২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

ছাত্রলীগের আসাটাও কাম্য নয়: মাকসুদ কামাল

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৮, ২০১৮, ৪:২৬ অপরাহ্ণ


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেছেন, উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ছাড়া পরবর্তীতে সেখানে একটি ছাত্র সংগঠন (ছাত্রলীগ) আসাটাও কাম্য নয়। এ বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের কার্যালয় ভাঙচুর এবং উপাচার্যের সঙ্গে অসদাচরণের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শিক্ষক সমিতি মানববন্ধন করেন। বেলা ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে মাকসুদ কামাল এ কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার ছাত্রী নিপীড়নের বিচারসহ চার দফা দাবিতে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করায় ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম সংগঠনের কিছু নেতা ও কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে বাম ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ জন। এই ঘটনায় ছাত্রলীগের ১২ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

ওই দিন বাম ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী ও কিছু সাধারণ ছাত্র উপাচার্যের কার্যালয়ের লোহার ফটক ভেঙে উপাচার্যের কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করেন। অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকা উপাচার্যকে ‘উদ্ধার’ করেন।

ওই দিন উপাচার্যকে ঘেরাও করে বিক্ষোভের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারস্থ হলো না, কেন আরেকটি ছাত্র সংগঠন (ছাত্রলীগ) এসে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালাল—এমন প্রশ্নের জবাবে মাকসুদ কামাল বলেন, ‘পুলিশ আসা মাত্রই আরেকটি স্লোগান উঠত বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ কেন, কর্তৃপক্ষ জবাব চাই। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী সবাই মিলে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা যাতে আমাদের সমস্যা আমরাই সমাধান করতে পারি। পরে ছাত্র সংগঠনটি এসে যে ঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষয়টিও তদন্তে আছে। তার আগে চার ঘণ্টা ভিসিকে অবরুদ্ধ করে যেসব ঘটনা ঘটেছে এবং প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকাণ্ড ব্যাঘাত সৃষ্টি করা হয়েছে সেটি কোনোভাবে কাম্য নয়। পরবর্তী ছাত্রসংগঠনটি এসেছে সেটিও কোনোভাবে কাম্য নয়। আমরা আশা করছি বিষয়গুলো শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছাত্র সংগঠনগুলোকে তিনি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।’

আজ শিক্ষক সমিতির এই মানববন্ধনে সমিতির কার্য নির্বাহী সদস্যরাসহ প্রায় দেড় শ শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

২৩ জানুয়ারির ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কেন ছাত্রলীগকে ডাকা হলো। তখন তিনি বলেছিলেন, সেখানে (মঙ্গলবার) ছাত্রলীগের কেউ ছিল না। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমাদের যখন অবরুদ্ধ করা হয়েছিল তখন আমরা মানসিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছি। এ সময় আমরা কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতায় উপাচার্যকে উদ্ধার করেছি।’

পরের দিন উপাচার্যের প্রশাসনিক ভবনে সংঘটিত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিবৃতি দেয়। তারা মনে করে, ‘গতকাল মঙ্গলবারের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের অপপ্রয়াস।’

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT