২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

পরীক্ষা বাতিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৮, ১:২৮ অপরাহ্ণ


নতুন নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েও পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে না পেরে বেকায়দায় পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয় চলতি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একজন সচিবের নেতৃত্বে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ফাঁস হওয়া বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল হবে কি না, তার সিদ্ধান্ত হবে। পুরো পরীক্ষা চলাকালে এই কমিটির কার্যক্রম থাকবে।

গতকাল রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত পাবলিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত জাতীয় তদারক কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার এবং পরীক্ষার সময় কেন্দ্রসচিব ছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্রে অন্য কারও হাতে মুঠোফোন পেলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্তও হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষায় বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) বাদ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে। সেখানে সুপারিশের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

কয়েক বছর ধরেই পাবলিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও চাকরিতে নিয়োগের পরীক্ষা—সব ক্ষেত্রেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সামনে রেখে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু এরপরও চলতি এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ অংশের প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা মূল প্রশ্নের সঙ্গে মিলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল এই জরুরি সভা ডাকা হয়। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গতকালের সভা সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এরপরও কোনো কোনো শিক্ষাবিদ প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি তাঁদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের অবস্থা কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করার মতো হয়েছে।’ তিনি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন, ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার, এমসিকিউ সম্পূর্ণভাবে উঠিয়ে দেওয়াসহ কয়েকটি প্রস্তাব দেন। এরপর এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে উল্লেখিত সিদ্ধান্ত হয়।

সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের সভার সিদ্ধান্ত জানান। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের ওই যাচাই-বাছাই কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিটিআরসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক শাখা এবং শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা থাকবেন। ওই কমিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করবে। একই সঙ্গে কমিটি এর প্রভাব পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে, যার ভিত্তিতে পরীক্ষার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, এটা শুধু ফাঁস করে টাকা আয় করার জন্য বা কোনো লাভের উদ্দেশ্যে নয়। মূলত এর লক্ষ্য হলো সরকার বা মন্ত্রণালয়কে মানুষের কাছে হেয়প্রতিপন্ন করা। এটা পুলিশ খতিয়ে দেখবে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা প্রশ্ন ছড়াচ্ছে, তারা ধরা পড়বেই। এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের ধরতে পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, গত শনিবার অনুষ্ঠিত বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং তা মূল প্রশ্নের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এই বিষয়ের পরীক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁদের মনে হয়েছে, এবার পরীক্ষার আগ মুহূর্তে কোনো না কোনো কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এবার যেহেতু সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হচ্ছে, তাই দেশের কোনো এক জায়গা থেকে ফাঁস হলে তা সারা দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

এমসিকিউ বাতিলের পরিকল্পনা

বর্তমানে ১০০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে ৩০ নম্বর এমসিকিউ অংশের। সভা সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা থেকে এমসিকিউ তুলে দেওয়ার বিষয়ে ব্যাপক দাবি ওঠে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সভায় এমসিকিউ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এই প্রশ্ন তাঁদের মধ্যে অনেক আগেই ওঠে। এ জন্যই ২০১৫ সালেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ২০১৭ সাল থেকে এমসিকিউ অংশে ১০ নম্বর কমানো হবে। এখন শিক্ষাবিদ, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সেমিনার করা হবে। তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে।

১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১০ বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৯। এর মধ্যে শুধু ৮ বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ জন। আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT