১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

চিকিৎসক সংকটে মেলে না কাঙ্ক্ষিত সেবা

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৪, ২০১৮, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ


জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন না। দায়িত্ব অবহেলার এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য চিকিৎসকের মধ্যে। উপরন্তু এখানে রয়েছে চিকিৎসকের তীব্র সংকট। সার্জারি, গাইনি বিশেষজ্ঞ এবং অবেদনবিদ না থাকায় এখানে তিন বছর ধরে প্রসূতিসহ সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এসব কারণে এখানে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

চিকিৎসকেরা নিয়মিত কর্মস্থলে না আসায় স্থানীয় লোকজন গত ২৫ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। পরে ইউএনও ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজী এনামুল হক বলেন, চিকিৎসক যোগদানের পরই চলে যান। তাই এখানে চিকিৎসক সংকট চলছে। বিষয়টি তিনি সিভিল সার্জনকে জানিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৫ লাখ লোকের বসবাস। এদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এখানে চিকিৎসকের ২১টি পদের মধ্যে ৯টিই শূন্য। বাকি ১০ জনের মধ্য জুনিয়র কনসালটেন্ট (নাক-কান-গলা) মোহাম্মদ কামরুল হাসান প্রেষণে জামালপুর সদর ও চিকিৎসা কর্মকর্তা জায়দা জালাল সরকার ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আছেন। এখানে জুনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিকস, চক্ষু, সার্জারি, অ্যানেসথেসিয়া, চর্ম ও যৌন; চিকিৎসা কর্মকর্তা (অ্যানেসথেসিয়া), চিকিৎসা কর্মকর্তা (হোমিওপ্যাথি) ও ডেন্টাল সার্জনের পদ শূন্য।

গতকাল বুধবার সকাল নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন চিকিৎসককে কর্মরত পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে সকাল নয়টায় চিকিৎসা কর্মকর্তা সাহেদুর রহমান ও মেডিসিন বিশেষষজ্ঞ মাহবুবুল আলম এবং চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুর রহমান খান ও আরিফুল ইসলাম বেলা ১১টায় কর্মস্থলে আসেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গাইনি বিশেষজ্ঞ শেখ ফারহানা হুদা গত ৩০ নভেম্বর যোগদান করার পর থেকে হাসপাতালে অনুপস্থিত রয়েছেন। শিশু বিশেষজ্ঞ মিরাজ আলী সপ্তাহে রোববার ও মঙ্গলবার কমপ্লেক্সে আসেন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মাহবুবুল আলম গত ২৮ অক্টোবর যোগদানের পর থেকে নিয়মিত কমপ্লেক্সে আসেন না। এখানে ৫০টি শয্যা থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৪০টি। সার্জারি বিশেষজ্ঞ এবং অবেদনবিদ না থাকায় ২০১৪ সাল থেকে অস্ত্রোপচারকক্ষ বন্ধ রয়েছে। এতে অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শিশু বিশেষজ্ঞ মিরাজ আলী বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যার কারণে আমি নিয়মিত হাসপাতালে আসতে পারি না। তবে যে দুই দিন থাকি সেই দিনগুলোতে সাত দিনে যতসংখ্যক রোগী দেখা যায় ততসংখ্যক রোগী দেখি।’

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মাহবুবুল আলম বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে আসতে হয় বলে নিয়মিত আসতে পারি না।’

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী এনামুল হক নিয়মিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন না। তিনি সপ্তাহে এক দিন কার্যালয়ে আসেন। টাকা ছাড়া তিনি কোনো কাগজপত্রে সই করেন না।

সপ্তাহে এক দিন কর্মস্থলে আসার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, টাঙ্গাইল জেলা শহর থেকে আসতে হয় বলে যথাসময়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা সম্ভব হয় না। কাগজপত্রে সই দিতে তিনি টাকা নেন না।

সিভিল সার্জন গৌতম রায় বলেন, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাকে ২৩ ডিসেম্বর কার্যালয়ে ডেকে এনে সতর্ক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এখানে একটি ডিজিটাল এক্স-রে সরবরাহ করা হয়। ২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে এটি বিকল হয়ে যায়। পরে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এখানে একটি এক্স-রে যন্ত্র সরবরাহ করা হয়। সরবরাহের এক মাস পরই এটিও বিকল হয়ে যায়। ছয় মাস ধরে আল্ট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। দুটি এক্স-রে ও একটি ইসিজি যন্ত্র মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে কয়েক দফা চিঠি পাঠানো হলেও তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে হাসপাতালের রোগীদের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বাইরে থেকে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে হচ্ছে।

পিংনা ইউনিয়নের পিংনা গ্রামের হারুণ অর রশিদ বলেন, হাসপাতালের এক্স-রে যন্ত্র নষ্ট থাকায় বাইরে থেকে তিন শ টাকা দিয়ে এক্স-রে করতে হয়েছে।

আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মমতাজ উদ্দিন বলেন, চিকিৎসক সংকট ও যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় হাসপাতাল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT