২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

‘চাকরি-টাকায়’ বুঁদ সাংসদ ওয়াদুদ

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১১, ২০১৮, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ


রাজশাহীর পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনের সরকারদলীয় সাংসদ আবদুল ওয়াদুদ (দারা) চাকরি দেওয়ার নামে এলাকার অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও বাসিন্দারা বলছেন, চাকরি আর টাকা—এ দুটোতে বুঁদ হয়ে পড়েছেন সাংসদ।

পুঠিয়া-দুর্গাপুরে গিয়ে জানা গেছে, সাংসদকে টাকা দিয়ে অনেকের চাকরি হয়েছে। আবার চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চেয়ে পাচ্ছেন না, এমন অন্তত ১৫ জন অভিযোগ করেছেন। পাঁচজনকে পাওয়া গেছে, যাঁরা অনেক দেনদরবারের পর আংশিক টাকা ফেরত পেয়েছেন।

গত ৯ বছরে পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০০ নিয়োগ হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা জানান, এসব নিয়োগ হয়েছে, তাতে সাংসদ ওয়াদুদের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল। একেকটি নিয়োগের জন্য ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১৭ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন। এসব টাকার বেশির ভাগই লেনদেন হয় সাংসদের ভাই শরীফ কাজী, চাচা আলিউজ্জামান ওরফে মন্টু কাজী ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলীর মাধ্যমে। সাংসদ সরাসরিও টাকা নিয়েছেন।

অবশ্য তিনজনই এ ধরনের লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। মন্টু কাজীর দাবি, মানুষ সাংসদকে নিয়ে বানোয়াট কথাবার্তা বলে মজা পায়। এ জন্য এসব কথা বলে।

দুই উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবদুল ওয়াদুদ সাংসদ হওয়ার পর ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত তাঁর নির্বাচনী এলাকা পুঠিয়ায় বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক পদে ২১৭ জন, কলেজের প্রভাষক পদে ১৮৭ জন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী কাম পিয়ন পদে ৩১ জনের নিয়োগ হয়েছে। দুর্গাপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ো
গ হয়েছে ২০৮ জনের। এ ছাড়া পুলিশের কনস্টেবল পদেও কয়েকজনের নিয়োগ হয়েছে।

অবশ্য সাংসদ ওয়াদুদ ২০১৪ সালে নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা দিয়েছেন, তাতে প্রতিশ্রুতি পালনের ঘরে লিখেছেন,
তিনি নির্বাচনী এলাকায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে চার হাজার বেকারের কর্মসংস্থান করেছেন। প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালেও সাংসদ দাবি করেন, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ এলাকার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সরাসরি তাঁর সুপারিশে ছয় শতাধিক লোকের চাকরি হয়েছে।

দুর্গাপুর উপজেলার আটজন আওয়ামী লীগের নেতা ও জনপ্রতিনিধি সাংসদ ওয়াদুদের চাকরি-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁরা জানান, নয় বছরে দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০৮ জনের নিয়োগ হয়েছে। প্রতিটি নিয়োগের জন্য সাংসদকে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮ জন বিএনপির, ১৫ জন জামায়াতে ইসলামীর। ৫ জন জেএমবির সদস্য বলেও তাঁরা দাবি করেন। গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগপত্রটি পাঠানো হয়। এতে সই করেন দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও কিসমতগনকৈড়ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আফসার আলী মোল্লা, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বানেছা বেগম এবং পাঁচজন ইউপি চেয়ারম্যান।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ আবদুল ওয়াদুদ ‘সব সর্বৈব মিথ্যা’ দাবি করে বলেন, তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। চাকরি দিয়ে কারও কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করার প্রয়োজন তাঁর নেই। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুনেছি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের (আসাদুজ্জামান) নেতৃত্বে এটি হয়েছে। যারা একসময় আমার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে, তারাই এগুলো করছে। তারা আরও সুবিধা চায়, পদ চায়।’

উপজেলার ঝালুকা ইউপির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা মো. মোজাহার আলী প্রথম আলোকে বলেন, সাংসদ ওয়াদুদ দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজ ও কানপাড়া জবেদা ডিগ্রি কলেজে এ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি টাকার নিয়োগ-বাণিজ্য করেছেন। অথচ তিনি দুই কলেজে দুটি ইটও লাগাননি। মোজাহার নিজেও সাংসদকে আট লাখ টাকা দিয়ে দুজনকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT