১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শীতকাল

পিআইও’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্বসাতের অভিযোগ

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৩০, ২০১৮, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ


মোঃ জহুরুল ইসলাম (নীলফামারী প্রতিনিধি) – পিআইও মোফাখ্খারুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আতœসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এলাকার প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষ এ অভিযোগ করেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই অর্থ আত্বসাত হওয়ায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবী জানান তারা।
অভিযোগে বলা হয়, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ এলাকা নিয়ে গঠিত হয় নীলফামারী -৪ আসন। জনবল সংকটে এ দুই উপজেলার পিআইও হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন মোফাখ্খারুল ইসলাম। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য প্রথম পর্যায়ে কিশোরগঞ্জ এলাকায় বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪৫ লাখ টাকা। বরাদ্দকৃত (কাবিটা) প্রকল্পে ওই উপজেলার ২ নং ওয়ার্ডের কেশবা গ্রামের রাস্তা সংস্কার, ওই এলাকার সাগর ডাক্তারের দিঘীর নিকট পাকা রাস্তা থেকে কেশবা গুচ্ছ গ্রাম পর্যন্ত শুধুমাত্র ৫/৭ লাখ টাকার সংস্কার কাজ করে পুরো টাকাই আত্বসাত করা হয়েছে। টিআর প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দের অর্থে ইউসুফ মেম্বারের বাড়ী সংলগ্ন মসজিদে মাত্র ৩ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ওই মসজিদ সংস্কারের নামে আরো প্রায় ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই বরাদ্দের টাকা দিয়েও সংস্কার কাজ করা হয়নি। এছাড়া পূর্বের যে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় সে রাস্তাটি দ্বিতীয় পর্যায়ে সংস্কারের নামে আরো প্রায় ১৭.১২৮ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সে চালের টাকাও আত্বসাত করেন পিআইও মোফাখ্খারুল ইসলাম।
এছাড়া চান্দের বাজার থেকে রফিকুল মেম্বারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করার কথা বলে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পুরোটাই পকেটস্থ করেছেন তিনি।
এলাকাবাসী বলেন, সংসদ সদস্য (নীলফামারী -৪ আসন) কর্তৃক ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষণের জন্য একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেন সরকার। কিন্তু বরাদ্দকৃত সেই অর্থে কোন কাজ না করেই আত্বসাত করেছেন পিআইও মোফাখখারুল সহ সাংসদ আলহাজ্ব শওকত চৌধুরীর লোকজন। তারা বলেন, প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সময়ে প্রকল্পে সাইন বোর্ড লটকানোর নির্দেশনা থাকে। কিন্তু সেটি করা হয়নি। ফলে কোথায় কাজ করা হচ্ছে এবং হয়েছে তা এলাকাবাসী জানেন না বলে জানা যায়।
সাকিল নামের এক রাজনৈতিক নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের স্বার্থে এ আসনের কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে চলেছেন। কিন্তু বরাদ্দকৃত অর্থে কোন প্রকার কাজ করা হচ্ছে না। ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত চৌধুরীর পরিচয় দেওয়া লোকজন ও পিআইও মোফাখখারুল কোটি কোটি টাকা আত্বসাত করে চলেছেন। যা সঠিক তদন্ত হলেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।
এ বিষয়ে ওই উপজেলার নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ তিনি শুনেছেন। বিষয়গুলি ক্ষতিয়ে দেখা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে পিআইও মোফাখ্খারুল ইসলাম এসব বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ বলে জানান। তিনি বলেন, তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহীতা করবেন। জনগণ বা সাংবাদিকের কাছে কোন মন্তব্য করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT