১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শীতকাল

ঠাকুরগাঁও-১আসনে বিএনপি সঙ্গে লড়তে প্রস্তুত আ.লীগের ১০ জন

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৩, ২০১৮, ৮:০৭ অপরাহ্ণ | শেষ আপডেটঃ নভেম্বর ১৪, ২০১৮্‌, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নে এবার চমক আসতে পারে বলে মনে করছেন দলটির প্রবীণ ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এ আসনে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ১০ জন মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মনোনয়ন ক্রয় করা ১০ প্রার্থীর মধ্যে অনেকেই এখন মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তবে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর পুরো প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবেন তারা। যদিও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে প্রয়াত এমপি খাদেমুল ইসলামের ছেলে সাবেক ছাত্রনেতা সাহেদুল ইসলামের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ লক্ষ্যণীয়।

ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে মনোনয়ন ক্রয় করা ১০ জন হলেন, বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, ৩ বারের এমপি প্রয়াত খাদেমুল ইসলামের ছেলে কূটনীতিক সাহেদুল ইসলাম সাহেদ, প্রয়াত ভাষা সৈনিক ও সাবেক গভর্নর ফজলুল করিমের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. মকবুল হোসেন বাবু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী, সাবেক যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক রাজিউর রেজা খোকন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ইন্দ্রনাথ রায়, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুব মহিলা লীগের সভাপতি তাহমিনা আক্তার মোল্লা, ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান খোকন ও জেলা আওয়ামী লীগের বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জামান দুলাল।

রমেশ চন্দ্র সেন : আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আবারও এমপি হতে মনোনয়নপত্র কিনেছেন রমেশ চন্দ্র সেন। ১৯৯৬ সালে উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে এমপি হন রমেশ চন্দ্র সেন। ২০০১ সালে তিনি মির্জা ফখরুলের কাছে হারলেও ২০০৮ সালে আসনটি উদ্ধার করেন। তারপরে সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পান। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ইমরান হোসেন চৌধুরীকে হারিয়ে আবারও নির্বাচিত হন তিনি। পরে রমেশ চন্দ্র সেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ লাভ করেন। ইতিপূর্বে রমেশ চন্দ্র সেন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাহেদুল ইসলাম সাহেদ : সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাহেদুল ইসলাম সাহেদের বাবা মরহুম খাদেমুল ইসলাম ছাত্র জীবনেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও তার নেতৃত্বে আস্থাশীল হয়ে ছাত্র জীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর যে জুলুম নির্যাতন নেমে আসে সেই রোষানল থেকে তিনিও মুক্তি পাননি। তাকে দশ মাস কারাগারে রাখা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সফলভাবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য থাকাকালীন হৃদযন্ত্রের ক্রীড়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই জননেতা। পরে উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান এমপি রমেশ চন্দ্র সেন এমপি নির্বাচিত হোন।

খাদেমুল ইসলামের মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে সদ্য এমএ পাস করা সাহেদুল ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানে বাংলাদেশি হাইকমিশনের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর পুনরায় সাহেদুল ইসলামকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসের ডেপুটি কনসাল জেনারেল নিযুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

অরুনাংশু দত্ত টিটো : ১৯৯৭ সালে রাজনীতিতে আসেন তিনি। তখন ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০১ সালে সরকার পতনের পরে তিনি বিএনপি, জামায়াতের মিথ্যা মামলার কারণে ১১ মাস কারাগারে বন্দী ছিলেন। কারাগারে তাকে বিভিন্ন নির্যাতন ও করা হয়েছে। এরপরে তিনি আবার ২০০৫ সালে জেলা যুবলীগের সভাপতি হন। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। সর্বশেষ টিটো দত্ত ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

মুহা. সাদেক কুরাইশী : ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত তিনি। করেছেন ছাত্র রাজনীতি। দলকে সু-সংগঠিত করার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যেও নিয়ে গেছেন। নজর কেড়েছেন দলের শীর্ষ নেতাসহ সভানেত্রী শেখ হাসিনার। তিনি আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবিদ। জেলা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারি।

ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহা সাদেক কুরাইশী সরকারি কলেজে পড়াকালে ছাত্র রাজনীতি করতেন। ১৯৭৭ সালে ছাত্রদের সুসংগঠিত করে সভা, সমাবেশ মিছিলসহ বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন সংগ্রামেও লিপ্ত ছিলেন তিনি। ১৯৮২ থেকে ৮৩ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে ১৯৮৪-৮৬ সাল পর্যন্ত জেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। পরে চলে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে। ১৯৯১ সালে দায়িত্ব পান প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের। ১৯৯৪ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে দলীয় কোন্দলে দল জড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্র থেকে ভেঙে দেয়া হয় কমিটি। ২০০৫ সালের দলীয় কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সাদেক কুরাইশী। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেন সাদেক কুরাইশীকে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

অ্যাড. মকবুল হোসেন বাবু : বাবা ফজলুল করিম ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাবার অনুপ্রেরণায় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন বাবু নৌকা মার্কার জন্য মনোনয়ন ক্রয় করে জমা দিয়েছেন। অ্যাড. মকবুল হোসেন বাবু ২০০৮ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে জড়িত হয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করেন। ১৯৭৩ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জেলা গভর্নর নির্বাচিত হন। প্রথমে তিনি আইন পেশায় জড়িত থাকলেও সংসদ সদস্য হওয়ার পর এ পেশা ছেড়ে দেন।

তাহমিনা আক্তার মোল্লা : ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কখনও কোনও নারী সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। কিন্তু এবার সেই ইতিহাস ভাঙতে চান তাহমিনা আখতার মোল্লা। ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে অধ্যক্ষ তাহমিনা আখতার মোল্লা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাহমিনা আক্তার মোল্লা তৃণমূল পর্যায় থেকে রাজনীতি শুরু করেন। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মির্জা ফয়সাল আমিনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে হেরেছেন। তবে নির্বাচনে তার পরাজয়ের পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেন কেউ কেউ। তার আগে তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

রাজিউর রেজা খোকন চৌধুরী : ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান ও বাংলাদেশ আওয়াামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক রাজিউর রেজা খোকন চৌধুরী। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতে। ঢাকা কলেজে পড়ার সময় সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ও পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হোন তিনি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগের নতুন কোনো প্রার্থী হলে দলের পাশাপাশি নিরপেক্ষ ভোটারসহ বিএনপির ঘরানার লোকজনের ভোটও পাবেন বলে মনে করছেন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। কারণ নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে সমাজহিতৈষী কর্মকাণ্ডে অগণিত মানুষ উপকৃত হয়েছেন। তাছাড়া ভোটারদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট ডিজিটাল যুগে নতুন প্রার্থী নিজের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করেন না। নতুন কোনো প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবেন এমনটাই আশা করছে ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ।

 

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT