১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শীতকাল

পরিবহন ধর্মঘটে কেন ইহার ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটিল

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৩১, ২০১৮, ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ


মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কুটন মিয়ার সাত দিনের শিশুকন্যাকে অসুস্থ অবস্থায় ২৮ অক্টোবর সকালে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া যাওয়া হয়। চিকিত্সকেরা উন্নত চিকিত্সার্থে শিশুটিকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলায় অভিভাবকেরা অ্যাম্বুলেন্সে করিয়া সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে নিয়া সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন। যাইবার পথে বড়লেখা উপজেলার পুরাতন বড়লেখা বাজার, দাসের বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্সটি পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে। এই সময় অ্যাম্বুলেন্স চালককে গাড়ি হইতে নামাইয়া মারধরও করা হয়। দেড় ঘণ্টা আটকাইয়া থাকিবার পর সেইখানেই শিশুটি মারা যায়। বিয়ানী বাজার হাসপাতালে লইয়া গেলে চিকিত্সক বলেন, অনেক আগেই শিশুটি মারা গিয়াছে। অনুরূপভাবে বড়লেখায় পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে হাসপাতাল পৌঁছাইতে না পারায় বিনা চিকিত্সায় নিউমোনিয়া আক্রান্ত ১১ মাসের আরেকটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়াছে পত্রিকান্তরে। আবার গত সোমবার সুনামগঞ্জে ধর্মঘটের কারণে হাসপাতালে নিতে না পারায় দুইদিন বয়সী তৃতীয় একটি শিশুরও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটিয়াছে। এভাবে ধর্মঘটকালে আরও কতো দুর্ঘটনা ও লাঞ্ছনার ঘটনা যে ঘটিয়াছে তাহা কে বলিতে পারে!

 

সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে রবিবার হইতে ৪৮ ঘণ্টার বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়াছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে আবার গাড়ির চাকা সচল হইয়াছে, কিন্তু এই ধর্মঘট শ্রমিক সংগঠনগুলির নামে লিখিয়া গেল অমোচনীয় কালিমার কথা। অ্যাম্বুলেন্স, ঔষধের গাড়ি, বিদেশযাত্রী, পরীক্ষার্থীদের যানবাহনসহ কোনো প্রকারের গাড়িকেই ছাড় দেন নাই পরিবহন শ্রমিকেরা। তাহারই বলি হইতে হইয়াছে এই তিন শিশুকে। ঘটনা এখানেই শেষ নহে। ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের মাঝে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি দেখিলেই তাহা থামাইয়াছে আন্দোলনরত পরিবহন শ্রমিকরা। অতঃপর জোরপূর্বক সেই চালককে বাহিরে আনিয়া মুখে লাগাইয়া দিয়াছে পোড়া মবিল। কেহ বাধা দান করিলে মারধর করিয়াছে তাহারা। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে চালকদের মুখে কালি লাগাইবার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে কানে ধরিয়া উঠবস করিতেও বাধ্য করা হইয়াছে। কোনো চালক বা সাধারণ মানুষ ইহার প্রতিবাদ করিতে গেলেই গায়ে হাত দিয়াছে পরিবহন শ্রমিকেরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী এইসব ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবার কথা বলিলেও বাস্তবে তাহার দেখা মিলে নাই।

 

   ঢাকার রাস্তায় কি কোনোদিন ‘ইমার্জেন্সি লেন’ বলিয়া কিছু ছিল?  কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় আমরা ঠিকই তাহা দেখিতে পাইয়াছি। জ্যামে আটক রাস্তার ডান পার্শ্ব দিয়া অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার ব্রিগেড ও হজযাত্রার গাড়ি উপযুক্ত কারণ দেখাইয়া জ্যামে বসিয়া না থাকিয়া দ্রুত বাহির হইয়া যাইতে পারিয়াছে। অথচ উল্টা ঘটনা ঘটিল এই পরিবহন ধর্মঘটের সময়- বিপন্ন মানুষকে আরও বিপন্নতর করা হইল। ফলে দেশ জুড়িয়া সমালোচনার ঝড় উাঠিয়াছে। দাবি না মানিলে নভেম্বরে আবারও ৯৬ ঘণ্টা ধর্মঘটের হুমকি দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামেরও কিছু নীতি-নৈতিকতা আছে, আইনের সীমানা টানা আছে। অতীতে সংঘটিত হরতালগুলিতেও দেখা গিয়াছে, অ্যাম্বুলেন্স, ঔষধপত্র, সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার গাড়িকে সর্বদা ইহার আওতার বাহিরে রাখা হইয়াছে। তাহা হইলে গত দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘটে কেন ইহার ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটিল? আমরা মনে করি,  পরিবহন ধর্মঘটে অ্যাম্বুলেন্স আটক এবং সেই কারণে শিশুর মৃত্যু আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, মানবাধিকারেরও লঙ্ঘন। পেশিশক্তির জোরে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি কিংবা মানুষের জরুরি প্রয়োজনকেও অস্বীকার করা কোনো সভ্য আচরণ নহে। জনতাকে জিম্মি নহে, তাহার মন জয় করিবার শিক্ষা  নেওয়া আবশ্যক। দেশ জুড়িয়া শ্রমিক আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস আছে। আমরা আশা করি, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ তাহা হইতে শিক্ষা গ্রহণ করিবেন।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT