২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

জুমাতুল বিদা ও ঈদের করণীয় আমল

প্রকাশিতঃ জুন ১৫, ২০১৮, ১২:১৯ অপরাহ্ণ


ইসলামি মাসসমূহ ও চান্দ্রমাসের মধ্যে রমজান সর্বশ্রেষ্ঠ। সপ্তাহের দিবসসমূহের মধ্যে শুক্রবার সর্বশ্রেষ্ঠ। এদিন মোমিন মুসলমানদের ইমানি সম্মিলন হয়। জুমার দিন সপ্তাহের ঈদের দিন বা গরিবের হজের দিন। এ পুণ্যময় দিনে এমন একটি সময় আছে যে সময় বান্দার মোনাজাত ও দোয়া আল্লাহ বিশেষভাবে কবুল করেন।

জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুমার দিন সর্বাধিক মর্যাদাবান ও নেতৃত্বস্থানীয় দিন। এ পুণ্যময় দিনে আদি পিতা হজরত আদম (আ.)কে সৃষ্টি করা হয়। এদিন তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন এবং এদিন তিনি পৃথিবীতে আগমন করেন। এদিন তাঁর ইন্তেকাল হয়। এদিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (মিশকাত শরিফ)।

রমজানের জুমাগুলো অন্যান্য জুমার দিবস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। রমজানের প্রতিটি দিন তার আগের দিন অপেক্ষা শ্রেয়তর এবং অধিক ফজিলতপূর্ণ। তাই রমজানের শেষ জুমা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত। বিদায় বা প্রস্থানের আরবি হলো ‘আল বিদা’; তাই রমজানের শেষ শুক্রবারকে ‘জুমাতুল বিদা’ বলা হয়ে থাকে। জুমাতুল বিদার মাহাত্ম্য অত্যধিক। রমজান মাসের সর্বোত্তম দিবস হলো জুমাতুল বিদা।

রমজানের শেষ দশকে নাজাত বা জাহান্নাম থেকে মুক্তির সময়ে শেষ শুক্রবারে মুক্তিকামী ধর্মপ্রাণ আপামর জনসাধারণ আশা ও উৎসাহের সঙ্গে মসজিদে আসেন। এটি রমজানের শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনের জুমায় সারা দেশের সব জামে মসজিদে বছরের সবচেয়ে বেশি মুসল্লির সমাগম হয়। সবাই নামাজ শেষে দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে সকরুণ মোনাজাত করে, আমিন! আমিন! ধ্বনির সঙ্গে মুহুর্মুহু উচ্চারিত হয়: ‘আল বিদা ইয়া মাহে রমাদান! আল বিদা;’ ‘আল বিদা আয় মাহে রহমাত! আল বিদা;’ ‘আল বিদা হে মাহে মাগফিরাত! আল বিদা;’ ‘আল বিদা ওহঃ মাহে নাজাত! আল বিদা।’

রমজানের রোজার শেষে এই ঈদ আসে বলে এর নাম ‘ঈদুল ফিতর’। ‘ফিতর’ মানে উপবাস ভঙ্গ করা বা রোজা ভঙ্গন; বাংলায় এটি রোজার ঈদ। রোজার পরে যে ঈদের সকালে প্রথম সুন্নত মিষ্টান্নের মাধ্যমে প্রাতরাশ গ্রহণ করা হয়, সে দিনের ঈদ। মুসলিম মিল্লাতের দুটি ঈদের একটি ঈদুল ফিতর। সুতরাং ঈদুল ফিতর বিশ্ব মুসলিমের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহা উৎসব। এটি আরবি হিজরি সনের দশম মাস তথা শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। রমজান মাসের পূর্ণ নাম হলো ‘রমাদানুল মোবারক’ মানে বরকতময় রমজান। শাওয়াল মাসের পূর্ণ নাম হলো ‘শাওয়ালুল মুআজ্জম’ অর্থাৎ মহিমাময় শাওয়াল।

রমজানের বরকত লাভের জন্য ত্যাগ–তিতিক্ষা, কষ্টক্লেশ ও আয়াস সাধ্য সাধনার পর যে মাসটি সাফল্যের বার্তা নিয়ে আসবে, তা অবশ্যই মহান। সে মাসের প্রথম দিনই ঈদ উৎসব। এই দিন উপলক্ষে ‘জাকাতুল ফিতর’ বা ‘সদকাতুল ফিতর’ তথা ফিতরা প্রদান করা হয়; তাই এটি ঈদুল ফিতর।

হজরত নবী করিম (সা.) বলেছেন: রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে। একটি হলো যখন সে ইফতার করে; দ্বিতীয়টি হবে যখন সে তাঁর মাবুদ আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। (বুখারি)।

রোজাদার প্রতিদিন ইফতার করে; আবার পরের দিন রোজা রাখে। এটি হলো ছোট ইফতার; কারণ এটির পর আবারও রোজা আসে। ইফতার বা ফিতর হলো রোজা পূর্ণ করার পর আহার গ্রহণ করা; পূর্ণ রমজান মাস রোজা পালন শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন সকালে যখন রোজাদার মিষ্টিমুখ করে তখন সে এক বছরের জন্য প্রকৃত অর্থে ইফতার করে বা সিয়াম সাধনা সম্পূর্ণ করে আজ প্রথম সকালের আহার গ্রহণ করে; তাই এটি এক বছরের জন্য বড় ইফতার; তাই ঈদুল ফিতর রোজাদার মোমিন মুসলিমের জন্য পরম আনন্দের দিন।

ঈদের দিনে রোজা রাখা হারাম। কোরবানির ঈদের দিনেও রোজা রাখা হারাম, তবে সকাল থেকে কোরবানি জবাই ও রান্না হওয়া পর্যন্ত পানাহার না করে, দিনের প্রথম খাবার কোরবানির গোশত দ্বারা গ্রহণ করা সুন্নাত। কোরবানির ঈদের পরের তিন দিনও রোজা রাখা নিষেধ; তবে হজ পালনরত হাজিরা এই তিন দিনও রোজা রাখতে পারবেন। অনুরূপ আরাফাতের দিন ৯ জিলহজ রোজা রাখা সুন্নাত, তবে আরাফাতে উপস্থিত হজ সম্পাদনরত হাজিরা এই দিন রোজা রাখতে পারবেন না।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT