২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

দলে কোণঠাসা শামীম ওসমান

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৩, ২০১৮, ২:১১ অপরাহ্ণ


নিজের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে কেন্দ্রে ও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে আগের অবস্থান হারিয়েছেন শামীম ওসমান। এর ফলে শহরে তাঁর ব্যবসায়িক এবং আধিপত্যের জায়গাগুলো দুর্বল হচ্ছিল। কিছু ঘনিষ্ঠজন সরেও যাচ্ছিলেন তাঁর কাছ থেকে।

এ পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান জানান দিতে হকার উচ্ছেদের বিষয় পুঁজি করে পরিকল্পিতভাবে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে সংঘাতে জড়ান শামীম ওসমান। স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত এবং স্থানীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতির প্রতি নজর রাখেন এমন ব্যক্তিরা সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাটিকে এভাবেই দেখছেন।

শামীম ওসমানের বিপরীতে অবস্থান শক্ত হচ্ছিল ওসমান পরিবারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর। আলোচিত সাত খুনের ঘটনার পর থেকে চাপে পড়তে থাকেন শামীম ওসমান। এর মধ্যে আইভী দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় আরেকটু কোণঠাসা হন শামীম। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হিসাব-নিকাশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা ছিল।

আলোচনায় আসতে শামীম ওসমানের সুযোগ খোঁজার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৫ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ হকার্স সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশে তাঁর যেচে গিয়ে সংহতি প্রকাশ থেকে। সেখানেই তিনি ঘোষণা দেন, পরদিন (১৬ জানুয়ারি) থেকে হকাররা ফুটপাতে বসবে। ওই দিনই মেয়র আইভীর ওপর সশস্ত্র হামলা হয়। এতে আইভী, ১২ সাংবাদিকসহ অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন।

নারায়ণগঞ্জ হকার্স সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আসাদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করায় রাইফেল ক্লাবে গিয়ে আমরা এমপির সঙ্গে (শামীম ওসমান) দেখা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের সমাবেশে তাঁকে দাওয়াত করা হয়নি এটা সত্য।’

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হকার উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে শামীম ওসমান যে একটা

গোলমাল বাধাতে যাচ্ছেন, তা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা আগেই টের পান। কোনো কোনো নেতা এ কারণে তাঁদের অনুসারী কর্মী-সমর্থকদের ওই দিন চাষাঢ়া এলাকায় যেতে নিষেধও করেছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর আওয়ামী লীগের একজন প্রথম সারির নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কর্মীদের বলেছি, মেয়র-এমপির গোলমালে যাবা না। ওই দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চাষাঢ়ায় না যাওয়ার নির্দেশনা ছিল।’

মেয়র আইভী ও শামীম ওসমানের সাম্প্রতিক বিরোধের কারণ অনুসন্ধান করে কয়েকটি বিষয় জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে শামীম ওসমানের অনুসারীদের পদ কম পাওয়া, তাঁর একসময়ের ঘনিষ্ঠজনদের অনেকের তাঁকে ছেড়ে যাওয়া শামীম ওসমানের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের চাঁদাবাজির বড় উৎসস্থল ফুটপাত হকারমুক্ত করা এবং জেলার পরিবহন খাতে তাঁর অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ। বিশেষ করে এই দুই উদ্যোগে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন শামীম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দলের কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেওয়া জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে আইভীর পছন্দের ব্যক্তিরা প্রাধান্য পেয়েছেন। কমিটির প্রায় ৭০ ভাগ নেতা আইভীর সমর্থক। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের ইচ্ছায় কমিটি গঠনে আইভীর পছন্দের নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে দলের মহানগর কমিটির বেশির ভাগ নেতা ছিলেন শামীম ওসমানের অনুসারী। কিন্তু সম্প্রতি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাসহ শীর্ষস্থানীয় কয়েক নেতা শামীম ওসমানের পক্ষ ত্যাগ করেছেন। একই অবস্থা তৈরি হয় যুবলীগে। শামীম ওসমানের খুব কাছের মানুষ ছিলেন আইভীর আত্মীয় জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির, নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও বন্দর থানার সাধারণ সম্পাদক আবেদ হোসেন। তাঁরাও শামীমের কাছ থেকে সরে গেছেন।

জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, ‘শামীম ওসমানের সঙ্গে আমার ৪৫ বছরের ঘনিষ্ঠতা। এখন আর সে সম্পর্ক-যোগাযোগ নেই।’

কেন সম্পর্ক ছুটে গেল—এমন প্রশ্নের জবাবে খোকন সাহা বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এটি শামীমের পছন্দ হয়নি। কারণ, সেখানে তার ভাই সেলিম ওসমান সংসদ সদস্য। ১৯৭২ সাল থেকে রাজনীতি করি। আমাদের কী জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা নেই?’

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান, যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদা মালা ও ইয়াসমিন চৌধুরীও শামীম ওসমানের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। তাঁরাও শামীমের কাছ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ পর্যন্ত সব হজম করলেও যুব মহিলা লীগের জেলা কমিটিতে বাগড়া দিয়েছেন শামীম ওসমান। গত বছরের মে মাসে ইয়াসমিন চৌধুরীকে জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও নুরুন নাহারকে মহানগরের আহ্বায়ক করে কমিটি করে দেয় কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগ। কিন্তু শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপে ১৩ দিনের মাথায় কমিটি বাতিল করা হয়। এরপর শামীমের পছন্দে সাদিয়া আফরিনকে জেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক ও সুইটি ইয়াসমিনকে মহানগরীর আহ্বায়ক করে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT