২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং | ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল

পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ মিলিতেছে

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৭, ২০১৯, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ


পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ চাই? যাহারা অতীতে লইয়াছেন তাহারা জানেন সংযোগ লইবার ঝক্কি। কিন্তু একদিন সকালে উঠিয়া যদি দেখা যায়, সরকারের একজন কর্মকর্তা ফেরি করিতেছেন বিদ্যুত্ সংযোগ! কোথাও কোনো হয়রানি নাই, লাইন নাই, ঘুষ নাই, দিনের পর দিন লাটিম হইয়া ঘুরিবার ব্যাপার নাই—মাত্র পাঁচ মিনিটেই নূতন সংযোগ পাইয়া যাইতেছেন—মনে হইতে পারে যেন রূপকথার কোনো রাজ্যের কথা। কিন্তু সদুদ্দেশ্য ও আন্তরিক সেবার মানসিকতা-সম্পন্ন একজন সরকারি কর্মকর্তার জন্য কোনো কোনো ঘটনা রূপকথার মতোও হইয়া যায়। এমন চমত্কার একটি ঘটনা ঘটাইয়াছেন ঝিনাইদহের পল্ল­ী বিদ্যুত্ হরিণাকুণ্ডু জোনাল অফিসের এজিএম শেখ আবদুর রহমান।

আমরা এক দশক পূর্বে বিদ্যুতের দৈন্যদশা দেখিয়াছি। সেইসময় পল্লী বিদ্যুত্ পাওয়াটা ছিল মানুষের জন্য স্বপ্নের ব্যাপার। দিন রাত ২৪ ঘণ্টায় দেশের পল্লী এলাকার মানুষের ভাগ্যে বিদ্যুত্ জুটিত মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা, বাসাবাড়ি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের লাইন লইতে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বত্সর পার হইয়া গেলেও কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুত্ সংযোগ মিলিত না। দেশে এখন বিদ্যুতের উত্পাদন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচাইতে বেশি। শেখ আবদুর রহমান জানাইয়াছেন যে, সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছাইয়া দিতে কাজ করিয়া যাইতেছে। সেই জায়গায় গ্রাহক হয়রানির শিকার হইবেন—ইহা হইতে পারে না। তাই তিনি বিকল্প উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বাড়ি বাড়ি গিয়া কীভাবে নূতন সংযোগ দেওয়া যায়, তাহার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা হইতেই তিনি একটি ভ্যানগাড়িতে করিয়া বাড়ি বাড়ি গিয়া নূতন সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করিয়াছেন। ইহাকে তিনি অভিহিত করিয়াছেন ‘আলোর ফেরিওয়ালা, পল্লী বিদ্যুত্ দুয়ার মিটারিং কার্যক্রম’। ভ্যানগাড়িতে রহিয়াছে মিটার, বিদ্যুতের তারসহ অন্য সরঞ্জাম। সঙ্গে রহিয়াছেন দুইজন লাইনম্যান ও একজন ওয়ারিং পরিদর্শক। প্রতিদিন সকাল হইতে গ্রামে গ্রামে ঘুরিতেছেন তাহারা। ঝিনাইদহের ওই হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় রহিয়াছে আটটি ইউনিয়ন এবং ওই উপজেলায় মোট গ্রামের সংখ্যা ১৩৬টি—যেখানে প্রায় ৩ লক্ষ লোকের বসবাস। ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ কার্যক্রমে বর্তমানে গ্রাহক বিদ্যুত্ লইতে চাহিলেই মাত্র পাঁচ মিনিটেই পাইয়া যাইতেছেন সংযোগ। কোনো হয়রানি নাই, দিতে হইতেছে না কোনো বাড়তি অর্থ! দুই সপ্তাহ পূর্বে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম গোটা উপজেলায় সব বাড়িতে বিদ্যুত্ সংযোগ না পৌঁছানো অবধি চলিতে থাকিবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার হইতে দেশের গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির আটশত রিকশাভ্যান ঘরে ঘরে যাইতেছে। তাত্ক্ষণিক সকল প্রক্রিয়া সমাপ্ত করিয়া মাত্র পাঁচ মিনিটে দেওয়া হইতেছে নূতন সংযোগ। ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছাইয়া দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম বৃহত্ একটি কার্যক্রম। দেশের বৃহত্ একটি অংশ বিদ্যুতের আওতায় আসিলেও প্রায় ৮৭ সহস্রাধিক গ্রামের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছাইয়া দেওয়ার কাজটি খুব সহজ নহে। কিন্তু সরকার যে এই ব্যাপারে আন্তরিক, তাহার প্রমাণ মিলিতেছে দিগদিগন্তরে। ইহা অত্যন্ত আনন্দের।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক ও প্রকাশক:
মোঃ সুলতান চিশতী

বার্তা সম্পাদক:
ডঃ মোঃ হুমায়ূন কবির

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT