১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

দায়সারা পাড় বাঁধাই, মাটি নিয়ে সমস্যা

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৮, ৮:০২ অপরাহ্ণ


খননের পর পাড় বাঁধাই হয়েছে দায়সারাভাবে। সেই মাটির কারণে অনেক জমি এখন অনাবাদি। এর সুযোগ নিয়ে অনেকে আবার নদের পাড় কেটে ইটভাটায় মাটি দিচ্ছেন। এসব নিয়ে বহুমুখী সমস্যায় পড়েছেন মেহেরপুরের ভৈরবপাড়ের বাসিন্দারা।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, ভৈরব খননের মাটি নিয়ে তাঁরা সত্যিকার অর্থেই বিপাকে আছেন। মাটি না সরালে তাঁদের জমিতে আবাদ হচ্ছে না। আবার নিজেরাই মাটি সরাতে গেলে মিলছে প্রশাসনের হেনস্তা। অন্যদিকে যেনতেনভাবে পাড় বাঁধাই করায় অসাধু ব্যক্তিরা মাটি কেটে বিক্রির সুযোগ নিচ্ছেন। এতে বর্ষা এলে গ্রামগুলো ভাঙনের শিকার হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে এবং নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে মেহেরপুরে ভৈরবের ২৯ কিলোমিটারে খনন ও পাড় বাঁধাই কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মেহেরপুর সদর উপজেলার রাধাকান্তপুর ও কালাচাঁদপুর, মুজিবনগরের মোনাখালি, বাগোয়ান ও রতনপুর এবং গাংনীর গাড়াবাড়িয়া গ্রাম।
ভৈরব খননকালে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর অঞ্চলে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন মো. আবদুল লতিফ। বর্তমানে মাগুরা পাউবোর দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা বলেন, পাড়ে মাটি ফেলার ব্যাপারে তাঁদের কোনো নির্দেশনা ছিল না। তাই তাঁরা পাড় বাঁধাইয়ের বিষয়ে কোনো কথা নৌবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বলতে পারেননি।
তবে প্রকল্পে যুক্ত নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের একজন লে. (অব.) সরদার বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব ছিল ভৈরব খননের। পাড় বাঁধাইয়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বিষয়টি পাউবোই ভালো জানে।’

মাটি যাচ্ছে ভাটায়
১৫ জানুয়ারি রাধাকান্তপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নদের পূর্ব পাড়ে মাটি কাটার উৎসব চলছে। শ্রমিকেরা মাটি কেটে দিচ্ছেন, সেই মাটি বয়ে নিয়ে যাচ্ছে ১১টি ট্রাক্টরের ট্রলি। মাটি কাটার তদারকিতে ছিলেন এক যুবক। তিনি বলেন, রাধাকান্তপুরের শাহরিয়ার হোসেন এই মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছেন।
শাহরিয়ার হোসেনের বাবা আবুল কাশেম জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
কালাচাঁদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভৈরবপাড়ের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে মাটি খননযজ্ঞ। এলাকার কয়েকজন বলেন, এখানকার মাটি যাচ্ছে মেহেরপুর সদরের রাজাপুরে সামস ব্রিকসসহ পাঁচটি ইটভাটায়। মাটি কাটার কাজে তদারকি করেন কালাচাঁদপুর গ্রামের মরজেম আলী। তবে মরজেম আলী মুঠোফোনে বলেন, ভৈরবপাড়ের মাটি কাটার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
দায়সারা পাড় বাঁধাই
২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের অনুষ্ঠানে ভৈরব খননের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল শুরু হয় খননকাজ। গত বছরের জুলাইয়ে তা শেষ হয়। নদীর তলদেশে খননের পাশাপাশি মাটি দিয়ে দুই পাড় ৬২-৭০ মিটার চওড়া করে বাঁধাই করার কথা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে নদের পাড়ে মাটি এবড়োখেবড়ো করে রাখা আছে। মাটি ফেলায় আশপাশের কৃষিজমিগুলো অনাবাদি পড়ে আছে।
কালাচাঁদপুর গ্রামের আরজান আলী বলেন, মাটির কারণে তাঁর নদপাড়ের জমি অনাবাদি হয়ে গেছে।
রাজাপুর গ্রামের আবুল কাশেমও নদের পাড়ে দুই বিঘা জমি নিয়ে বিপাকে আছেন। মাটি সরাতে গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেন। আবার মাটি না সরাতে পেরে কোনো আবাদ করতে পারছেন না।
জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ বলেন, ভৈরবপাড়ের মাটি কাটার বিষয়টি প্রশাসন কোনোভাবেই মেনে নেবে না। পাড় বাঁধাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এই সমস্যা নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT