন্দন রাশিয়া ও পুতিনকেও। কারণ, তারা ফুটবল বিশ্বকাপের এত বড় আয়োজন অসম্ভব ভালোভাবেই সম্পন্ন করেছে। এই বিশ্বকাপ অতীতের অন্যগুলোর চেয়েও অনেক ভালো হয়েছে।
২. প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে পারলে আমাদের সম্পর্ক আরও ভালো হবে।
৩. আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট পুতিন ও রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হওয়ার দারুণ সুযোগ আমাদের রয়েছে।
৪. আপনি কী জানেন? পুতিন চমৎকার মানুষ, তিনি খুবই ভালো। আসলে আমরা সবাই ভালো।
৫. ‍আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হবে।
৬. রাশিয়ার নির্বাচনে জেতার জন্য আমি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। ভুয়া গণমাধ্যমগুলো পাগল হয়ে উঠেছিল, কারণ তারা চেয়েছিল আমি যেন পুতিনের কঠোর সমালোচনা করি। তাদের ধারণা ভুল ছিল!
৭. আমার বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট পুতিন দৃঢ়ভাবে মনে করেন যে, তিনি আমাদের নির্বাচনে কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করেননি।
৮. কিন্তু আমার ধারণা পুতিন ও আমার মাঝে খুব ভালো সম্পর্ক আছে, এবং এই সম্পর্ক দুই দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
৯. দেখুন রুশ প্রেসিডেন্ট দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, তিনি কোনোভাবেই (মার্কিন নির্বাচনে) হস্তক্ষেপ করেননি। এখন, এ কথা শুনে তো আর তাঁর সঙ্গে তর্কে যাওয়া যায় না।
১০. আমি ও প্রেসিডেন্ট পুতিন নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি মনে, ওসব আলোচনা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের মাঝে অনেক ভালো আলোচনা হয়েছে। আমাদের এই আলোচনা চলবে। তবে আমাদের দুজনের দৃষ্টি রাশিয়া ও আমেরিকা এবং সংশ্লিষ্ট সবার মঙ্গলের দিকেই।

১১. দেখুন, রাশিয়ার প্রতি কঠোর হওয়া আমার পক্ষে খুব সহজ। কিন্তু এরপর আমরা আর কোনো চুক্তি বা সমঝোতার দিকে এগোতে পারব না।
এ পর্যন্ত পুতিনের জন্য ট্রাম্প এসব প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প কেন পুতিনকে নিয়ে কোনো মন্দ কথা বলেন না তার কিছু তত্ত্ব দিয়েছেন ব্রেনা উইলিয়ামস। তত্ত্বগুলো হলো—ট্রাম্প ভূ–রাজনৈতিক বিষয়ে বেশ সচেতন। উত্তর কোরিয়া ও সিরিয়াসহ নানা দেশে সমঝোতার ক্ষেত্রে রাশিয়ার অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে ট্রাম্প রাশিয়া ও পুতিনকে নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলতে চান না।
ট্রাম্প নিজেকে সমঝোতাকারী হিসেবে দাবি করেন। তিনি জানেন, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে এক কক্ষে বসে আলোচনা না হলে তাঁর সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি করা সম্ভব নয়। কারও সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলে তাঁর সঙ্গে পরে আর ওই এক কক্ষে বসে আলোচনা ঠিক জমে ওঠে না। এ কারণেই পুতিনকে নিয়ে কোনো নেতিবাচক কথা বলেন না ট্রাম্প।
ট্রাম্প নিজেকে খুব ক্ষমতাধর ও কর্তৃত্ববাদী নেতা মনে করেন। আর পুতিনের প্রকৃত ক্ষমতা সম্পর্কেও তাঁর স্পষ্ট ধারণা আছে। আছে ভয়ও। এ কারণে পুতিনের নেতিবাচক সমালোচনা না করে উল্টো তাঁর ভক্ত হয়ে আছেন ট্রাম্প।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ১৬ জুলাইয়ের বৈঠককে ‘চমৎকার সূচনা’ বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে ট্রাম্প-পুতিনের মধ্যে ঐতিহাসিক এক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিশ্বের শীর্ষ পারমাণবিক শক্তিধর এই দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্কের সমস্যা কাটিয়ে তা সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি একটি চমৎকার সূচনা; প্রত্যেকের জন্যই অত্যন্ত ভালো সূচনা।’ এই বৈঠকে কেবলমাত্র দুই নেতার দোভাষীরাই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতেই দুই নেতা করমর্দন করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দুই দেশ। গত কয়েক বছর ধরে একসঙ্গে ভালো করে বসা হয়নি। আমি আশা করি, জটিলতা দূর হবে, অসাধারণ সম্পর্ক তৈরি হবে।’ রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ঘাটতির জন্য তাঁর পূর্বসূরিদের ‘মূর্খতা’কে দায়ী করে নিন্দা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
বৈঠকে কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। তবে দুই দেশের বাণিজ্য, সামরিক, চীনের আধিপত্য বিস্তার ও নিজেদের পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT