১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে আদেশ আজ

প্রকাশিতঃ মে ১৫, ২০১৮, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ জানা যাবে আজ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার আদেশ ঘোষণা করবেন।

এর আগে ৮ ও ৯ মে আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে দুদক, রাষ্ট্রপক্ষ ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। ৯ মে আপিল বিভাগ খালেদার জামিন বিষয়ে আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

এ মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। বয়স ও সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে আদালত তাঁকে এই দণ্ড দেন। এরপর থেকে খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। রায়ের পর আপিল করে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া, যার ওপর শুনানি নিয়ে ১২ মার্চ হাইকোর্ট চারটি দিক বিবেচনায় তাঁকে চার মাসের জামিন দেন।

এই জামিন স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। শুনানি নিয়ে ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ ওই জামিন স্থগিত করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেন। অন্যদিকে, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা, যা সেদিন চেম্বার বিচারপতির আদালতে ওঠে। আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। পরে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। ১৯ মার্চ খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে শুনানির জন্য ৮ মে দিন রাখেন আপিল বিভাগ।

বিদেশ থেকে পাঠানো এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক এই মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপপরিচালক হারুন অর রশীদ। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আদালত খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

জামিনের বিপক্ষে বক্তব্য
আপিল শুনানির দুই দিনে খালেদা জিয়ার জামিনের বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর খালেদার জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও জয়নুল আবেদিন।

দুদক আইনজীবী খালেদার জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এই লঘু দণ্ড জামিনের কোনো কারণ হতে পারে না। দুদক বিচারিক আদালতের এই লঘু দণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন করেছে।

খুরশীদ আলম আদালতের কাছে অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়া আদালতের অনুমতি না নিয়ে লন্ডনে যান। চিকিৎসার কোনো সনদ তিনি আদালতে জমা দেননি। হাইকোর্টেও খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কোনো সনদ জমা দেওয়া হয়নি।

অবশ্য শুনানির সময় আদালত খুরশীদ আলমের কাছে প্রশ্ন রাখেন, বয়স ও অসুস্থতা জামিনের কোনো কারণ হতে পারে কি না? খুরশীদ আলম আদালতকে বলেন, দণ্ড হওয়ার পর বয়স জামিনের কারণ হতে পারে না। বয়স বিবেচনায় নিয়েই বিচারিক আদালত খালেদা জিয়ার সাজা শুনিয়েছেন। একই কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিন চাইছেন।

হাইকোর্ট যে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছিলেন, সে ব্যাপারে খুরশীদ আলম আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়া কত দিন কারাগারে ছিলেন, সে বিষয়টি সেখানে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। সর্বোপরি খালেদা জিয়ার জামিনের ঘোর বিরোধিতা করেন খুরশীদ আলম খান।

শুনানিতে আদালত দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলমকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি একটা কেস দেখান যে হাইকোর্ট কোনো মামলায় জামিন দিয়েছিলেন, সেখানে আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করেছিলেন কি না। এ ছাড়া আদালত তাঁর কাছে আরও জানতে চান, এ মামলার প্রধান আসামি কে?

খালেদার জামিন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের শুনানিতে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন খালেদার আইনজীবীরা। এ ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, তিনি ২০০৯ সালে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তিনি রাষ্ট্রপক্ষে প্রথম যে মামলাটিতে অংশ নিয়েছিলেন, সেটি ছিল মানি লন্ডারিং আইনের একটি মামলা। তা ছাড়া এ মামলাতেই বিচারিক আদালতের একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে এলে সেখানেও অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় টাকা কীভাবে এসেছিল, সেই টাকা নিয়ে কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে এবং খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিরা কীভাবে অভিযুক্ত-বিচারিক আদালতের নথিপত্র থেকে তথ্য তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়ার যে রোগের কথা বলা হচ্ছে, সেই রোগ নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব করেছেন। এই রোগ নিয়েই তিনি সবকিছু করছেন। এটা সহনীয়। এ কারণে খালেদা জিয়ার জামিন হতে পারে না। আদালতকে তিনি জানান, এ মামলার পেপারবুক তৈরি হয়ে গেছে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT