১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

নওগাঁয় মুষ্ঠিবদ্ধ চাল সংগ্রহের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নবান্ন উৎসব আয়োজন

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৬, ২০১৮, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ


কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ:
নওগাঁয় নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বৃহস্পতিবার উৎসব উদ্যাপন করা হয়েছে।
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ নওগাঁ শাখা ও স্থানীয় সামাজিক-
সাংস্কৃতিক একুশে পরিষদ নওগাঁ এ উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে।
এসব অনুষ্ঠানে নৃত্যের তালে তালে আর গীত গেয়ে আবহমান গ্রামবাংলার চিরায়ত
নবান্ন উৎসব উদ্যাপন করা হয়।

পয়লা অগ্রহায়ন উপলক্ষে সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসন ও রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের
যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের বাস ভবনের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা
বের হয়। শোভাযাত্রাটি মুক্তির মোড় সমবায় চত্বর মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের আয়োজনে দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন
করেন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ নওগাঁ শাখার সভাপতি আমিনুল করিম।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে হেমন্তের ¯িœগ্ধ সকালে মিষ্টি রোদের আলোকছটায় গান,
আবৃত্তি ও নৃত্যের ঝংকারে মুখরিত হয়ে উঠে সমবায় চত্বর। এ পর্ব পরিচালনা করেন
নওগাঁ রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শকসংখ্যা। সমবায় চত্বর মাঠে বসেছিল
নানান ধরণের পিঠাপুলির দোকান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে এসে বিভিন্ন
ধরণের পিঠার স্বাদ গ্রহণ করেন আগত দর্শকেরা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে গেয়ে
শোনান, ‘আয়রে মোরা ফসল কাটি’; ‘মন ওরে কৃষি কাজ জান না’; ‘হেমন্তে
কাটা হবে ধান’ সহ প্রভূতি গান গেয়ে শোনান। জীবনানন্দ দাশের ‘আবার
আসিব ফিরে, এই বাংলায়…’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন পপি আক্তার। বিভিন্ন
গানের তালে তালে নাচ পরিবেশন করেন নৃত্য রং, নৃত্যাঞ্জলী ও ত্রিতাল একাডেমি
নওগাঁর শিল্পীরা।
বিকেল সাড়ে ৪টায় আবার শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান। সন্ধ্যার আগেই
জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে সমবায় চত্বর। এ পর্বে ছিল একক ও দলীয় সংগীত, আবৃত্তি ও
নৃত্য।
স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের আয়োজনে শহর তলির
পশ্চিম নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবান্ন উৎসব উদ্যাপিত হয়। এই উৎসবে
শিক্ষার্থীদের মুষ্ঠিবদ্ধ চাল সংগ্রহের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আগত
অতিথিদের ক্ষীর ও পায়েস তৈরি করে দিয়ে আপ্যায়ন করানো হয়। গ্রামীণ ঐতিহ্যের
অংশ হিসেবে খাবার পরিবেশন করা হয় কাঠালের পাতাতে। ক্ষীর ও পায়েসের সঙ্গে
ঠোঙ্গায় করে মুড়ি-মুড়কি খেতে দেওয়া হয়।
কথামালা পর্বে বক্তব্য রাখেন, একুশে পরিষদ নওগাঁ উপদেষ্টা শরিফুল ইসলাম খান ও
ময়নুল ইসলাম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মেহমুদ মোস্তফা, পশ্চিম নওগাঁ
উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসেম আলী প্রমুখ।
একুশে পরিষদ নওগাঁর সাধারণ সম্পাদক মেহমুদ মোস্তফা বলেন, ‘বাংলার
ঋতুভিত্তিক যে অসাম্প্রদায়িতক উৎসবগুলোর এই প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে

তুলতেই এই উৎসবের আয়োজন। আগে আমরা দেখতাম গ্রামে আমাদের মা-খালারা
বাড়িতে নতুন ধান উঠলেই সেই ধানের চাল দিয়ে ক্ষীর, পিঠা-পুলি তৈরি পাড়া
প্রতিবেশির মাঝে বিতরণ করতেন। শিক্ষার্থীদের মুষ্ঠিবদ্ধ চাল দিয়ে ক্ষীর ও পায়ের
খাওয়ানোর এই আয়োজন আমাদের সেই স্মৃতিকেই মনে করে দেয়।’#

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT