২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে?

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৩, ২০১৮, ১২:১২ অপরাহ্ণ


জাতীয় জনমতে ট্রাম্পের সমর্থন এখনো মধ্য-তিরিশ শতাংশে। দেশের অধিকাংশ মূলধারার পত্রপত্রিকা ও টিভি নেটওয়ার্ক ট্রাম্পকে এখনো হাস্যকর ছাড়া অন্য কিছু ভাবে না। ট্রাম্পকে অভিশংসিত করার ভাবনাচিন্তাও বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা পুরোপুরি ত্যাগ করেননি। কিন্তু এ কথাতেও কোনো ভুল নেই, ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় এক বছর পর ট্রাম্প নিজের অবস্থান অনেক সংহত করে এনেছেন।

বছরের শেষে কর সংস্কার প্রস্তাব পাস ছিল ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সংসদীয় বিজয়। ডেমোক্র্যাটরা একে ধনীদের আরও ধনী বানানোর উৎসব বলে বর্ণনা করলেও এই নতুন আইনের ফলে দেশের ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এই সত্য পুরোপুরি অস্বীকার করা তাঁদের পক্ষেও কঠিন।

গত ১০ মাসে ট্রাম্প প্রশাসন পরিবেশ ও বিভিন্ন বাণিজ্যক্ষেত্রে ওবামা শাসনামলে আরোপিত অথবা প্রস্তাবিত প্রায় দুই হাজার বিধিনিষেধ বাতিল বা স্থগিত করেছেন। এর ফলে পরিবেশের ওপর বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে ও ভোক্তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হবে, বিশেষজ্ঞেরা এই ব্যাপারে একমত। কিন্তু বাণিজ্য খাতে এর আশু প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়া শুরু করেছে। কিছুটা বিরক্ত হয়েই নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা স্বীকার করেছে, ট্রাম্পের প্রভাবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন কর্মচাঞ্চল্য এসেছে। কেউ কেউ এর নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প বাম্প’ বা ট্রাম্পের ধাক্কা। টাইমস জানিয়েছে, নতুন কর আইনের কথা বিবেচনা করেই পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৬ দশমিক ২ শতাংশ উল্লম্ফন অর্জিত হয়েছে।

২০১৭ সালে বিশ্ববাসী এই ভেবে উদ্বিগ্ন ছিল, ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে বসবেন। বাস্তবে তা ঘটেনি। এই সময়ে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ক্ষেত্রে বিস্তর অগ্রগতি অর্জন করেছে বটে, কিন্তু ট্রাম্পের চাপে জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে তার অর্থনীতি চিড়েচ্যাপটা অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। কোণঠাসা অবস্থায় উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং-উন তাঁর নববর্ষের বার্তায় নিজের অবস্থান বদলানোর আভাস দিয়েছেন। একাধিক উদারনৈতিক ভাষ্যকার এই নমনীয়তাকে ট্রাম্পের একগুঁয়েমির ফল বলে মন্তব্য করেছেন।

আইএসের পতনকেও ট্রাম্পের বিজয় হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছে। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বিশ্বের প্রায় সর্বত্র সমালোচিত হলেও দেশের ভেতরে তা আদৃত হয়েছে। কংগ্রেসের উভয় দলের সদস্যরাই তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এমনকি বছরে শেষে ইরানে গণবিক্ষোভ সমর্থন করেও ট্রাম্প উভয় দলের সমর্থন পেয়েছেন।

গত এক বছর ট্রাম্পবিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে শুধু রিপাবলিকানদের নিয়েই সংসদীয় কাজকর্ম সেরেছেন। নতুন বছরে এই পদ্ধতি পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে ট্রাম্পের অ্যাজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ। তিনি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজে আগ্রহী।

এক বছর পর ট্রাম্প সত্যি সত্যি অধিক দায়িত্বসম্পন্ন হয়ে উঠেছেন, এ কথা বলার সময় হয়তো এখনো আসেনি। তবে রক্ষণশীল ভাষ্যকার রজার কিম্বেলের ভাষায়, এই লোকটাকে কিছুটা ‘সিরিয়াসলি’ নেওয়ার সময় এসেছে।

একসময় ট্রাম্পকে ‘টুইটার প্রেসিডেন্ট’ বলে পরিহাস করা হতো। কিন্তু এখন অনেকেই মানছেন, টুইটের কারণেই আগের যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় ট্রাম্প হোয়াইট হাউসকে নাগরিকদের অনেক নিকটবর্তী করতে পেরেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস, ট্রাম্পের ব্যাপারে যার বাড়তি কোনো ভালোবাসা নেই, তারা পর্যন্ত স্বীকার করেছে, ট্রাম্পের এই সাফল্য রীতিমতো ‘বৈপ্লবিক’।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT