২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

ডিশ ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে খুন হয়েছেন বাবু: পুলিশ

প্রকাশিতঃ মে ১০, ২০১৮, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ


বাড্ডা, ভাটারা গুলশান এলাকায় লাখ টাকার ডিশ ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে রবিন কোম্পানি গ্রুপের সঙ্গে দ্বন্দ্বে আব্দুর রাজ্জাক বাবু ওরফে ‘ডিশ বাবু’ (৩০) খুন হয়েছেন বলে সন্দেহ পুলিশের। ঘটনার পর প্রাথমিক যে তথ্য-প্রমাণ পুলিশ পেয়েছে তাতে এমনটাই সন্দেহ তাদের। যদিও আরও অনেক বিষয় মাথায় নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছেন।

গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. মশিউর রহমান বলেন, বাড্ডা, ভাটারা গুলশান এলাকায় ডিশ ও ইন্টারনেটের ব্যবসা বিভিন্ন পক্ষ নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ডিশ বাবু গ্রুপ। আরেকটি রবিন কোম্পানি। বর্তমানে বাড্ডার জাগরণী ক্লাব এলাকার ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন ডিশ বাবু ও তার লোকেরা। রবিন কোম্পানি গ্রুপের লোকেরা সেখানে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছেন। তাদের দলের মূল ব্যক্তি হলেন তিনজন। এদের মধ্যে রবিন মালয়েশিয়ায় থাকেন। অপর দুজন ডালিম ও রমজান দেশে আছেন। এই গ্রুপে আছেন তানভীর সাফায়েত হোসেন তামরিন ওরফে রানা, হেলাল, শুভ ও অভি। তিন দিন আগেও তারা ডিশ বাবুকে মারার চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন হত্যা করতে পারেনি।

পুলিশ বলছে, গতকাল বুধবার বিদেশ থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফোনে বাবুকে খুনের হুকুম দেন রবিন। তাঁর নির্দেশনা অনুসারে সাফায়েত তানভীর, হেলাল ও অভি গুলশান কমার্স কলেজের কাছ গিয়ে শুভর কাছ থেকে অস্ত্র নেন। পরে তানভীর, হেলাল ও অভি মোটরসাইকেলে করে জাগরণী ক্লাবের কাছে বাবুর ডিশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে থাকা চার-পাঁচ জনের মধ্যে ডিশ বাবুকে গুলি করে মোটরসাইকেল যোগে পালাতে যান। যে পথে তারা যেতে থাকেন সেই পথে রাস্তা ভাঙা থাকায় মোটরসাইকেল আটকে যায়। পরে তারা মোটরসাইকেল ফেলে হাতে থাকা অস্ত্র কাঁধে থাকা ব্যাগে ঢুকিয়ে হাটতে শুরু করেন। ব্যাপারী টাওয়ার দিয়ে যাওয়া শুরু করলে সেখানে থাকা ছাত্রলীগ, যুবলীগের কয়েকজন তানভীরকে দেখে ফেলেন। এ সময় তানভীরকে তারা আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অন্য দুজনকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ তানভীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা আরও অস্ত্র থাকার কথা জানতে পারেন। পুলিশ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার পর ভোরে আফতাব নগরে অভিযানে যান। এ সময় পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলি হলে ক্রসফায়ারে তানভীর সাফায়েত হোসেন তামরিন ওরফে রানা নিহত হন।

মশিউর রহমান জানান, ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। রানার বাসা সাভারে হলেও সে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে রমনা, বাড্ডা ও গুলশান থানায় অন্তত চারটি হত্যা মামলা রয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আরও অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

গতকাল রাতে দক্ষিণ বাড্ডার জাগরণী ক্লাবের সামনে গুলিতে নিহত হন আব্দুর রাজ্জাক ওরফে ডিশ বাবু। তাঁর বাবার নাম মো. ফজলুর রহমান। ফজলুর স্থানীয় একটি স্কুলের নিরাপত্তা প্রহরী।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT