২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

তিন লক্ষাধিক চলন্ত গ্যাস বোমা?

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ


আধুনিক সভ্যতা অনেকটাই যন্ত্রনির্ভর। কিন্তু যন্ত্রেরও যন্ত্রণা থাকে। সেই যন্ত্রণা যাহাতে প্রাণঘাতী না হয়, তাহার জন্য যন্ত্রের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিচর্যার প্রয়োজন। বিগত কয়েক বত্সর ধরিয়া যানবাহন, বাসাবাড়ি ও রেস্তোরাঁয় মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার ও ইহার ভয়াবহতা লইয়া বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হইয়াছে। এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামত হিসাবে জানা গিয়াছে, মেয়াদোত্তীর্ণ এক একটি গ্যাস সিলিন্ডার যেন এক একটি  প্রাণঘাতী বোমা! সমপ্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন হইতে জানা যায়, রিটেস্টিংবিহীন চরম ঝুঁকিপূর্ণ তিন লক্ষাধিক ‘সিলিন্ডার বোমা’ বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকারে সংযুক্ত অবস্থায় চলাচল করিতেছে সর্বত্র। পাঁচ বত্সর মেয়াদের জন্য সংযুক্ত সিএনজি সিলিন্ডার টানা ১৫ বত্সর ধরিয়া ব্যবহারেরও ভয়ানক তথ্য পাওয়া গিয়াছে।

এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলিতেছেন, সিএনজি সিলিন্ডারে প্রতি বর্গইঞ্চিতে তিন হাজার পাউন্ড চাপে যখন গ্যাস ভরা হয় তখন রাস্তায় চলাচলকারী এক একটি গাড়ি একঅর্থে চলমান বোমায় পরিণত হয়। গ্যাস ভরিবার সময় সিলিন্ডার এমনকি গ্যাসও উত্তপ্ত অবস্থায় থাকে। সিলিন্ডার যথাযথ না হইলে বড় রকমের অঘটন ও প্রাণহানির ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। এইক্ষেত্রে বড় বাস-ট্রাকের বিস্ফোরণের ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ বাস-ট্রাকগুলিতে ছয় হইতে আটটি সিলিন্ডার থাকে। বলিবার অপেক্ষা রাখে না যে, মেয়াদোত্তীর্ণ ও দেশীয় পদ্ধতিতে জোড়াতালি দিয়া প্রস্তুতকৃত সিলিন্ডারে বড় মাত্রার গ্যাস চাপ কোনোভাবেই ধারণ করিতে পারে না। ফলে সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি, ছোটখাটো দুর্ঘটনা বা ধাক্কাতেও সিলিন্ডারটি ভীষণ শক্তিতে বিস্ফোরিত হইবার আশঙ্কা থাকে। সমপ্র্রতি টাঙ্গাইল, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অন্তত ১১টি সাধারণ দুর্ঘটনায় গোটা যানবাহন পুড়িয়া যাইবার ঘটনা ঘটে। একটি গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার কেবল রিটেস্ট না করিবার কারণে চলন্ত বোমায় পরিণত হইতেছে—ইহা এইসকল গাড়ির মালিকের অজানা থাকিবার কথা নহে। অন্যদিকে অনেক প্রাইভেটকারের মালিক নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করেন। অথবা ড্রাইভার আলাদাভাবে থাকিলেও পরিবার-পরিজন লইয়া নিজেও সেই গাড়িতে যাতায়াত করেন। তথাপিও তাহারা কেন পাঁচ বত্সর পার হইবার পরও গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের রিটেস্ট করেন না? জানা গিয়াছে, প্রতিটি গাড়ির সিএনজি সিলিন্ডার রিটেস্টিংয়ের জন্য দুই তিন দিন সময় লাগে। লিটার-ভেদে বিভিন্ন ধরনের মাশুল গুনিতে হয়। এই কারণেও গাড়ির মালিকরা এই প্রক্রিয়াকে বাড়তি খরচ ও সময় নষ্ট বলিয়া মনে করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হইল, দেশে মাত্র ডজনখানেকের মতো রিটেস্ট সেন্টার রহিয়াছে। অর্থাত্ সিলিন্ডার পরীক্ষা করিবার বিষয়টিও সুলভ নহে।

সিএনজিচালিত এইসব যানবাহনের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবহূত সিলিন্ডার প্রতি পাঁচ বত্সর পরপর রিটেস্ট (পুনঃপরীক্ষা) করিবার বিধান রহিয়াছে। অভিযোগ আছে যে, গাড়ির ফিটনেসের সঙ্গে রিটেস্ট বাধ্যতামূলক করা সত্ত্বেও বিআরটিএ কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় বিষয়টি নিশ্চিত করা যাইতেছে। মনে রাখিতে হইবে, ঝুঁকিপূর্ণ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার কেবল নিজের, পরিবারের কিংবা জানমালের ক্ষতিগ্রস্ত হইবার আশঙ্কা সৃষ্টি করে না, আশপাশের মানুষকেও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলিয়া দেয়। সুতরাং এই ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে কোনো প্রকার বিলম্ব কাম্য নহে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT