২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

‘জিজ্ঞাসাবাদের’ জন্য আটক শিক্ষার্থীদের সমন্বয়কারী মশিউর

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১৭, ২০১৮, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়কারী মশিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহবাগ থানায় আটক করে রাখা হয়েছে। সোমবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদে আজ বুধবার কর্মসূচি ডেকেছেন ছাত্রীরা।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান মশিউরের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে আগের দিন বিকেল থেকে অন্তত ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে মশিউরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ১০টার দিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু তখন শাহবাগ থানার পুলিশ বিষয়টি স্বীকার করেনি। প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেছিলেন, তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট করে পুলিশের কথা তিনি বলেননি।

গতকাল শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পাঁচ মিনিট আগে কথা হয় কর্তব্যরত কর্মকর্তার (ডিউটি অফিসার) সঙ্গে। তখনো তিনি বলেন, মশিউর নামের কাউকে থানায় আনা হয়নি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাপ কমানোর অংশ হিসেবে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। এর প্রতিবাদে তখন থেকেই ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সরব হয়। অধিভুক্ত কলেজগুলোর কারণে বিভিন্ন বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে, এমন বিষয় সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার থেকে কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে হলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের হুমকি-ধমকি, মহড়া, ইভ টিজিং আর গালিগালাজ করেন। এতে আন্দোলন নস্যাৎ হয়ে যায়।

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আন্দোলনের সমন্বয়কারী মশিউরকে ধরে নিয়ে গিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের ভেতরে মারধর করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী। এ সময় তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে সেখানেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তাঁকে জেরা করেন। এরপর তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আন্দোলনের শুরু থেকে মশিউরের সঙ্গে ছাত্রলীগের হল পর্যায়ের কয়েকজন নেতা শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার কাজ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগসহ বেশ কয়েকটি কমিটির নেতা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের দুজনের সঙ্গে গতকাল কথা হয় । তাঁরা বলেন, ক্লাস বর্জনের কর্মসূচি ডাকার পরই আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রত্যেককে ডেকে হুমকি দেওয়া হয়। ফেসবুকে হল শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকেরা সরাসরি আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেন। কয়েকজনকে মারধরও করা হয়। এরপরও অনেকেই আন্দোলনে এসেছিলেন। তাঁদের অবস্থানস্থল থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে অতিথিকক্ষে ডেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। ফেসবুকে আন্দোলনের সপক্ষে যাঁরা লিখছেন, তাঁদের অনেককে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করে প্রক্টরের সহযোগিতায় ছাত্রত্ব বাতিল করানোরও হুমকি দেওয়া হয়।

একটি হল শাখা কমিটির সম্পাদক পর্যায়ের নেতা বলেন, শুরু থেকে মশিউর ছাড়া বাকি যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁরা সবাই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত। অনেকেরই হল কমিটিতে পদ আছে। মশিউরকে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আন্দোলনের সামনে রাখা হয়েছে। কিন্তু মূল লক্ষ্য হচ্ছে সে-ই। বাকিদের বেশির ভাগকে হুমকি দিয়ে, মারধর করে ক্লাস বর্জনের কর্মসূচিতে আসতে দেওয়া হয়নি। এমন অনেক ঘটনাই গণমাধ্যমে আসেনি।

মশিউরের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন গত সোমবার সাংবাদিকদের অভিযোগ করেছিলেন, তিনি ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মশিউরের সঙ্গে থাকা অন্য এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক মেসেজের স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের দেখান, যেখানে লেখা—দু-চারজন শিক্ষার্থী মারা গেলেও প্রশাসন কিছু করবে না। এ সম্পর্কে মশিউর ওই দিন সন্ধ্যায় প্রক্টর কার্যালয়ে বলেছিলেন, মেসেজটি তাঁকে ছাত্রলীগের এক কর্মী পাঠিয়েছিলেন। তিনি কোনো উত্তর দেননি।

আজকের কর্মসূচি

অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের প্রতিবাদে আজ বুধবার বেলা ১১টায় অপরাজেয় বাংলায় সমাবেশ ডেকেছেন ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’। ফেসবুকে ‘ইভেন্ট’ খুলে ছাত্রীরা এ সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছেন। সেখানে বলা হয়, ‘এতটা ন্যক্কারজনকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাঁদের ভাইবোনের ওপর নিপীড়ন চালাতে পারে, ভাবা দুঃসাধ্য। ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করা ছাড়াও বিভিন্নভাবে তাঁদের ওপর জোরজুলুম করা হয়েছে ও হচ্ছে। যদি আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন আওয়াজ না তুলি, কখনোই পারব না। আসুন একবার দেখিয়ে দিই আমাদের কণ্ঠ রোধ হয়ে যায়নি। আমরা সরীসৃপ হয়ে যাইনি।’

বামপন্থী কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র জোটের পক্ষ থেকেও ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল-সমাবেশের ঘোষণা এসেছে।

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT