২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

নামাজের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের গুরুত্ব

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ


তাদের ব্যাপারেই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তারা এমন লোক, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামাজ কায়েম করা থেকে এবং জাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।’ (সূরা নূর : ৩৭)

ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল হচ্ছে নামাজ। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ মুসলমান দুনিয়াবি বিভিন্ন কাজের অজুহাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সঠিকভাবে আদায়ে অবহেলা করে। কিন্তু সাহাবিরা নামাজের সময় হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দুনিয়াবি সব কাজের ব্যস্ততা পরিত্যাগ করে মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করতেন। তাদের ব্যাপারেই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তারা এমন লোক, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামাজ কায়েম করা থেকে এবং জাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।’ (সূরা নূর : ৩৭)।

শুধু তাই নয়, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে খুশু-খুজুর সঙ্গে নামাজ আদায় করতেন। শত্রুর নিক্ষিপ্ত তিরও তাদের নামাজে মনোযোগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারত না। এ সম্পর্কে হজরত জাবের (রা.) একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, ‘আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে জাতুর-রিকা যুদ্ধাভিযানে বের হলাম। তখন এক ব্যক্তি মুশরিকদের এক লোকের সঙ্গীকে হত্যা করে। ফলে ওই মুশরিক এ মর্মে শপথ করে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত মুহাম্মদ (সা.) এর কোনো সাথির রক্তপাত না করব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হব না। অতএব সে নবী (সা.) এর সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল। নবী (সা.) এক জায়গায় অবতরণ করে বললেন, এমন কে আছো, যে আমাদের পাহারা দেবে? তখন মুহাজিরদের থেকে একজন এবং আনসারদের থেকে একজন তৈরি হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, তোমরা দুজনে গিরিপথের চূড়ায় মোতায়েন থাক। উভয়ে গিরিমুখে পৌঁছলে মুহাজির লোকটি ঘুমিয়ে পড়েন। আর আনসারি লোকটি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ে মশগুল হন। এমন সময় ওই লোকটি এসে আনসারি লোকটিকে দেখেই চিনে ফেলল। সে বুঝতে পারল তিনি (প্রতিপক্ষের) নিরাপত্তা প্রহরী। অতএব সে তার প্রতি একটি তির নিক্ষেপ করল, যা তার দেহে বিঁধে গেল। তিনি তা বের করে নিলেন। সে একে একে তিনটি তির নিক্ষেপ করল। তিনি রুকু সিজদা করে (যথারীতি নামাজ শেষ করে) সাথিকে জাগালেন। সাহাবিরা সতর্ক হয়ে গেছেন, এটা টের পেয়ে মুশরিক লোকটি পালিয়ে গেল। মুহাজির সাহাবি আনসার সাহাবিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বললেন, সুবহানাল্লাহ! প্রথম তির নিক্ষেপের পরই আমাকে সতর্ক করেননি কেন? তিনি বললেন, আমি (নামাজে) এমন একটি সূরা তেলাওয়াত করছিলাম, যা ছাড়তে আমি পছন্দ করিনি।’ (আবু দাউদ : ১৯৮)।
তালহা (রা.) ছিলেন একজন বিখ্যাত সাহাবি। নামাজের প্রতি মনোযোগে ঘাটতি হওয়ায় তিনি তার প্রিয় বাগান আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেন। এ সম্পর্কে আবদুল্লাহ বিন আবু বকর (রা.) বলেন, আবু তালহা আনসারি (রা.) একবার তার এক বাগানে নামাজ আদায় করছিলেন। এরই মধ্যে একটি ছোট পাখি উড়তে শুরু করল (বাগান এত ঘন ছিল যে এই ক্ষুদ্র পাখিটি পথ খুঁজে পাচ্ছিল না), তাই পাখিটি এদিক-সেদিক বের হওয়ার পথ খুঁজতে শুরু করল। এই দৃশ্য তার খুব ভালো লাগল। ফলে তিনি কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর নামাজের দিকে মনোযোগ দিলেন। কিন্তু (অবস্থা এই দাঁড়াল) তিনি (তখন) স্মরণ করতে পারলেন না যে, নামাজ কত রাকাত আদায় করেছেন। তিনি বললেন, এই মাল আমাকে পরীক্ষায় ফেলেছে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং বাগানে তার সম্মুখে যে পরীক্ষা উপস্থিত হয়েছিল তা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এই মাল আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করছি। আপনি যেখানে পছন্দ করেন তা সেখানে ব্যয় করুন। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২১৪)।
সাহাবায়ে কেরামের এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিকভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে যতœবান হওয়া আমাদের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সাহাবায়ে কেরামের মতো নামাজ আদায় করার তৌফিক দিন।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT