১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

তানোরে কৃষিখাতে ভূর্তুকি ৭০২ কোটি ৩০ লাখ টাকা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৮, ২০১৮, ১১:০৭ অপরাহ্ণ


আলিফ হোসেন (তানোর প্রতিনিধি) রাজশাহীর তানোরে এমপি আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরীর প্রচেস্টায় কৃষিখাতে উন্নয়নের জন্য আওয়মী লীগ সরকার ১০ বছরে প্রায় ৭০২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ভূর্তুকি দেয়া হয়েছে। আর সরাসরি কৃষক পরিবার ভূর্তুকির এসব টাকা পেয়েছেন ফলে কৃষকদের মধ্যে আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে, বেড়েছে ক্রয় ক্ষমতা ও জীবন যাত্রার মান হয়েছে স্বাবলম্বী। অথচ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কৃষিখাতে ভূর্তৃকি না দিয়ে রাস্তা-ঘাট ও ব্রীজ কালভ্রাট নির্মাণ করা হলে এই টাকায় তানোরের সমস্ত রাস্তা-ঘাট পাকাকরণ করা সম্ভব ছিল। অর্থাৎ কৃষি ভূর্তুকির ৭০২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় প্রায় ৩৫১ কিলোমিটার নতুন পাকা রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। সরকার কৃষি খাতে ভূর্তুকি না দিলে তানোরের কৃষক পরিবারের কাছে থেকে এই ৭০২ কোটি ৩০ টাকা বেরিয়ে যেতো ভূর্তুকির ফলে যেটা এখন তাদের সঞ্চয় হয়েছে। অথচ সাধারণ মানুষ বিষয়টি উপলব্ধী করতে পারছেন না যে সরকার তাদের ঘরে সূখ পৌচ্ছে দিতে গিয়ে রাস্তা-ঘাট নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব করছে তার পরেও রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে আর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তানোরের সমস্ত রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে কৃষি নির্ভর এলাকার কৃষকদের স্বাবলম্বী, ক্ষুধা-দারিদ্র মুক্ত, সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ও জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি করা যেটি ইতমধ্যে সফল হয়েছে। এখন মানুষকে বুঝতে হবে তাদের কোনটি আগে প্রয়োজন মানুষের জীবন যাত্রার মান ও ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি, দারিদ্রতা মুক্তি আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কৃষকদের স্বাবলম্বী করা না কি এসবের আগে রাস্তা-ঘাট নির্মাণ বেশি প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ সরকার সামাজিক নিরাপত্তা (বেস্টনী) কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন অদৃশ্য উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে সূখ পৌচ্ছে দিয়েছে যেটা মানুষ উপলব্ধি করতে পারলেও চোখে দেখতে পাচ্ছেন না। অথচ মাত্র কৃষি ভূর্তুকির টাকা দিয়ে তানোরের সমস্ত রাস্তা-ঘাট পাকা করার পরেও দুই-তৃতীয়াংশ টাকা বেচে যেতো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আজ থেকে ১০ বছর পূর্বে যেই কৃষকের তিন বিঘা জমি ছিল সেই কৃষককে জীবন ধারনের তাকে অন্যর জমিতে কামলা খাটতে হয়েছে, অথচ এখন সেই কৃষকের ঘরে বিদ্যুৎ, মোটরসাইকেল, রঙীন টেলিভিশন ও ফ্রিজসহ উন্নত জীবন যাপনের সব ধরণের উপকরন রয়েছে আর তিন বিঘা জমি থেকেই সে এসব করতে পারছেন কিসের জাদুবলে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলেই স্পস্ট হয়ে উঠবে সকলের সামনে। এখন প্রতিটি গ্রামের মোড়ে চায়ের দোকান ও বিদেশি ফলের দোকান রয়েছে আবার এসব কিনছেন সাধারণ মানুষ সাধারণ মানুষের সেই সক্ষমতা সৃস্টি হয়েছে, তবে সেই সক্ষমতা আসলো কিভাবে সেটি গভীরভাবে চিন্তা করলেই আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন সকলের কাছে দৃশ্যমান হবে। এখন প্রশ্ন হলো এসব কিভাবে সম্ভব হলো এটা সম্ভব হয়েছে সরকারের দেয়া কৃষি ভূর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দেয়া নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করায়।
জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে এক কেজি ইউরিয়া সারের দাম ছিল ২০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬ টাকায়, এক কেজি টিএনপি সারের দাম ছিল ৮০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ২২ টাকায়, এক কেজি এমওপি সারের দাম ছিল ৭০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়, এক কেজি ডিএপি সারের দাম ছিল ৯০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। কৃষি প্রধান এলাকার কৃষকদের কথা বিবেচনা করে সরকার বেশি দামে বিদেশ থেকে এসব সার কিনে এনে ভূর্তুকি দিয়ে এভাবে পানির দামে এসব সার কৃষকের কাছে বিক্রি করছেন আর ভূর্তুকির টাকা কৃষকের ঘরে সঞ্চয় হচ্ছে। কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য সরকার সারে প্রতি কেজি ইউরিয়ায় ৪ টাকা, প্রতি কেজি ডিএপিতে ৬৫ টাকা, প্রতি কেজি এমওপিতে ৫৫ টাকা এবং প্রতি কেজি টিএসপিতে ৫৮ টাকা ভূর্তুকি দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলায় আওয়ামী লীগ সরকার ১০ বছরে শুধুমাত্র বিভিন্ন সারে ভূর্তুকি দিয়েছেন ৬০৯ কোটি টাকা, আউশ প্রণোাদনায় (বিনামূল্য সার বীজ সরবরাহ) প্রায় ২ কেটি ৩০ লাখ টাকা, কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে প্রায় এক কোটি টাকা এবং সেচ কাজে ৩০ বিদ্যুৎ বিলের ওপর শতাংশ টাকা ভূর্তুকি দিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত-বিএনপি এসব নিয়ে রাজনীতিতে স্ট্যান্ডবাজী করছে তারা এসব তথ্য গোপণ করে সাধারণ মানুষকে বোঝাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সরকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন করতে পারেনি তাই দেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি। অথচ তারা বলছে না আওয়ামী লীগ সরকার শুধুমাত্র কৃষিখাতে যেই ৭০২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ভূর্তুকি দিয়েছেন সেই টাকা দিয়ে তানোরের সমস্ত রাস্তা-ঘাট নতুন করে নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। এখন সাধারণ মানুষকে এসব বিষয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে আসলে তাদের উন্নয়ন কোন সরকার করেছে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT