২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

ক্রাউলি-ওকাসিও লড়াই শেষ হচ্ছে না

প্রকাশিতঃ জুলাই ২২, ২০১৮, ৮:০৯ অপরাহ্ণ


নিউইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট ১৪ এর নির্বাচনী খেলা এখনো শেষ হয়নি। হিসাব অনুযায়ী, এখান থেকে প্রাইমারি জয় করলেই নিশ্চিত কংগ্রেস নির্বাচনও জয় করার কথা যেকোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর। কিন্তু, দীর্ঘদিনের কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলির পরাজয় যাঁরা মেনে নিতে পারছেন না তাঁদের জন্য বার্তা হলো, ৬ নভেম্বরের নির্বাচনে ব্যালটে নাম থাকছে ক্রাউলির।
ক্রাউলিকে জেতাতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন ওয়াল স্ট্রিটের খেলোয়াড়েরা। ক্রাউলির প্রচার দল ব্যাপক হারে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার কথা ভাবছে। এ অবস্থায় বাঙালি ভোটার আর অন্য ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মনে দ্বিধা স্পষ্ট হচ্ছে। ক্রাউলির প্রচার দলের তরফে দাবি করা হচ্ছে, খেলাটা এখনো শেষ হয়নি।
হিসাব অনুযায়ী, ব্যালটে ৪টি দলের নাম থাকবে। এর দুটি অবশ্যই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান পার্টি এবং তাদের মনোনীত প্রার্থীর নাম। অন্য দুটি দল হলো, একটি ওয়ার্কিং ফ্যামিলি পার্টি ও উইমেন্স ইকুয়েলিটি পার্টি। এই দুই পার্টিই তাদের প্রার্থী হিসেবে জোসেফ ক্রাউলিকে মনোনয়ন দিয়েছে। সে কারণেই ব্যালটে নাম থাকবে ক্রাউলির। এটা নিয়ে ক্রাউলি ও ওকাসিওর মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন চরমে। গত ১১ জুলাই এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হলে, ১২ জুলাই সেটি নিয়ে গোস্‌সা প্রকাশ করে টুইট করেন ওকাসিও। সেই টুইটের জবাব দিয়ে ক্রাউলি বলেছিলেন, ‘নির্বাচন অনেকটাই শেষ। এখন এসব স্থূল বিষয় নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি না করাই ভালো।’ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস এ বিষয়ে একের পর এক প্রতিবেদন ও মতামত প্রকাশ করে যাচ্ছে। যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্রাউলিকে জয়ী করা এবং ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

‘আপনি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত থাকুন, ব্যালটে ক্রাউলির নাম থাকছে। আমরা এখন ব্যাপক হারে প্রস্তুতি নিচ্ছি। কেননা, ওকাসিও ডেমোক্র্যাট নন, তিনি রাজনীতিও বোঝেন না। সামনের দুঃসময়ে লড়াই করার যোগ্য নন তিনি। আমরা এখন ভাবছি, ক্রাউলিকে নির্বাচনে জয়ী করতে ব্যাপক হারে প্রচারণা শুরু করব। কেননা, ডেমোক্র্যাট ভোটার হলেও, যে কেউ যেকোনো দলে ভোট দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট ভোটাররা যদি ওয়ার্কিং ফ্যামিলি পার্টির ব্যালটে থাকা জো ক্রাউলিকে ব্যাপক হারে ভোট দিয়ে ফেলেন, তবে তিনিই জয়ী হবেন’—বলছিলেন ক্রাউলির ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশি আইনজীবী ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী।
১২ জুলাই প্রথম ওকাসিও নির্বাচনে ক্রাউলির টিকে থাকার এই খবর টুইটারে শেয়ার করে লেখেন, ‘ক্রাউলি বলেছিল সে আমার চূড়ান্ত জয়ে সহযোগিতা করবে। তার পরিবর্তে আমার তিনটি নির্ধারিত ফোন কল তিনি এড়িয়ে গেছেন। আমার সঙ্গে তাঁর এখনো কথা হয়নি। সহযোগিতার বদলে, এখন সে দল ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পাশ কাটিয়ে তৃতীয় কোনো দল থেকে নির্বাচনে টিকে থাকতে চাইছে।’
এই টুইটের উত্তর ক্রাউলি দিয়েছিলেন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। লিখেছিলেন ‘ওকাসিও নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে। আমি স্পষ্টতই জানিয়েছি, তোমাকে সাহায্য করব। আমি নির্বাচনের মাঠে নেই। তোমার সঙ্গে ফোন কলটা হচ্ছে না কেননা, তোমার দল সহযোগিতা করছে না। তার অর্থ এই নয় যে টুইট করে সবাইকে দ্বন্দ্বটা জানিয়ে দিতে হবে’।
১৭ জুলাই ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সাবেক সিনেটর জো লিবারম্যান কলাম লিখে ক্রাউলিকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। এর পরেই চারদিকে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্রাউলি কীভাবে এল নির্বাচনী মাঠে! জো লিবারম্যান ২০০৬ সালে ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে সিনেটর নির্বাচিত হন। তিনি সেই উদাহরণ টেনে বলেন, আগামী দিনে বিশেষত ২০২০ সালে নির্বাচনের আগে ক্রাউলির মতো প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদকে ওয়াশিংটনে থাকা দরকার। সেটা নিয়েই এই আলোচনা।
১৮ জুলাই বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্রাউলির দপ্তর থেকে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে, যতটুকু আলোচনা হচ্ছে, তাতে ঘুরে ফিরে আসছে নভেম্বরে কংগ্রেস নির্বাচন প্রসঙ্গ।
একজন সমাজতন্ত্রপন্থী ঘোষণা দিয়েই বার্নি স্যার্ন্ডাসের রাজনীতির চর্চা করবেন বলে জানিয়েছেন ওকাসিও। সেটা পছন্দ নয়, নিউইয়র্কের ব্যবসায়ী আর ওয়াল স্ট্রিটের দাতাদের। তাঁরা ক্রাউলিকে নির্বাচিত করতে কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ করেছেন বছরের পর বছর। এমনকি, ১৪ আসন থেকে ১০ বার জয়ী হওয়া ক্রাউলিকে ৭ বার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করা লাগেনি। এ অবস্থায় তাঁর মধ্যে আত্মঅহমিকা ও ভোটারদের তাচ্ছিল্য করার ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। এবার ল্যাটিনো বংশোদ্ভূত ২৮ বছরের তরুণী, এক বছর আগেও যিনি মদের দোকানে চাকরি করতেন তিনি মাঠে নামেন ক্রাউলিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। ক্রাউলির ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে অভ্যস্ত ছিলেন না, ফলে বাজিমাত করেন ওকাসিও। তরুণ ও খেটে খাওয়া পরিবারের মানুষেরা নিরুত্তাপ প্রাইমারিতে (বাছাই পর্বের নির্বাচন) তাঁকে ভোট দিয়ে সামনে এনেছেন। কিন্তু চূড়ান্ত বিজয় এখনো অনেক দেরি বলেই মনে হচ্ছে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT