১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শীতকাল

দাওয়াত ও তাবলিগের উদ্দেশ্য

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১৫, ২০১৮, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ


দুনিয়ায় মানুষের স্থায়ী কোনো ঘরবাড়ি নেই। সবার গন্তব্যস্থান আখেরাত। চাই সে যে পদেরই হোক না কেনÑ সে চাকরিজীবী হোক, কৃষিজীবী হোক, ব্যবসায়ী হোক; সবাই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আখেরাতকে তৈরি করবে। মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করবে, তখন বুঝবে দুনিয়ার জিন্দেগি তার জন্য কত মূল্যবান ছিল। তখন না বোঝার কারণে আফসোস করবে। দুনিয়ায় যদি কেউ একবার সুবহানাল্লাহ, আলহামদুল্লিাহ বলে, তাহলে আল্লাহ তাকে এর বিনিময়ে আখেরাতে যে বদলা দেবেন, তার মোকাবিলায় দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা-কিছু আছে সবই মূল্যহীন। দুনিয়ার সম্পদ দুনিয়ায়ই শেষ হয়ে যাবে; কিন্তু আখেরাতের নেয়ামত কখনো শেষ হবে না। মানুষ আমলের মূল্য আখেরাতে বুঝতে পারবে যে, একটা কালেমার মূল্য কত দামি ছিল।
মুহতারাম হাজিরিন, দাওয়াত হলো নবীওয়ালা মেহনত। এর মাধ্যমে আমলের যোগ্যতা তৈরি হবে। ঈমান মজবুত হবে। এই আমলের ফায়দা তো দুনিয়ায়ই হবে আর বদলা সে আখেরাতে পাবে। এই দাওয়াতের মেহনতের বদলে আল্লাহ তাকে এমন ঈমান ও আমলি জিন্দেগি দেবেন যে, এর মাধ্যমে সে জান্নাত লাভ করবে। এই ঈমান তাকে নিষিদ্ধ সব কাজ থেকে বিরত রাখবে। এই সবকিছু আল্লাহ তাকে এ দাওয়াতি মেহনতের দ্বারাই দান করবেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ দুনিয়ায়ও বরকতের জিন্দেগি দেবেন আর আখেরাতের সুমহান জিন্দেগি তো আছেই। দুনিয়ায় তার নেক আমলের কারণে পরিবার খুশি থাকবে। সমাজ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। তার কোনো দুশমন থাকবে না। কারণ আল্লাহ তাকে ঈমানি আর আমলি জিন্দেগি দেবেন। মানুষ যা চায় আল্লাহ সব দেবেন। কারণ দেনেওয়ালা একমাত্র আল্লাহ। শুধু তাকে দাওয়াতের মেহনত করতে হবে। কারণ এর মাধ্যমেই আমলি জিন্দেগি আসবে। মুর্দা দিলে ঈমান জিন্দা হবে।
মানুষ ইজ্জত চায়? যাকে আল্লাহ দেন, সে-ই তো ইজ্জতওয়ালা হয়। যাকে জিল্লত দেন সে জলিল (লাঞ্ছিত) হয়। যার মধ্যে দুনিয়ার ইজ্জত দেখা যায়, আল্লাহ তাকে ইজ্জতের নকশার মধ্যে লাঞ্ছিত করবেন। যেমন ফেরাউন। সে দুনিয়ায় ইজ্জতওয়ালা ছিল। আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেছেন। আল্লাহ সবই পারেন। রাতকে দিনের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন, দিনকে রাতের মধ্যে। আল্লাহ আপন ক্ষমতায় জীবিতকে মৃত থেকে আর মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন। আল্লাহ সব পারেন। করনেওয়ালা আল্লাহ, সব ক্ষমতা আল্লাহর। আল্লাহ যাকে চান বেহিসাব রুজি দেন। এজন্য মেহনত হবে দাওয়াতওয়ালা মেহনত। যারা মুসলমান, তাদের জন্যই এ মেহনত। কাফেরদের জন্য তো নয়। ঈমানওয়ালাকে মেহনত করে ঈমানি জিন্দেগি বানাতে হবে। এটাই হলো নেক আমলি জিন্দেগি! আখলাকওয়ালা জিন্দেগি। যার মধ্যে ঈমান এসেছে, আমল এসেছে, তার মধ্যে আখলাকও এসে গেছে। প্রথমে লাগবে ঈমানি ইলম। কলবে ঈমানি ইলম এলে আমলি ইলমও আসবে।
আমলের উদ্দেশ্যও ঠিক থাকতে হবে। আমল হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য। কেউ ঈমান এনেছে, কিন্তু আমল করতে পারেনি, তাহলে তার ঈমান সহি হয়নি। সে সবকিছুতে কমজোর। এই ঈমান তাকে মিথ্যা থেকে বাঁচাতে পারবে না। পবিত্র জিন্দেগির ওপর ওঠাতে পারবে না। এই ঈমান কমজোর! রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমাকে সহি ঈমান দান করেন এবং আমাকে ঈমানওয়ালা আখলাক দান করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি উত্তম আখলাককে পূর্ণতায় পৌঁছাতে এসেছি।’ তো এই ঈমানওয়ালা আখলাক বানাতে পারলে ঈমান পরিপূর্ণ হবে। না হয় সব লাইনে তার ঈমান কমজোর হয়ে যাবে। কারণ সে সহি ঈমান বানাতে পারেনি।
কামেল ঈমানওয়ালা সে-ই, যার আখলাক সুন্দর হয়েছে। প্রকৃত মোমিন সে-ই, যে নিজের জন্য সেটাই পছন্দ করে, যেটা তার ভাইয়ের জন্য পছন্দ করে। কামেল তখনই হবে, যখন সে নিজের আগে ভাইয়ের জন্যও চাইবে। এটাই কামেল ঈমানের নিদর্শন! যে অন্যের উপকার করবে, আল্লাহ তার উপকার করবেন। যখন ঈমান বনবে তখন তার আমল বনবে, আখলাক আসবে। আল্লাহ তাকে দুনিয়ায় কামিয়াব করবেন, আখেরাতেও সম্মানিত করবেন। জান্নাত দান করবেন। এটাই তো মোমিনের উদ্দেশ্য! আর এসবের জন্য সবর করতে হবে, চেষ্টা চালাতে হবে, যেন সে আমলের থেকে দূরে সরে না যায়। এজন্য দাওয়াতওয়ালা মেহনত এবং এর একটা পরিবেশ তৈরি করা চাই।
এই পরিবেশের ওসিলায় আল্লাহ অমুসলিমদেরও প্রভাবিত করবেন। তারাও কালেমা পড়তে আগ্রহী হবে। এভাবে একজন কাফের ইসলামের ছায়ায় চলে আসবে। এটাই তো দাওয়াতওয়ালা মেহনত!
নবীরা দুনিয়ার কথা বলেননি, আমলের কথা বলেছেন। যখন আমল হবে তখন আল্লাহ রাজি হবেন। তিনি রাজি হলে চিরকালের জান্নাত দান করবেন। দুনিয়ায় হায়াতে তৈয়্যেবা দান করবেন। এটাই নেক আমলের বদলা! কোরআনের ভাষায়, ‘যে দোজখ থেকে রেহাই পেয়ে জান্নাত পেয়েছে, সে কামিয়াব হয়ে গেছে। কামিয়াবির পথ দাওয়াত ও তাবলিগ! আর আমাদের এই দাওয়াত ও তাবলিগের এত আয়োজন, এত ইজতেমা, এত চিল্লাÑ এসবের মূল উদ্দেশ্যই হলো নেক চরিত্র গঠন! উত্তম চরিত্রই ইসলামের আসল ঝান্ডা। বিজয়ের স্বপ্নীল পতাকা। যার বিনিময় একমাত্র জান্নাত।

সংক্ষিপ্ত অনুলিখন : আলীফ আইয়ান

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT