২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং | ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল

নবীজির ক্ষমা ও দয়া

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৫, ২০১৯, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ


তায়েফের রক্তে ভেজা মরুপথ। নবুয়্যতের দশম বছর। শাওয়াল মাসে নবী (সা.) খাদেম যায়েদ বিন হারেস (রা.) কে সঙ্গে নিয়ে তায়েফ যান।

এরপর ইতর ছেলেপেলেকে তাঁর পেছনে লেলিয়ে দিল। অশ্লীল গালমন্দ আর চ্যাঁচামেচি করল। এক সময় তারা রাসূল (সা.)-এর ওপর পাথর মারতে শুরু করল। নবীজির জুতা দুটি রক্তে লাল হয়ে উঠল।

যায়েদ বিন হারেস (রা.) তাঁকে পাথর বৃষ্টি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে তাঁর মাথায়ও যখমের সৃষ্টি হল। এভাবে পাথর মারার ভেতরে দৌড়াতে দৌড়াতে তারা রবীআর দুই ছেলে উতবা ও শাইবার আঙুর বাগানে আশ্রয় নিলেন।

এরপর রাসূল (সা.) মক্কার পথ ধরলেন। তাঁর হৃদয়ে তখন হতাশার কালো মেঘ। তিনি যখন করনুল মানাযিল নামক মহল্লায় পৌঁছলেন তখন জিবরাঈল (আ.) পাহাড়ের ফেরেশতাকে নিয়ে তাঁর কাছে এলেন।

বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অনুমতি দিন! তাদেরকে আবু কুবাইস ও কুআইকিয়ান পাহাড়ের মাঝে ফেলে এক চাপ দিয়ে শেষ করে দিই। রাসূলে কারিম (সা.) শান্ত কণ্ঠে জবাব দিলেন, না! তাদেরকে মারবেন না। আমার একান্ত আশা; হয়তো আল্লাহ পাক তাদের বংশধরদের মধ্যে এমন অগণিত অসংখ্য মানুষ পাঠাবেন যারা একমাত্র আল্লাহতায়ালারই ইবাদত করবে। যারা তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুর শরিক করবে না। (আর রাহিকুল মাখতুম, আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী (রহ.), বুখারি শরিফ।)

আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি একবার রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞেস করলেন ওহুদ যুদ্ধের চেয়েও কোনো কঠিন দিন কি আপনার জীবনে এসেছিল? জবাবে নবীজি তায়েফের এই মর্মান্তিক দিনের বর্ণনা দিয়েছেন।

অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন নবীজি আমাদের! তাঁর আখলাক-চরিত্র ছিল মহান! আমরা কী হতে পারি না নবীজির মতো দয়ালু হৃদয়ের মানুষ!

লেখক : ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক ও প্রকাশক:
মোঃ সুলতান চিশতী

বার্তা সম্পাদক:
ডঃ মোঃ হুমায়ূন কবির

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT