২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

চালকবিহীন গাড়ির সঙ্গে টক্করে পারবে টয়োটা?

প্রকাশিতঃ মে ৩০, ২০১৮, ১২:০২ অপরাহ্ণ


চলতি বছরের মার্চে উবারের চালকবিহীন গাড়ির চাপায় প্রাণ হারান এক পথচারী। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ওই নারীর মৃত্যুই চালকবিহীন গাড়ির জগতে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। এ ঘটনার পর টেম্পি, পিটার্সবার্গ, সানফ্রান্সিসকো ও টরোন্টোর সড়ক থেকে উবারের চালকবিহীন গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়। দুঃখ প্রকাশও করে উবার কর্তৃপক্ষ। তবে একটিমাত্র ঘটনা হলেও এ ঘটনার ব্যাপকতা অনেক। দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে।

এই মৃত্যু প্রথমেই যে বিষয়টির ওপর আঙুল তুলছে, চালকবিহীন গাড়ি বাজারে আনতে তড়িঘড়ি করছে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোবো-ট্যাক্সির বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে। গাড়ি নির্মাতা সব বড় বড় ব্র্যান্ড স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়ি, ট্র্যাক তৈরিতে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। এসব গাড়ি স্মার্টফোনের কয়েকটি স্পর্শেই হাতের নাগালে চলে আসবে। চলতি বছরেই অ্যারিজোনাতে রোবো-ট্যাক্সি আনার পরিকল্পনা নিয়েছে গুগলের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ওয়েমো। জেনারেল মোটরস (জিপি) বলছে, ২০১৯ সাল নাগাদ তারা যুক্তরাষ্ট্রে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সিসেবা চালু করবে। এসব গাড়িতে না থাকবে প্যাডেল, না থাকবে স্টিয়ারিং হুইল। জার্মানির প্রসিদ্ধ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সওয়াগন ২০২১ সালের মধ্যেই সহজলভ্য করবে তাদের স্বয়ংক্রিয় গাড়িসেবা। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ডও ঘোষণা দিয়েছে স্বয়ংক্রিয় গাড়ির বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে তারা। প্রজন্ম ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মোবাইলআই ও বিএমডব্লিউয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ২০২১ সালের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বিপণনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ইনটেল। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি এমন প্রযুক্তি তৈরি করবে, যা অন্য প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারবে।

মাত্র কয়েক বছর আগে প্রথম চালকবিহীন গাড়ির ধারণা পাওয়া যায়। বলা হচ্ছে, ২০২০ সালের পরই শুরু হয়ে যাবে চালকবিহীন গাড়ির যুগ। তবে চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি কি নিরাপত্তা দিতে পারবে মানুষের জীবনের? এটি একেবারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, তবে এই গাড়ি ব্যবহারে কি দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব?

উত্তর যে ‘না’, তা তো মার্চের দুর্ঘটনাই বলে দিচ্ছে। দ্য কনভারসেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) উবারের ওই দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্ত প্রতিবেদনে তারা বলে, এখনই কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। ওই দুর্ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, হার্জবার্গ নামের ওই নারী বেশ শান্তভাবেই রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তিনি কোনো গাড়ি আসতে দেখেননি বা গাড়ি আসার কোনো শব্দও পাননি এবং গাড়িটিও দিক পরিবর্তন করার কোনো ইঙ্গিত দেখায়নি। গাড়িটির গতিবেগ ছিল তখন ঘণ্টায় ৪৩ কিলোমিটার। এ ছাড়া গাড়ির ভেতরের এক ক্যামেরায় দেখা যায়, উবারের ব্যাকআপ ড্রাইভার নিচের দিকে তাকিয়ে আছেন। আর অল্প সময়ের মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটে যায়।

স্বয়ংক্রিয় গাড়িগুলো ‘লাইডার’ নামে এক লেজার রেঞ্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে। মূলত, এর মাধ্যমেই গাড়িগুলো যাত্রাপথের একটি থ্রিডি ম্যাপ তৈরি করে এবং সামনে, পাশে, পেছনে ঠিক কী কী বাধা রয়েছে, তা বুঝতে পারে। রোবো-ট্যাক্সি ফার্মগুলো শহরটির প্রতিটি অংশের লাইডার তথ্য সংগ্রহ করে, যেখানে তারা তাদের গাড়িগুলো স্থাপন করতে পারে। এনটিএসবি ওই দুর্ঘটনার তদন্তে দেখতে পায়, ছয় সেকেন্ড আগে হার্জবার্গের অস্তিত্ব টের পায় সেন্সর। তবে সেন্সর থেকে মূল সিস্টেমে সংকেত পৌঁছাতে কোনো একটি সমস্যা তৈরি হয়।

এসব দিক বিবেচনা করে জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা এই ইঁদুরদৌড়ে নামছে না; বরং এমন গাড়ি নির্মাণে মনোযোগী হচ্ছে তারা, যে গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টিই ইতিহাস করে দেবে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT