১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠাগার, সময় কাটে মেলে জ্ঞানও

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ


হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী ও তাদের স্বজনদের অলস সময় পার করতে হয়। আবার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নিঃসঙ্গতায় ভোগে অনেক রোগী। এদের জন্য নতুন ‘সঙ্গী’র ব্যবস্থা হয়েছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে চালু হয়েছে একটি পাঠাগার, যেখানে সময় কাটানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্যও জানতে পারছে রোগী ও তাদের স্বজনরা।

পাঠাগারটির অবস্থান বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বারান্দার একপাশে। গত ১ সেপ্টেম্বর এর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। পাঠাগারটির উদ্যোক্তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।

পাঠাগারটিতে আছে পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্যসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক শতাধিক বই। বীরগঞ্জের শীতলাই গ্রামের রহিম বখস উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. লিয়ন ইসলাম বলেন, ‘আমার আম্মা কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিলাম । এ সময় লাইব্রেরি পেয়ে বই পড়ে সময় পার করলাম। বই পড়ে জানলাম খাবার কিভাবে সংরক্ষণ ও জীবাণুমুক্ত রাখা যায়। পুষ্টিকর খাবার কোনগুলো, তাও জানতে পারলাম।’

দামাইক্ষেত্র গ্রামের ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান সিরাজ জানালেন, ‘এই লাইব্রেরির প্লেগ ও ডেঙ্গুর ওপর লেখা একটি বইটি পড়ে অনেক তথ্য জানতে পারলাম।’

দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বাবু বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাগার স্থাপন নতুন একটা উদ্যোগ, যা মানুষকে নতুন ধারণা দিয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লাইব্রেরিটি পরোক্ষভাবে একজন চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘যাত্রা শুরুর পর থেকে পাঠকের বেশ সাড়া মিলেছে। প্রতিদিন রোগী এবং তাদের স্বজনরা বসে বসে বই পড়ে। চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই যাতে উপকৃত হয়, সেই চিন্তা থেকে পাঠাগারটি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সমস্যা, শিশুদের নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাদ্য, শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, বার্ড ফ্লু, বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি তথ্যসহ বাংলায় লেখা অনেক বই রয়েছে। পাঠকের সংখ্যা বাড়লে পাঠাগারের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নিজেরাই এসব বই সংগ্রহ করেছি। কেউ বই দিতে চাইলেও গ্রহণ করা হচ্ছে।’

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT