১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

ট্রাম্পের ঘরের শত্রু বিভীষণ

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৫, ২০১৮, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ


নিজের ঘরের ভেতর লাগানো আগুন নেভাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর শিরঃপীড়ার কারণ হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন, কয়েক সপ্তাহ আগেও যাঁকে ট্রাম্প ‘আমার বন্ধু’ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। এই ব্যানন বলেছেন, গত বছরের জুন মাসে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প টাওয়ারে রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে ট্রাম্প জুনিয়র ও অন্যদের সাক্ষাৎ ছিল রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। এই সাক্ষাতের কথা ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে জানতেন না, ব্যাননের কথায়, তার সম্ভাবনা কার্যত শূন্য।
সাংবাদিক মাইকেল উলফের প্রকাশিতব্য গ্রন্থ ফায়ার অ্যান্ড ফিউরিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘরের কথা ফাঁস করে যেসব কথা ব্যানন বলেছেন, এটি তার একটি। একই গ্রন্থে ব্যানন ট্রাম্পকে অযোগ্য, অপ্রস্তুত ও অনাগ্রহী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুধু ট্রাম্প নন, তাঁর মেয়ে ইভানকা ও জামাতা জ্যারেড কুশনারকেও ছেড়ে কথা বলেননি ব্যানন। উলফ, যিনি সাংবাদিক হিসেবে সুপরিচিত, বিগত ১৮ মাস ধরে ব্যানন, ট্রাম্প ও বর্তমান হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বইটি লিখেছেন। এই বই এখনো আনুষ্ঠানিক প্রকাশিত হয়নি, এক দিন আগে নিউইয়র্কার পত্রিকায় এই বইয়ের অংশবিশেষ মুদ্রিত হলে ট্রাম্প প্রবল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এক টুইটার বার্তায় তিনি ব্যাননকে অতি তুচ্ছ একজন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘আমার অথবা আমার প্রশাসনের ব্যাপারে ব্যাননের করার কিছু নেই। তাঁকে (গত বছর) যখন চাকরিচ্যুত করা হয়, তখন তিনি কেবল চাকরিই খোয়াননি, তাঁর মাথাটাও খোয়ান।’ ট্রাম্প অবশ্য তাঁর এই বার্তায় ব্যাননের কোনো বক্তব্য অসত্য বলেননি। সে কথা টের পাওয়ার পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স পুরো বই আষাঢ়ে গল্প বলে বাতিল করে দেন। ব্যানন নিজে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে মুখ খোলেননি।
মুখরোচক যে দাবিগুলো এই বইতে রয়েছে, তার অন্যতম হলো
১। ট্রাম্প রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে রীতিমতো অজ্ঞ। এ ব্যাপারে তাঁর জানার কোনো আগ্রহ পর্যন্ত নেই। জরুরি নথিপত্র তাঁকে দেওয়া হলে সেসব উল্টিয়ে দেখার আগ্রহ পর্যন্ত তিনি দেখাননি। সাবেক স্পিকার জন বেইনারের নাম বলা হলে তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে প্রশ্নে করেন, সে আবার কে? তাঁকে একজন কর্মকর্তা মার্কিন শাসনতন্ত্র ব্যাখ্যা করতে এসেছিলেন, কিন্তু চতুর্থ সংশোধনীর বেশি এগোনো তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।
২। ট্রাম্প ভাবতে পারেননি তিনি নির্বাচনে জিতবেন। নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের কোনো অর্থ ব্যয়কে তিনি অপচয় ভাবতেন। এক ধনকুবের তাঁকে পাঁচ মিলিয়ন ডলারের চেক দিলে ট্রাম্প বিস্ময়ের সঙ্গে বলেন, এই অর্থ পানিতে ফেলা হবে। নির্বাচনে জিতে গেলে তিনি এতটাই ভীত হয়েছিলেন যে ট্রাম্প জুনিয়র তাঁকে দেখে মন্তব্য করেন, মনে হয় বাবা ভূত দেখেছেন। ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া এতটা অখুশি হয়েছিলেন যে তিনি প্রকাশ্যে কেঁদে ফেলেন।
৩। নির্বাচনে জেতার পর বিভিন্ন টেক কোম্পানির কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সাক্ষাতের পর ফক্স নেটওয়ার্কের মালিক রুপার্ট মারডক মন্তব্য করেছিলেন, এই লোকটি ডাহা গর্দভ।
৪। ট্রাম্প সারাক্ষণ এই ভেবে ভীত যে তাঁকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হবে। সে জন্য তিনি প্রচারণার সময় আগেভাগে কাউকে না জানিয়ে ম্যাকডোনাল্ডসে এসে চিজ বার্গার কিনে নিতেন।
৫। ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ও জামাতা চুক্তি করেছিলেন, ভবিষ্যতে সুযোগ এলে ইভানকা প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। হিলারি নন, তিনিই হবেন আমেরিকার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
গ্রন্থটিতে ব্যাননকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাতের প্রশ্নে যে তদন্ত হচ্ছে, তার মূল লক্ষ্য হবে অর্থ পাচার। এতেই কুপোকাত হবেন ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ব্যাননের কথামতো, ডিম যেভাবে ফাটানো হয়, বিশেষ কৌঁসুলি ম্যুলার ট্রাম্প জুনিয়রকে ঠিক সেভাবে জাতীয় টেলিভিশনে ঠুকরে ঠুকরে ভাঙবেন।

প্রকাশনা থামানোর চেষ্টা
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আগামী মঙ্গলবার বইটি প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রকাশনা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইনজীবীরা। এ জন্য তাঁরা বইয়ের লেখক মাইকেল উলফ ও এর প্রকাশনা সংস্থা হেনরি হল্ট অ্যান্ড কোম্পানিকে গতকাল বৃহস্পতিবার আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে বলা হয়, বইটিতে ট্রাম্প সম্পর্কে অসংখ্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মন্তব্য রয়েছে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT