১৬ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ১লা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

‘ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিজয়গাথা একটা ব্র্যান্ড হয়ে থাকবে’

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮, ২:১৯ অপরাহ্ণ


খেলায় পছন্দ 
পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে থাকি আমি। আমার এক আঙ্কেল আছেন যিনি ক্রিকেট নিয়ে আমার ভালোবাসা আর আবেগের কথা জানেন। কিশোর বয়স থেকেই আমার বেঁচে থাকা, নিঃশ্বাস নেয়া এবং খাদ্য গ্রহণের সবটাতেই জুড়ে থাকতো ক্রিকেট। এই খেলা নিয়ে লিখতে পছন্দ করি আমি। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের ভালো রেকর্ড আছে। ২০১২ সালে ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানে হেরে যাওয়া আজও বাংলাদেশিদের কষ্ট দয়। এখানে আমাদের অনেককেই কষ্ট দেয়। তখন থেকেই এশিয়া কাপ বাংলাদেশের হাতে ওঠার ইতিহাসের স্বাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় আছি আমরা। সেদিনের খেলায় শ্রীলংকার বিপক্ষে ছিলাম আমি এবং হতাশ হইনি মোটেও।

পারফরমেন্স 
মুশফিকুর রহিম আবারো চমক দেখালেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলেও তিনি ছিলেন ঠাণ্ডা মেজাজে। তিনি ব্যাটিংয়ে মনোযোগী ছিলেন এবং ক্যারিয়ারের সেরা পারফরমেন্স দিয়ে নিজের ইনিংস শেষ করলেন। প্রথম ওভারে লাসিথ মালিঙ্গার দুটো উইকেট শিকারের পর তিনি নিজের ইনিংস শুরু করেন। এ খেলায় মালিঙ্গাও দোর্দণ্ড প্রতাপে ফিরলেন। তামিম ইকবালকে আঘাত করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করা হলো।

সেখানে একজন ক্রিকেটারের ভাগ্যে প্রশংসা মেলেনি ঠিকই। কিন্তু চরম দুঃসময়ে যিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন তিনি হলেন মোহাম্মদ মিথুন। কঠিন এক মুহূর্তে মুশফিকের সঙ্গে হাল ধরেলেন তিনি। তারা দুজনই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্থিতিশীল খেলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এক ভয়ানক পরিস্থিতি থেকে বের করে আনেন। অবিচলিত হাতে খেলতে থাকেন মুশফিক। আর মিথুন নতুন বলে এমনভাবে খেলতে থাকেন যেন কোনো চাপই নেই। তার স্কোর ৬৩ থাকা অবস্থায় স্ট্রাইক রেট ছিল ৮০’র বেশি।

ফিরে আসা যাক মুশফিকের কাছে। তিনি তখনো উদ্বেগহীন। রান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে কখনো শুকিয়ে মরতে দেননি তারা। মুশফিক যখন ইনিংসটাকে সমৃদ্ধ করছেন তখন কিন্তু মেহেদি হাসানের ১৫, মাশরাফির ১১ এবং মুস্তাফিজুর রহমানের ১০ বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো। কিছু সময় নূন্যতম সুযোগ গ্রহণ করেও মুশফিক দারুণ কাজ করেছেন বলে মনে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত স্কোরে রান যোগ করে গেছেন। ক্যারিয়ারের সেরা ওডিআই স্কোর ১৪৪ অবধি পৌঁছেছেন অবশেষে। চরম সময়ে প্রাণশক্তি এবং সৃষ্টিশীল শটগুলো তার স্টাইল আর টেকনিকের অপূর্ব উদাহরণ হয়ে রয়েছে।

‘ওয়াও ফ্যাক্টর’ 
আমরা খেলা দেখার সময় মিশ্র অনুভূতি পেয়েছি। প্রথম ইনিংসে এমনটাই ছিল। খেলার পর এশিয়া কাপ থেকে তামিমের বিদায় এক কষ্টের খবর হয়ে আসে। আবার ২২৯ স্কোরের মাথায় শ্রীলংকার নবম উইকেটের পতন এই খেলায় তাদের লড়াকু মনোভাবের নিষ্প্রভ দিকটাই প্রকাশ করে। গোটা খেলা দেখতে গিয়ে শিঁড়দাড়া বেয়ে যে শিরশিরে অনুভূতি বয়ে গেছে তা থামাতে পারিনি। কিছুক্ষণ আগেই যিনি মাঠে ছিলেন তাকে ড্রেসিং রুমে হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেলো। এই মানুষটি তার যন্ত্রণা, আঘাত ভুলে গিয়ে ওই মুহূর্তের আরেকটা মানুষকে সহায়তা করতে মাঠে নামলেন। এ অবস্থাকে বলা যায় ‘নিজের সর্বস্বটুকু বিলিয়ে দেয়া’। ক্রীড়া এবং ক্রিকেটের সৌন্দর্যের এমন কিছু তামিম দেখিয়েছেন যা কিনা আমাদের মতো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

তিনি একটা বল সামাল দিলেন। কেবল ডান হাত ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে সামাল দিলেন। এই দৃশ্যটা মুশফিকের ইনিংসের ক্রমবর্ধমান অগ্নিকুণ্ডে নয়া স্ফূলিঙ্গ ছুঁড়ে দেয়ার মতো মনে হলো। মুশফিক দক্ষতার সঙ্গে আরো ৩২ রান যোগ করেন। বাউন্ডারি হাঁকালেন এবং ওভারের শেষ বল পর্যন্ত পেটালেন। বাংলাদেই সমর্থকরা বিস্মিত এবং আনন্দ উপভোগের চূড়ায় তখন। এ অবস্থায় আমার কাছে শ্রীলংকান ফিল্ডারদের শিশুসুলভ মনে হয়েছে। আবার যখন মুশফিক ছক্কা হাঁকালেন তখন আবারো আপনার চিন্তা করতে হবে। তামিমের সাহসীকতা, আত্মবিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধ নিশ্চিতভাবে দর্শকদের অনুপ্রাণিত করেছে।

একটি জিনিস বদলে দিতে পারতাম…
স্টেডিয়ামটি সুন্দর ছিল। এটা বেশ বড় ছিল, কিন্তু এত বড় নয় যে দেখলে অবাক হবেন। বেশ কয়েকজন প্রিয় মানুষের সঙ্গে খেলাটি দেখছিলাম। এর ফলাফল ঠিক তাই হয়েছে যা অন্যভাবে দেখতে চাইনি আমি।

‘ক্রাউড মিটার’ 
খেলায় দর্শকদের সমর্থন দেখার মতো ছিল। যদিও কোনো খেলায় হোম সাপোর্টারদের উপস্থিতির আলাদা সৌন্দর্য আছে। তবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে আপনি দুই দলের সমর্থকদেরই উপস্থিতি উপভোগ করতে চাইবেন। এমনিতেই প্রাণশক্তিতে ভরপুর হয়ে, উচ্ছ্বলতা এবং উচ্চকণ্ঠে আনন্দ উপভোগের দিক থেকে শ্রীলংকার সমর্থকরা বেশ পরিচিত। তারা খেলাতে তেমনই ছিলেন। কিন্তু সত্যিকার অর্থে খেলা শেষে মনে হচ্ছিল আমি বাংলাদেশে রয়েছি। ওভারগুলোর শেষে ‘অপরাধী’ গানটা শুনতে পাচ্ছিলাম বার বার।

দশে যত নম্বর…
নির্দ্বিধায় বলা যায় দশে দশ। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, এই ক্রিকেট ম্যাচটা ছিল উপভোগ্য। এমনকি যিনি খেলা পছন্দ করেন না তার কাছেও তেমনই মনে হবে। নিজের দলের পরাজয় দুঃখজনক হবেই। কিন্তু এ খেলার প্রাণপ্রাচুর্য সবাইকে ভরপুর করে দিয়েছে। ব্যাটিং লাইনে শ্রীলংকা হতাশাজনক পারফরমেন্স দেখালেও ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিজয়গাথা একটা ব্র্যান্ড হয়ে থাকবে। দিনের শেষে আপনি বিশ্বমানের একটি ক্রিকেট দলের কাছ থেকে এমনটাই প্রত্যাশা করেন। এ খেলার পর বাস্তব উপলব্ধি হলো, ‘আন্ডারডগ’ হওয়ার দিনগুলো ফুরিয়ে গেছে অনেক আগেই।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT