১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ


টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে কয়েক বত্সরের ব্যবধানে কর্মক্ষেত্রে, বিশেষত তৈরি পোশাক শিল্পে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যাপক উন্নয়ন হইয়াছে। এই ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য গত তিন বত্সর ধরিয়া পালিত হইতেছে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস। ২০১৩ সালে এই ব্যাপারে প্রণীত হইয়াছে একটি নীতিমালাও। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর কর্মপরিবেশের এই উন্নয়ন লক্ষণীয়। কিন্তু শুধু পোশাক খাত নহে, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করিতে হইবে সকল খাতের শ্রমিকদের জন্যই। গত শুক্রবার রাত্রের একটি ঘটনা। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পেপার মিলের মেশিনে পা আটকাইয়া মৃত্যু হইয়াছে ১৪ বত্সরের এক শিশু শ্রমিকের। একে তো শিশু শ্রম নিষিদ্ধ, তাহার উপর সেই শিশুটি কাজ করিতেছিল রাত্রেও। ছেলেটি মাত্র ১৫-১৬ দিন আগে সেই মিলে শ্রমিক হিসাবে কাজে যোগদান করিয়াছিল। আমাদের দেশে কল-কারখানার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের জড়িত হইবার পিছনে বড় কারণ দারিদ্র্য। ইহা একটি নির্মম বাস্তবতা। তুলনামূলকভাবে কম বেতন দিতে হয় বলিয়া অনেকে ইহার সুযোগ গ্রহণ করিয়া থাকেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে শ্রমিকের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা থাকিবে না কেন?

 

আমাদের পোশাক খাতের কমপ্লায়েন্স নিয়া বিদেশিদের এখনো নানা অভিযোগ রহিয়াছে। তাহা সত্ত্বেও এইক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি বিশ্বস্বীকৃত। এখন এই শিল্পে সাব-কনট্রাক্টে কাজ করা ছোট ছোট কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নত করিতে হইবে। পোশাক শিল্পের বাহিরে যে বিশাল কর্মক্ষেত্র রহিয়াছে, সেখানেও ফি বত্সর বাড়িতেছে হতাহতের ঘটনা। জানা যায়, ১০ বত্সরের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি শ্রমিক মারা গিয়াছেন গত বত্সর। এইসকল দুর্ঘটনার মূল কারণ সরকারি পরিদর্শনের ঘাটতি এবং মালিক-শ্রমিকদের সচেতনতার অভাব। বেসরকারি সংস্থা সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির (এসআরএস) এক জরিপ অনুসারে ২০১৭ সালে শুধু কর্মক্ষেত্রের ভিতরে ৩২১টি দুর্ঘটনায় ৪২৬ জন শ্রমিক নিহত হইয়াছেন। ২০১৬ সালে নিহত হইয়াছেন ৩৪১ জন শ্রমিক। আর ২০০৭ হইতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১০ বত্সরে নিহত হইয়াছেন চার হাজার ৮৫৭ জন শ্রমিক। গত বত্সর সবচাইতে বেশি শ্রমিক মারা গিয়াছেন পরিবহন খাতে। ইহার পরই আছে নির্মাণ খাত। এইসকল পরিসংখ্যান আমাদের উদ্বিগ্ন করে বৈকি।

 

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নের মহাসড়কে প্রবেশ করিয়াছে। সরকার এই উন্নয়ন টেকসই করিবার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই জন্য টেকসই শিল্পায়নের বিকল্প নাই। আর টেকসই শিল্পায়ন করিতে হইলে শ্রমিকদের অন্যান্য স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি তাহাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশও নিশ্চিত করিতে হইবে। ইতোমধ্যে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটির বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়া ৩৮টি কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হইয়াছে। এই ঝুঁকি দূর করিতে কারখানাগুলি নিয়মিত পরিদর্শনের প্রতি জোর দিতে হইবে।  এই পরিদর্শন কার্যক্রমে  নিশ্চিত করিতে হইবে গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক ও চিংড়ি শিল্পের মতো অন্যান্য শিল্পও শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করা উচিত। সমপ্রতি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছে পাথর কোয়ারি ও নির্মাণশিল্প। অতএব, এই ব্যাপারেও নজর দেওয়া আবশ্যক।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT