২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

জটিলতা বাড়ছে এহসানের

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮, ১:০৬ অপরাহ্ণ


কয়েক দফা চোখের চিকিৎসক দেখানোর পর গতকাল রোববার থেকে এহসান রফিকের মস্তিষ্কেরও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের এই শিক্ষার্থীকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, গতকাল দুপুরে মাথায়-চোখে ব্যান্ডেজ পরে এহসান রফিককে মারধরের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে তাঁরা এই প্রতিবাদ জানান।

এহসানকে নিয়ে গতকাল পর্যন্ত মিরপুরে ভাগনের মেসে ছিলেন তাঁর বাবা। সকালে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নিয়েআসা হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ভর্তি করেন। বেলা পৌনে দুইটায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এহসানকে নিয়ে তাঁর বাবা ও দু-তিনজন আত্মীয় চক্ষু বিভাগের সামনে বসে আছেন। তাঁর এক চোখ ব্যান্ডেজ ও কাপড়ে বাঁধা। তিনি কথা বলতে পারছেন না। কিছু খেতেও পারছেন না। কিছুক্ষণ পরপর ইশারায় বাবাকে বলছেন, মাথা যন্ত্রণা করে। বমি বমি লাগে।

এহসানের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, এহসানকে কয়েক দফা চোখের চিকিৎসক দেখানো হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, চোখ ভালো হতে পাঁচ-ছয় মাস লাগবে। তবে তাঁর চোখ যে সম্পূর্ণ ভালো হবে, তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলেননি। চোখের চিকিৎসকদের পরামর্শেই তাঁকে নিউরো (মস্তিষ্ক) চিকিৎসক দেখানো হবে। পরে সন্ধ্যায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁকে মস্তিষ্কের চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

তবে ওই হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

মগবাজারে এক আত্মীয়ের বাসায় থাকাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও এসএম হলের প্রাধ্যক্ষ এহসানকে দেখতে গিয়েছিলেন। তদন্ত কমিটিও বলেছিল, এহসানের বক্তব্যের প্রয়োজন হবে। কিন্তু পরে আর কেউ যোগাযোগ করেননি বলে জানান রফিকুল ইসলাম।

জানতে চাইলে হল প্রশাসনের করা তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ বলেন, ‘তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
আগামী মঙ্গলবার নাগাদ প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হতে পারে।’

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের ছেলে এহসান। ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়ালেখায় মনোযোগী। তিনি প্রাথমিক সমাপনী থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সব পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। দুবার সরকারি বৃত্তিও পেয়েছেন। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।

এহসানের এক আত্মীয় নিয়ামুল কবীরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিভাগের ছাত্র। হাসপাতালে তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামে ওর মতো ভদ্র ছেলে খুব কমই আছে। তাঁর সঙ্গে এমনটা ঘটবে আমরা কখনো ভাবতেই পারিনি। তাঁর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই। কিন্তু তাঁকে জোর করে একটা অপবাদ দিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার রাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত এহসানকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আটকে রেখে নির্যাতন করেন।

প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, মাথায়-চোখে ব্যান্ডেজ পরে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা গতকাল ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে এহসান রফিককে নির্যাতনের প্রতিবাদ করেন। তাঁরা এহসানকে মারধরের ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি করেন।

বামপন্থী কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী, ডাকসুর দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ ও অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছিলেন। গতকালের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এহসান রফিকের কয়েকজন সহপাঠীও অংশ নেন। সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে গত মাসে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর নিপীড়ন ও ছাত্রদের হুমকি-ধমকির পরিপ্রেক্ষিতে এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়।

নিপীড়নবিরোধীদের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাঁরা একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো অনিয়ম ও নিপীড়নের ঘটনায় তাঁদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। এহসানের চোখের আঘাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অন্ধকারের প্রতীক। প্রশাসনের দুর্বলতাই এ ঘটনায় বড় প্রভাব রেখেছে। হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির কক্ষে তাঁকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পরও ছাত্রলীগ তিনজনকে বহিষ্কারের কথা বলে দায় সারতে চেয়েছে।

এহসানের বিভাগ দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনার ছাত্র তন্ময় কুমার গতকালের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বলেন, এহসানের ওপর হামলায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তাঁর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হবে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মাসুদ আল মাহদী, সামান্তা শারমিন ও আবু রায়হান খান বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT