১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

দুই সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮, ৯:০৪ অপরাহ্ণ


বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবিতে তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ বাবা ছোমেদ ফরাজী (৭০)। স্ত্রীদের জানানো হয়নি তাদের স্বামী আর বেঁচে নেই। সন্তানরা জানে তাদের বাবা ফিরে আসবে। তবুও পরিবার ও স্বজন সবার চোখেমুখে উৎকণ্ঠা। কিন্তু বাবা ঠিকই বুছতে পেরেছেন ওরা আর ফিরে আসবে না! মাঝে মাঝে দুই ছেলের নাম নিয়ে বিলাপ করে অবার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছেন।

আজ রবিবার দুপুরে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামের নিহত জেলে আনোয়ার ফরাজী ও কামরুল ফরাজীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এমন শোকের চিত্র।

গত বুধরবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে বঙ্গোপসাগরের ১ নম্বর ফেয়ারওয়ে বয়ার কাছে ঝড়ে এফবি মারিয়া-১ নামের ট্রলারটি ডুবে যায়। ওই ট্রলারে ছোমেদ ফরাজীর তিন ছেলে শহিদুল ফরাজী (৩৫), আনোয়ার ফরাজী (৪৫) ও কামরুল ফরাজীসহ (৪২) ১৭ জন জেলে ছিলেন। এদের মধ্যে ৯জন জীবীত ফিরেছেন। বাকি ৮জনের সলিল সমাধি ঘটেছে। বেঁচে যাওয়া ৯ জনের মধ্যে শহিদুল ফরাজী নিজেই ট্রলার মালিক এবং প্রধান মাঝি। আপন দুই সহোদরকে হারিয়ে তিনি এখন সঙ্গাহীন। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে তার।

ট্রলার ডুবির লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বেঁচে ফিরে আসা ওই ট্রলারের দ্বিতীয় মাঝি রাজৈর গ্রামের আ. মজিদ হাওলাদারের ছেলে মো. কবির হাওলাদার (২২)। তার মুখের বর্ণনা, মোরা সিগনাল পাইয়া কূলে আইতে ছিলাম (কূলে আসা)। বিষ্টি আর বাতাসে টেকতে (টিকতে) না পাইর‌্যা ওরা আস্টোজন (৮জন) বোডের (ট্রলারের) কেবিনে মইদ্যে হান্দে (ঢোকে)। বুধবার রাইত ৩টার দিকে মোরা যহন ১ নম্বর বয়ার কাছাকাছি আইছি, তহন বিশাল এক লাহরে (ঢেউ) বোড (ট্রলার) ফালাইয়া দেয়। মোরা উপরে থাকা ৯জন ট্রলারের প্লোট ধইর‌্যা (প্লাস্টিকের ভাসনা/ফ্লট) সাগরে ভাসতে থাকি। কিন্ত্র হেরা আর বাইরাইয়াতে (বের হতে) পারে নাই। তিনদিন পর শুক্রবার রাইত সাড়ে তিনটা চাইট্টার দিক মোরা ভারতের সীমানায় কেতুয়ার চরে যাইয়া উডি। ভারতের এফবি সূর্যসেন নামের একটা বোডে মোগো উডাইয়া নেয়। মোগো আতপাও (হাত-পা) পানিতে সাদা ওই গ্যাছে। ভারতের বোডের মাঝি রবীন দাস মোগো ওষুদ ও খাওন দিয়া সুস্ত বানায়।

ট্রলার মাঝি কবির আরো জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে বারতের ওই এলাকায় ভেসে যাওয়া শরণখোলার বিলাশ রায় কালুর এফবি সাগর-১ ট্রলারে তাদের ৯জনকে গতকাল শনিবার সকালে উঠিয়ে দেন ভারতের ট্রলারের মাঝি রবীন দাস। এ সময় তাদের আশ্রয়ে থাকা ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নূরাবাদ এলাকার আরো ১৪ জেলেকে তুলে দেন শরণখোলার অপর ট্রলার তহিদুল তালুকদারের এফবি আজমীর শরীফ-১ এ।

এফবি সাগর ট্রলারের মালিক বিলাশ রায় কালু জানান, তার এবং তহিদুল তালুকদারের ট্রলার দুটি ঝড়ে কবলে পড়ে ভারতের কেতুয়া এলাকায় চলে যায়। সেখান থেকে মারিয়া- ট্রলারের ৯ জন ও চরফ্যাশনের ১৪ জেলেকে তাদের ট্রলারে নিয়ে আসে। এসব জেলেদের সবাই কমবেশি অসুস্থ বলে জানা তিনি।

অপরদিকে, নিখোঁজ জেলে ও ট্রলারের সন্ধানে কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার তৎপরতা আরো জোরদার কেরেছে। তাদের পাঁচটি টিম সুন্দরবন ও সমুদ্রের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে।

এ ব্যাপারে মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লে. জাহিদ আল হাসান রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মোবাইল ফোনে জানান, তাদের সামর্থ অনুযায়ী চেষ্টা চলছে। সুন্দরবন ও সমুদ্রের কাছাকাছি শরণখোলা, সুপতি, কচিখালী, দুবল, কোকিলমনিসহ পাঁচটি কন্টিনজেন্টের প্রায় ৫০ জন সদস্য উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত রয়েছেন।

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT