১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

নিরাপদ সড়কের স্বপ্ন এবং তাহার বাস্তবায়ন

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ


কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর সড়কে কতটা নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে তাহা ভাবিয়া দেখিবার বিষয় বটে। বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে মাসব্যাপী ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম চলিতেছে। পুলিশের পাশাপাশি ইহাতে যোগ দিয়াছেন বিএনসিসি ও স্কাউটের সদস্যরাও। তাহারা পথচারীদের নিয়ম মানিয়া জেব্রা ক্রসিং দিয়া সড়ক পারাপার ও ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে উত্সাহিত করিতেছেন। ইহাতে যে কোনো কাজ হইতেছে না তাহা নহে। অনেকেই এই ব্যাপারে সচেতনতার পরিচয় দিতেছেন। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মাঝেও বাড়িতেছে সচেতনতা। তাহারা এখন হেলমেট পরিয়া রাস্তায় বাহির হইতেছেন। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের কর্মীদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শতভাগ মোটরসাইকেল চালকের মাথায় হেলমেট দেখিতে পাওয়া যাইতেছে। দুই-একজন পুলিশ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হেলমেট ছাড়া আসিলেও ইহা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এদিকে চট্টগ্রামে ‘নো হেলমেট, নো পেট্রোল’ কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া মিলিয়াছে। হেলমেট ছাড়া তেল না দেওয়ার এই কর্মসূচিকে মোটরসাইকেল আরোহীরা ইতিবাচক হিসাবেই দেখিতেছেন। কেননা ইহাতে দুর্ঘটনায় ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা কমিয়া যায়।

 

উপর্যুক্ত ইতিবাচক পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাসচালকদের আচরণে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো হেরফের দেখা যাইতেছে না। তাহারা আগের মতোই বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাইতেছেন। রাস্তা আটকাইয়া যেখানে সেখানে যাত্রী তোলা, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং, একটি গাড়ির সঙ্গে অন্য গাড়ির ঘষাঘষি, রেষারেষি ইত্যাদি লাগিয়াই আছে। অবশ্য কোনো কোনো রুটের বাসগুলি লেন মানিয়া ঠিকমতো চলিতেছে। ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রমের কারণে পথেঘাটে যানবাহন চলাচলে এই সাফল্য ও অর্জনগুলির মূল্য কোনো অংশে কম নহে। তবে এই কর্মসূচি শেষ হইয়া যাইবার পরও যাহাতে আমাদের এই সচেতনতার কোনো ব্যত্যয় না ঘটে, সেই ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে জনগণ নূতন করিয়া যে দুর্ভোগ পোহাইতেছেন তাহা হইল— ঈদুল আজহার ছুটির পর সড়কে লোক সমাগম বাড়িলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক যানবাহন মিলিতেছে না। তদুপরি লেগুনার চলাচল বন্ধ করায় দুর্ভোগ আরও বাড়িয়াছে। ফলে রাস্তায় যানজট তেমন না থাকিলেও গাড়ি পাইতেই যাত্রীদের হিমশিম খাইতে হইতেছে। হুড়াহুড়ি করিয়া উঠিতে হইতেছে বাসে। অর্থাত্ ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম চলাকালে রাস্তায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে বিআরটিসির বাস অধিক হারে চলাচলের ব্যবস্থা করা যায় কিনা তাহা নিয়া চিন্তা-ভাবনা করা উচিত।

 

আমরা ঢাকা শহরে শুধু নহে, দেশের যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলেও লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা ও ত্রুটিযুক্ত গাড়ি চলাচলের বিপক্ষে। একইভাবে লাইসেন্সবিহীন চালকের গাড়ি চালানোটাও অসমর্থনযোগ্য।  রাজধানী হইতে শুরু করিয়া জেলা-উপজেলা পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের গতি অনুযায়ী পৃথক পৃথক লেনের ব্যবস্থা করা, পর্যাপ্ত ফুটপাত ও ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা, রাস্তায় সাইন-সিম্বল থাকা, নিয়মিত রাস্তা সংস্কার করা ইত্যাদির ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। ছোটদের আন্দোলনের সার্থকতা এই যে, তাহারা বিআরটিএ-কে উচিত শিক্ষা দিতে পারিয়াছে। ফলে ইহার অফিসগুলিতে এখন লাইসেন্স গ্রহণ বা নবায়নের হিড়িক পড়িয়া গিয়াছে। কিন্তু বাসমালিক, চালক ও হেলপারগণ যদি আরো সচেতন ও আইন মানিয়া চলিবার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ না হন, তাহলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আশা করা বৃথা। মোট কথা, সম্মিলিত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় নিরাপদ সড়কের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করিতে হইবে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT