১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

তিন চ্যালেঞ্জ সাত বার্তা

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮, ১:১৮ অপরাহ্ণ


বিএনপির সমাবেশ থেকে ক্ষমতাসীন সরকারকে তিনটি চ্যালেঞ্জ ও সাতটি বার্তা দিয়েছে বিএনপি। তিনটি চ্যালেঞ্জ হলো ১. জানুয়ারির মধ্যেই চতুর্থ বারের মতো বিএনপিপ্রধান বেগম খালেদা জিয়া দেশের নেতৃত্ব দেবেন। ২. জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে তারেক জিয়া দেশে ফিরবেন। তারেককে আটকানো এ সরকারের ক্ষমতা নেই। ৩. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশেও পালাতে পারবে না। তাকে জেলে যেতেই হবে। সাতটি বার্তার মধ্যে রয়েছে ১. ইভিএম বাদ দিন, খালেদাকে ছাড়ুন, আলোচনায় বসুন। ২. খালেদাকে কারাগারে রেখে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন বিএনপির জন্য লজ্জা ও যন্ত্রণার তাই আন্দোলন ছাড়া বিএনপির আর কোনো পথ নেই। আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আন্দোলনের জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ। স্বৈরাচার হটাতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। ৩. তফসিল ঘোষণার আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে দেশে কোনো ধরনের নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। ৪. বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আহ্বান। ৫. তরিকত ফেডারেশনের সাপ্লাই ইসির বিরুদ্ধে লড়াই হবে, হুদাকে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না। ৬. আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে। খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে যাবে বিএনপি। ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকার বিদায় নেবে। ৭. খালেদা জিয়ার মুক্তির সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। খালেদার মুক্তি হবে নিঃশর্ত। আর নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনেই। সংসদ থাকবে না ভেঙ্গে দিতে হবে। গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে দলটির শীর্ষ নেতারা এ চ্যালেঞ্জ ও বার্তা জানান। বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়। গতকাল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই সমাবেশ শুরুর আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসমুদ্র থেকে পরিণত হওয়া মহাজনসমুদ্র সমাবেশস্থল নয়াপল্টন ছেড়ে যায়। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ হওয়ায় নেতাকর্মীদের নয়াপল্টনের পূর্বদিক ফকিরাপুর মোড় ছেড়েও অবস্থান নিতে দেখা গেছে। অপরদিকে পশ্চিম পাশের নাইটিঙ্গেল মোড় ছেড়েও নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। শুধু ফকিরাপুল-নাইটিঙ্গেল নয় আশপাশের অলি-গলিতেও হাজারো নেতাকর্মী অবস্থান নেন। সমাবেশে অংশ নিতে বেলা ১১টা থেকেই আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। খ- খ-ভাবে জড়ো হয়ে দলের প্রধান কার্যালয়ের সামনের সড়কে নানা স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। ঘণ্টা খানেক পরই দুপুর ১২টার দিকে নয়াপল্টন লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। আমার নেত্রী আমার মা, বন্দি থাকতে দেবো না’, ‘আমার মা জেলে কেন’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘বন্দি আছে আমার মা, ঘরে ফিরে যাবো না’, ‘হামলা করে আন্দোলন- বন্ধ করা যাবে না’- ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায় নেতাকর্মীদের।বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আসুন এখন আর কোনো বিভেদ নয়,এখন আর কোনো বিভেদ নয়। দেশের প্রয়োজনে আসুন সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হই। দেশকে মুক্ত করি, গণতন্ত্রকে মুক্ত করি।’ আমরা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠন করি। যারা ঐক্য করেছেন তাদের স্বাগত। উপস্থিত লাখো নেতাকর্মীকে ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের কাছে ফরিয়াদ করতে চাই। আমাদের মাতা, গণতন্ত্রের মাতাকে আর কারাগারে দেখতে চাই না। তাকে কারাগারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। বুকে হাত দিয়ে বলুন, বাংলাদেশকে মুক্ত করবোই, গণতন্ত্রকে মুক্ত করবোই। দেশকে স্বাধীন করবোই।’ ফখরুল আরও বলেন, ‘আগামী দিনে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে খালেদা জিয়ার সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে, তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে, ইভিএম বাতিল করতে হবে এবং সামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব দিতে হবে।’ তিনিআরওবলেন, ‘আওয়ামী লীগ আজ দেউলিয়া রাজনৈতিক দল হয়ে গেছে। তারা আগে বড়াই করে বলতো- যুবসমাজ তাদের সঙ্গে আছে। আর আজ শিশু-কিশোররাও দিন গোনে কখন সরকারের পতন হয়। আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের মুক্তি দাবি করেন ফখরুল। ফখরুল বলেন, ‘গতকাল সারাদেশে বিএনপির প্রতিটা নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশ রেট দিয়েছে। আজ সারাদেশে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে বাধা দিয়েছে। এই সরকার আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। মন্ত্রীরা বলা শুরু করেছে, তার সাজা হবে। তাহলে কি তারা বিচার বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছে।’ ‘সরকারের প্রত্যেকটা নেতা রাতে ঘুমোতে পারে না। এই বুঝি খালেদা আসলো, তারেক রহমান আসলো। ২৪টা ঘণ্টা তারা বিএনপি ভিতির কারণে ঘুমোতে পারে না।’ পরিত্যক্ত ভবনে কারাগারে খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ দাবি করে ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে সাধারণ বন্দির সুবিধাও পাচ্ছেন না। তার যদি কোনো ধরনের ক্ষতি হয় সকল দায় সরকারকেই নিতে হবে বলেন ফখরুল।
আন্দোলনের জন্য বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়া মুক্তি হবেন না, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হোন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অতীতের কথা ভুলে গিয়ে নিরপেক্ষ হয়ে যান।’ যারা ব্যাংকের টাকা লুট করেছে তাদের চিহ্নিত করুন যাতে করে দেশের বাইরে চলে যেতে না পারে। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ইভিএম বলুন আর যতই ষড়যন্ত্র করুন ৫ জানুয়ারির মতো আর কোনো নির্বাচন বাংলাদেশে হতে দেবে না বিএনপি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দেবো।’ বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে মোশাররফ বলেন, ‘এরশাদের সময় হুদা-মতিন যড়যন্ত্র করেছে, এখন এই সরকার করছে। সরকার যতোই ষড়যন্ত্র করুক বিএনপির অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না।’ ‘এই সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। যে কারণে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করেছে। কারণ তারা খালেদা জিয়াবিহীন নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু এবার আর হবে না। নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ এবার ইভিএমের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। এতদিন রাষ্ট্রের কিছু ব্যক্তির ওপর ভরসা রাখতে পারলেও এবার তাও পারছে না। এখন এটাই তাদের শেষ অস্ত্র। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের সুনামিতে ইভিএমসহ সরকার ভেসে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আমির খসরু বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ যে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে তাদেরও এখন বিশ্বাস করতে পারছে না। তাই ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে ইভিএমের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চাইছে। কিন্তু সামনের দিনে আন্দোলনের যে সুনামি আসবে তাতে ইভিএমসহ আওয়ামী লীগ সরকার ভেসে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে সরকারের পতন ঘটানোর জন্য। তাই ষড়যন্ত্র বন্ধ করে বাংলাদেশের মালিকানা দেশের মালিক জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিন।’ তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে তারেককে মামলা দিয়ে বাধা যাবে না। স্বৈরাচার থেকে মুক্তির জন্য মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। কে বললো খালেদা মুক্তি পেলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এমন প্রশ্ন রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র আজ নিখোঁজ! ঘুমিয়ে আছে। গণতন্ত্রকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গণতন্ত্র মুক্তি পেলে খালেদা জিয়া এমনিতেই মুক্তি পাবেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির সাথে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তি অনিবার্য। তিনি মুক্তি পাবেন। সমাবেশে এরশাদের জাতীয় পার্টিকে হিজড়ার দল বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনের জন্য এখন একটা হিজড়ার দল আছে তা হলো জাতীয় পার্টি। ওটা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে কাক সম্বোধন করে তিনি বলেন, নোয়াখালীর এক কাউয়া আছে সারাদিন শুধু কা কা করে। যিনি সারাক্ষণ ওয়ান ইলেভেন আর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। একমাত্র পথ হলো রাজপথ। সেই জন্য রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। একদিকে নির্বাচনের জন্য, আরেকদিকে নেত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই নির্বাচন হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে আইনিভাবে মুক্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি। যখন মুক্তির দ্বারপ্রান্তে আসি তখনই সরকার অন্য মামলায় আটক দেখিয়ে জামিন বিলম্বিত করছে। তাই তাকে মুক্তির একমাত্র পথ রাজপথ। সরকারকে হটানোর জন্য সম্মিলিত আন্দোলনের কথাও জানান এই নেতা। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সরকার বিদায় নেবে। নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনারকে বলতে চাই, আপনাদের কীসের ইভিএম-টিভিএম? বেশি বাড়াবাড়ি করলে ঠ্যাং ভেঙে দেবো।’ শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সারারাত হাসিনা সরকার তার পুলিশবাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছিল আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আজকের এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে হাসিনা সরকারের উদ্দেশে বলে যেতে চাই, ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। ‘শেখ হাসিনাকে অনেকবার বলেছি, বলতে বলতে মুখে ফেনা উঠে গেছে, বেগম জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তার রুমটা একটু ভালো করেন। কিন্তু আপনি তা শোনেন নাই। বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সেদিন কি আপনি এই দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারবেন? কথা খুব পরিষ্কার, ব্যাংক থেকে নিয়েছেন ৪ হাজার কোটি টাকা। সেই টাকা আপনাকে দিতে হবে। এটা বাংলাদেশের টাকা।’
শেখ হাসিনার উদ্দেশে দুদু আরও বলেন, ‘আমাদের ইলিয়াছ আলীকে ফেরত দেবেন না? চৌধুরী আলমকে ফেরত দেবেন না? বেগম জিয়াকে যেখানে রেখেছেন আপনি সেখানে ঢুকবেন। কিন্তু কবে বের হবেন সেটা কেউ বলতে পারবে না। সংসদ ভেঙে দিন, পদত্যাগ করুন। সমানে সমানে আসুন- তারপর দেখবো কত ধানে কত চাল’। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন জিয়াউর রহমান, রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন জিয়া ও তার বাহিনী। আপনার বাপের দেশ যা খুশি তাই করবেন? বেগম জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। আমরা বেগম জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে যাবো।’ বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘তারেক রহমান কি অন্যায় করেছে? জিয়াউর রহমান আপনাকে দেশে আসার সুযোগ দিয়েছিলেন আর আপনি তার ছেলেকে দেশে আসতে দিচ্ছেন না। কথা একটাই বাংলাদেশ জিয়ার দেশ, বাংলাদেশ খালেদা জিয়ার দেশ, বাংলাদেশ হচ্ছে তারেক রহমানের দেশ। এই দেশে থাকতে হলে আইনের আওতায় থাকতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের কথামতো থাকতে হবে।’এছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুন নবী খান সোহেল সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন, অসুস্থ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসের পাওনা হিসাব নেয়ার সময় এসেছে। অবশ্যই হিসাব নেয়া হবে।’ ‘আমরা ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছি। অথচ আমাদের চেয়ারপারসন আমাদের মাঝে উপস্থিত নেই, উনি জেলখানায় আছেন। বিষয়টি আমাদের জন্য যন্ত্রণার, দুঃখ ও লজ্জাজনক।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রীকে জেলে রেখে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী আপনি সেজেগুঁজে পারফিউম মেখে দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়াবেন? এভাবে কি দেশ চলবে? এভাবে দেশ চলতে পারে না। আওয়াজ কি শুনতে পাচ্ছেন? শেখ হাসিনা- আপনার পতনের আওয়াজ কি শুনতে পাচ্ছেন?’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ স্লোগান দিয়েছিলো আগে উন্নয়ন, পরে গণতন্ত্র। বাস্তবে কি উন্নয়ন দেখা যায়? উন্নয়নের চিহ্ন নাই, গণতন্ত্র তো মরেই গেছে।’ নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রামগঞ্জে পাড়া-মহল্লায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ, দেশকে পরিষ্কার করতে হবে। এই আওয়ামী লীগের যতো নির্যাতনকারী হেলমেটবাহিনী-চাপাতিবাহিনী আছে সব পরিষ্কার করতে হবে।’ গত ১০ বছরে দেশের জনগণের ওপর যে নির্যাতন ও অত্যাচার করা হয়েছে তা থেকে স্কুল-কলেজের বাচ্চারাও রেহাই পায়নি। তাই এই কালনাগিনীর অত্যাচারের বিষদাঁত ভেঙে দেয়া হবে।’ পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের বেতন কিন্তু আওয়ামী লীগ দেয় না, দেশের জনগণ দেয়। তাই জনগণের পক্ষে কাজ করুন, আওয়ামী লীগের পক্ষে নয়। কিছু পুলিশের কার্যক্রম দেখে লজ্জা লাগে, এতোই যদি দল করার ইচ্ছা থাকে তাহলে পুলিশের পোশাক বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের কোর্ট পরিধান করুন, নইলে পরিস্থিতি কিন্তু ভালো না।’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সারাদেশে অবৈধ সরকারের পতনের আওয়াজ উঠেছে। তিনি বলেন, সরকারের খুঁটি নড়বড়ে হয়ে গেছে; কিন্তু এই অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা টের পাচ্ছেন না। আকাশে-বাতাসে, বৃক্ষে-বৃক্ষে, পাতায়-পাতায় পতনের আওয়াজ ধ্বনিত হচ্ছে। নয়াপল্টনে বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জনকল্যাণে কাজ করেছেন, এখানে একটু সংশোধন আছে। তিনি জনগণের কল্যাণে নয়, আওয়ামী লীগের কল্যাণে কাজ করেন। তার জনগণকে প্রয়োজন নাই, তার প্রয়োজন ক্ষমতা। কারণ ক্ষমতায় থাকলে পদ্মা সেতুর টাকা লুট করা যায়, ব্যাংক লুট করা যায়, রিজার্ভ লুট করা যায়, সোনা লুট করা যায়, কয়লা, পাথর লুট করা যায়।’ তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। তাকে মুক্তি দিতে হবে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ইভিএম মানি না, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘এখন আমাদের আন্দোলন হচ্ছে সিইসি নুরুল হুদার বিরুদ্ধে। কারণ শেখ হাসিনা সরকার যা বলছে, যা করতে চাইছে হুদা কমিশন সেগুলো বাস্তবায়ন করছে। ১৯৯৬ সালের জনতার মঞ্চের নেতা নুরুল হুদার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। আর নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তার নেতৃত্বেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে, গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।’যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না, নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।’ ‘আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। না হলে দেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের প্রিয় নেত্রীকে মুক্ত করে আনবে’, যোগ করেন খোকন। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘আজ মিথ্যা মামলায় কারাগারে আমাদের নেত্রী। আমরা সরকারকে বলতে চাই, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। না হলে এ দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না।’যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বলেন, ‘খালেদা জিয়া এ দেশের মাটি ও মানুষের নেত্রী। অবৈধ সরকার অন্যয়ভাবে তাকে জেলে আটকে রেখেছে। আমরা তাকে কারাগারে রেখে আজ আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছি।’ নীরব সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী খালেদা জিয়াকে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনবো। তার নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটাবো।’ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রেখেছে এ অবৈধ সরকার। তারা চায়, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আবারো একটা পাতানো নির্বাচন করতে। কিন্তু এ দেশের জনগণ খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে কোনো নির্বাচন হতে দেবে না।’মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জমির উদ্দীন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, আলতাব হোসেন চৌধুরী, জয়নুল আবদিন, বেগম সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, তৈমুর আলম খন্দকার, ফরহাদ হালীম ডোনার, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি সামসুল আলম তোফা প্রমুখ।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT