১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

ধলেশ্বরী থেকে বালু তুলে খাল ভরাট

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৪, ২০১৮, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ


মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দেড়গ্রাম এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে খননযন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। পাইপের মাধ্যমে এসব বালু দিয়ে পাশের সরকারি খাল ভরাট করা হচ্ছে।

১৮ জানুয়ারি নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় আলী হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত নদী থেকে বালু তোলার বিষয়ে স্থিতাবস্থা জারি করেন। স্থানীয় বাসিন্দা দেড়গ্রাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. করিম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কায়েস হোসেনসহ চারজন খালটি ভরাট করছেন বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে বালু তুলতে নিষেধ করেছেন তিনি। আদালতও বালু তোলা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির থাকতে উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও বালু তোলা বন্ধ না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ১৪ জানুয়ারি খাল ভরাট বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন রওশন আলী নামের এক ব্যক্তি। ওই আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, নদী থেকে খালের উৎসমুখের কাছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) একটি জলকপাট (স্লুইসগেট) নির্মাণ করেছে। এই খাল দিয়ে দেড়গ্রাম এলাকায় ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করে। এতে জমির উর্বরতা শক্তি বেড়ে যায়। খাল ভরাট হলে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে ফসলি জমির প্রাকৃতিক সেচ বন্ধ হয়ে যাবে।

গত সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, দেড়গ্রাম গ্রামে ধলেশ্বরী নদীতে খননযন্ত্র বসানো হয়েছে। দুজন শ্রমিক যন্ত্রে তেল ভরছেন। এর প্রায় ১০০ গজ দক্ষিণে খালে জলকপাট আছে। নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে পাইপের মাধ্যমে জলকপাটের প্রায় ১০০ গজ দক্ষিণে দেড়গ্রাম জামে মসজিদের সামনে খালে বালু ফেলা হচ্ছে।

দেড়গ্রামের আলী হোসেন জানান, নদীর যেখানে খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে, এর উত্তর পাশে তাঁদের চার ভাইয়ের ২৬৬ শতক জমি আছে। বালু তোলার কারণে তাঁদের জমি নদীভাঙনের কবলে পড়বে। আলী হোসেনের বড় ভাই মো. শরিয়ত উল্লাহ বলেন, ‘আমরাও ওই মসজিদে নামাজ পড়ি। তবে ব্যক্তিস্বার্থেই ওই জায়গা ভরাট করা হচ্ছে।’

সোমবার স্থানীয় জাগীর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার (নায়েব) কার্যালয়ে গিয়ে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ইউনিয়নের বরিয়াজানী থেকে হিজুলী পর্যন্ত একটি খাল আছে। নায়েব মনির হোসেন জানান, নদী থেকে বালু তোলা অবৈধ। আবার সেই মাটি সরকারি হালটে (ওই খাল) ফেলাও অবৈধ। নদী থেকে বালু উত্তোলন ও হালট ভরাট বন্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিষেধ করা হয়েছে।

দেড়গ্রাম জামে মসজিদের সামনের খালের মাটি ভরাট করতে বাস্তবায়ন কমিটিও করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, হালটের পাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি আছে। মসজিদের নামে ওই জমি দান করা হয়েছে। সেই জমিসহ হালটে বালু ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ওই জায়গা ভরাট হলে মুসল্লিদের সুবিধা হবে। হালটে পানিপ্রবাহের জন্য ব্যবস্থা করা হবে।

মো. করিম ও কায়েস হোসেন বলেন, নদী থেকে যাঁরা বালু তুলতে বাধা দিচ্ছেন এবং আদালতে মামলা করেছেন, তাঁরাই সেখান থেকে বালু তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বালু তোলার খরচ তাঁরা বেশি চাওয়ায় মসজিদ কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কম মূল্যে অন্যদের দিয়ে বালু তুলে মসজিদের সামনের নিচু জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। এ জন্য তাঁরা মামলা করেছেন।

গতকাল দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুন সরদার বলেন, ‘আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT