২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

নিজের ছকেই নেই নির্বাচন কমিশন

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৭, ২০১৮, ৭:৫২ অপরাহ্ণ


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের ঘোষণা করা কর্মপরিকল্পনা ঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করতে পারছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ডিসেম্বরের মধ্যে মোটা দাগে যে তিনটি কাজ করার কথা ছিল, সেগুলো শুরু হলেও শেষ হয়নি। কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নতুন কমিশন গত ১৬ জুলাই নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল।

২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সাতটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে ইসি। এগুলো হচ্ছে আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার, নির্বাচনপ্রক্রিয়া সহজ ও যুগোপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ গ্রহণ, সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও নিবন্ধিত দলের নিরীক্ষা এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বাড়ানো।

এগুলোর মধ্যে গত ডিসেম্বরে তিনটি কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, এগুলোই ছিল কমিশনের মূল কাজ। কিন্তু ৩০০ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও তা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে আইন সংস্কারের খসড়া প্রস্তুত করার কথা ছিল, তা–ও চূড়ান্ত হয়নি। তবে চলতি সপ্তাহে কিছু আইনি সংস্কারের খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে। এ ছাড়া পরামর্শ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ে সংলাপ করতে পারলেও সুপারিশ চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করতে পারেনি ইসি।আইন সংস্কার ও সীমানা নির্ধারণ—এই দুটি বিষয় নির্বাচনের আগে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের যত আগে এই দুটি কাজ শেষ করা যাবে তত ভালো।

বাকি চারটি কাজের মধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার সময় ৩১ জানুয়ারি। ভোটকেন্দ্র স্থাপনের কাজ আগামী জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা। আর রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কাজ চলছে। নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ ধাপে ধাপে এগোচ্ছে।
সীমানা নির্ধারণ পুরোনো আইনে

নিজেদের কর্মপরিকল্পনায় সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব দিয়েছিল ইসি। তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চেয়েছিল। ইসি বলেছিল, শুধু জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি না করে জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যা এবং সংসদীয় এলাকার আয়তন বিবেচনায় নিয়ে সীমানা নির্ধারণ করার জন্য আইনি কাঠামোতে সংস্কার আনা প্রয়োজন। রাজধানীর মতো বড় শহরের আসনসংখ্যা সীমিত করে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে। এ জন্য নতুন একটি আইনের খসড়া করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ইসির উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, জুলাইয়ে এ–সংক্রান্ত আইনের একটি প্রাথমিক খসড়া করা হলেও এখন পর্যন্ত তা চূড়ান্ত করতে পারেনি। বিদ্যমান আইনেই সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে ইসি। নতুন আইন যদি করাও হয়, তা আগামী নির্বাচনের আগে কার্যকর করা সম্ভব হবে না। ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সংসদীয় আসনে পরিবর্তন আনতে পারছে না ইসি।

ইসি কর্মপরিকল্পনায় বলেছিল, জুলাই-আগস্ট থেকে কাজ শুরু করে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করবে। বাস্তবে তার কিছুই হয়নি।
ইসির একজন কর্মকর্তা জানান, সীমানা নির্ধারণের কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। গত ডিসেম্বরে ইসি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। সীমানা নির্ধারণ করে তার খসড়া তালিকা প্রকাশ করে দাবি, আপত্তি বা সুপারিশ আহ্বান, আপত্তির বিষয়ে অঞ্চলভিত্তিক শুনানি শেষে নিষ্পত্তি করার কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এগুলোর পর সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

আইন সংস্কারের খসড়া হয়নি

ইসির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে আইন সংস্কারের প্রাসঙ্গিক খসড়া প্রস্তুত করার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আইনের খসড়া চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিভিন্ন ধারা সংশোধনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর বেশ কিছু প্রস্তাব আছে। এর মধ্যে ইসি ৩১টি ধারা সংযোজন-বিয়োজনের বিষয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ইসি এখনো খসড়া চূড়ান্ত করতে পারেনি। খসড়া করার পর কমিশনের সভায় অনুমোদন করা হলে তা চূড়ান্ত খসড়া বলে গণ্য হবে।

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা আছে ইসির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে তা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। কারণ, ইসি খসড়া করার পর তা আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে ভেটিংয়ের পর তা উঠবে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে। তারপর উঠবে সংসদে। কমিশন সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহে আরপিও সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা করতে পারবেন।

সংলাপের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়নি

ইসি কর্মপরিকল্পনায় বলেছিল, নির্বাচনপ্রক্রিয়া সহজ ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে অক্টোবরের মধ্যে সংলাপ শেষ করবে। অক্টোবরের মধ্যে সংলাপ শেষ হয়েছে। কিন্তু ডিসেম্বরের মধ্যে সংলাপের সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার কথা বলেছিল। ইসি সূত্র জানায়, সংলাপের সুপারিশমালা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও তা চূড়ান্ত হয়নি। ইসি ডিসেম্বরে সুপারিশগুলো বই আকারে প্রকাশ করে সব দলকে দেওয়ার কথা বলেছিল। এটাও হয়নি।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সময়সীমা ঘোষণা করা হলে সেই সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা উচিত। সেটা করতে না পারলে কেন পারছে না, কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি না, থাকলে সেটা কী, এগুলো নির্বাচন কমিশনের পরিষ্কার করা উচিত। কারণ, মানুষ নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা ও ভূমিকার দিকে তাকিয়ে আছে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT