২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং | ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়া আসুক

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৪, ২০১৯, ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ


নূতন বত্সরের প্রথমদিনেই রাজধানীর মালিবাগে বাসচাপায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারাইয়াছেন দুই তরুণী। পুলিশসূত্রে জানা যায়, তাহারা একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করিতেন। বাসসহ চালককে আটক করিয়াছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা দেড়টার দিকে মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় রাস্তা পার হওয়ার সময় অন্য একটি বাসের সহিত প্রতিযোগিতারত সুপ্রভাত পরিবহনের বেপরোয়া গতির একটি বাস তাহাদের চাপা দেয়। এই ঘটনা আমাদের দেশ তোলপাড় করা অনুরূপ আরেকটি দুর্ঘটনার কথা মনে করাইয়া দেয়—যে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করিয়া শিশুকিশোর শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নামিয়া আসিয়াছিল। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের ফুটপাতে দাঁড়ানো অবস্থায় দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সময় গড়াইয়া গিয়াছে অনেক, কিন্তু গণপরিবহনের সেই বিশৃঙ্খল চেহারা যে অপরিবর্তিতই রহিয়া গিয়াছে অল্পবয়সী দুই গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যু আমাদের আবারও তাহা স্মরণ করাইয়া দিল। অথচ নীতিনির্ধারক মহল হইতে শুরু করিয়া সংশ্লিষ্ট সকলেরই ঐকান্তিক প্রত্যাশা হইল—গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়া আসুক এবং রাজধানীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী লক্কড়ঝক্কড় গণপরিবহনের বিড়ম্বনা হইতে পরিত্রাণ পাক রাজধানীর লক্ষ লক্ষ মানুষ। এই লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের লইয়া দফায় দফায় বৈঠক হইয়াছে। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হইয়াছে ইতিবাচক বহু সিদ্ধান্ত। সংবাদমাধ্যমে মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সেইসকল বক্তব্য প্রচারিতও হইয়াছে ফলাও করিয়া। কিন্তু বাস্তবে তাহার কোনো প্রতিফলন খুঁজিয়া পাওয়া কঠিন।

ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ শুধু নহে, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও অব্যাহতভাবে বলিয়া আসিতেছেন যে, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করিতে হইলে গণপরিবহনের শৃঙ্খলাই সর্বাপেক্ষা জরুরি। নাগরিক সংগঠনসমূহের অভিযোগ হইল, গণপরিবহন হিসাবে রাজধানীতে চলাচলরত ৯৫ শতাংশ বাস-মিনিবাসই লক্কড়ঝক্কড়। আর এই অভিযোগ যে ভিত্তিহীন নহে— ভুক্তভোগী মাত্রই তাহা জানেন। বিভিন্ন সময়ে বিআরটিএ ও ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের প্রদত্ত তথ্য এবং বক্তব্যেও তাহার জোরালো সমর্থন রহিয়াছে। বেশিরভাগ বাস-মিনিবাস মেয়াদোত্তীর্ণ শুধু নহে, বহিরাঙ্গেও এতটাই জরাজীর্ণ যে তাহাদের দিকে তাকানো যায় না। দীর্ঘদিন ধরিয়া এই ধরনের লক্কড়ঝক্কড় ও মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহনগুলি রাস্তা হইতে সরাইয়া দেওয়ার কথা বলা হইতেছে। কিন্তু এই লক্ষ্যে যখনই অভিযান শুরু হয়, তখনই দেখা যায় হয় বাসগুলি আত্মগোপনে চলিয়া যায়, অথবা ধর্মঘট ডাকিয়া জনগণকে জিম্মি করিয়া করিয়া ফেলেন প্রভাবশালী মালিক-শ্রমিক নেতারা। কিছুদিন পর গায়ে রংচং মাখিয়া আবার নগর তোলপাড় করিতে শুরু করে লক্কড়ঝক্কড় বাসগুলি। যাত্রীসাধারণের অভিযোগ হইল, কোনো নিয়মকানুনেরই তোয়াক্কা করে না এইসকল তথাকথিত গণপরিবহন। যথেচ্ছ ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি আছে যাত্রী হয়রানি ও যাত্রীদের সহিত দুর্ব্যবহারের ব্যাপক অভিযোগ। ইহার চাইতেও গুরুতর অভিযোগও রহিয়াছে। তন্মধ্যে যত্রতত্র বাস থামাইয়া যানজট সৃষ্টি করা, রাস্তার মাঝখানে বিপজ্জনকভাবে বাসে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং অন্য বাসের সহিত প্রাণঘাতী প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়া প্রভৃতি অন্যতম। আর এই রেষারেষির কারণে ইতোমধ্যে বহু প্রাণ ঝরিয়া গিয়াছে। তোলপাড় হইয়াছে সারাদেশ। সরকারের উচ্চ পর্যায় হইতেও দেওয়া হইয়াছে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা। কিন্তু তাহাদের বোধোদয় হইতেছে না। সন্দেহ নাই যে এই ব্যাপারে চালক-শ্রমিক-পথচারী সবারই দায়িত্ব রহিয়াছে। সর্বোপরি, বাস্তবভিত্তিক দূরদর্শী পরিকল্পনা ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থারও কোনো বিকল্প নাই। যানজট ও দুর্ঘটনামুক্ত মহানগরীর জন্য অনতিবিলম্বে গণপরিবহন ব্যবস্থার এই নৈরাজ্য দূর করার পাশাপাশি আধুনিক ও গণবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা চালু করা অত্যাবশ্যক হইয়া পড়িয়াছে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক ও প্রকাশক:
মোঃ সুলতান চিশতী

বার্তা সম্পাদক:
ডঃ মোঃ হুমায়ূন কবির

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT