১৯শে মার্চ, ২০১৯ ইং | ৫ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল

নরসিংদীতে অভিনব কৌশলে যুবককে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১১, ২০১৯, ৮:১৭ অপরাহ্ণ


অনিক আদনান (নরসিংদী প্রতিনিধি) নরসিংদীর মাধবদীতে অভিনব কৌশলে এক যুবককে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করে দেনমোহর দাবী এক সুন্দরী নারী। এ নারীর ফাঁদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যুবকের মা ঘুরছেন বিচারকদের দ্বারে দ্বারে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুন্দরী নারী যশোর কোতায়ালি থানার চুরামনকাঠা এলাকার সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সুর্বণা নাহার সাথী। প্রায় চার মাসে আগে অভিনব কায়দায় প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করে মাধবদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো.শরিফুল ইসলাম সানি নামে এক যুবককে। সানি নরসিংদী সদর উপজেলা মাধবদী থানাধীন নওপাড়া গ্রামের সামসুল হকের ছোট ছেলে। যুবতী ঢাকার বসুন্ধরা এফব্লকের ১৪ নাম্বার রোডের ৬৪ নং ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে।

সানির মা সেলিনা জানান, ছেলে প্রেম করে বিয়ে করেছে, তার বাবা মেনে নিয়েই বাড়িতে জায়গা দিয়েছিল। কিন্তু সাথী যে বিয়ে নামে প্রতারণা করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয় তা আগে জানা ছিল না। এ মেয়ে নাকি ঢাকার বিভিন্ন সঙ্গের সাথে জড়িতও রয়েছে। সানিকে অনেকভাবে নির্যাতন করে সে অনেক টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে তাদের কাছ থেকে। সাথী মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে তার ছেলেকে।

তিনি আরো জানান, সাথীর সাজানো মামলার জালে বন্দি তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু প্রমাণ করতে না পাড়ায় আদালত সানি ও তাদের পরিবারকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে। তার পরও সে মাধবদীতে এসে সানির সাথে ঘর-সংসার করার কৌশল অলম্বন করে তাদের বাড়িতে আসে।

এ খবর জানাজানি হলে এলাকার উৎসুখ জনতা তাদের বাড়িতে ভিড় জমায়। এ বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। পরে সাথীর বাবা-মাকে নিয়ে আসতে বলে চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। কিন্তু সে তা না করে উল্টো আরেকটি নারী নির্যাতন ও গণধর্ষণ সাজিয়ে তার চাকরিজীবী বড় ছেলেসহ মোট চারজনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করে। মামলার ভয়ে তার ছেলেরা এখন বাড়ি ছাড়া রয়েছেন।

প্রতরণাকারী এ নারী নিঃস্ব করে দিচ্ছে তাদের সংসার। যে কোন সময় তাদের বড় ধরনের বিপদে ফেলে দিবে বলেও তিনি জানান। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের নিকট সঠিক তদন্ত করে এর বিচারের দাবি জানান।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম ফয়সাল বলেন, সানীর পরিবার সাথীর বিয়টি গত ১৬ ডিসেস্বর অবগত করলে স্থানীয়দের নিয়ে বসা হয়, তাতে সাথীর বাবা-মাকে এনে এর মিমাংশা করার জন্য বলা হয় সাথীকে। তার দুইদিন পর জানতে পাই ওই মেয়ে নাকি সানিসহ চার জনের নামে একটি গণধর্ষন মামলা করেছে। সানির বড় ভাই ব্রাক ব্যাংক কর্মকর্তা সেলিম বলেন, তিনশ’ ফিট এলাকায় সাথীর বিভিন্ন সংঘ রয়েছে সে বাইকার গ্রুপের সদস্য। সানী মোটরসাইকেলে চড়ে তাদের ব্যবসায়ী কাজে ওই এলাকা দিয়ে যেত। প্রায় বছর খানিক আগে একটি দোকানে পরিচয় ও ফোন নাম্বার আদান-প্রদান হলে সে তার পাতানো জালে ফেঁসে যায় সানি।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ আবু তাহের দেওয়ান জানান, সুর্বণা নাহার সাথী নিজেই বাদী হয়ে দুটি মামলা করে সানীর পরিবারের বিরুদ্ধে। একটিতে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে ও অপরটিতে তাকে গণধর্ষণ করা হয়। এজাহারে উল্লেখ্য করা হয়েছে তার স্বামী সানি ও তার ভাসুরসহ চার জন জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে। তা থানায় তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক ও প্রকাশক:
মোঃ সুলতান চিশতী

বার্তা সম্পাদক:
ডঃ মোঃ হুমায়ূন কবির

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT