২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

কোরআন অধ্যয়ন ও অনুধাবন

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১, ২০১৮, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ


আল্লাহ তায়ালা বলেন,
‘আর যখন তাদের সামনে কোরআনের আয়াতগুলো পাঠ করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়।’ (সূরা আল আনফাল : ২)। ‘এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতগুলো লক্ষ করে এবং বুদ্ধিমানরা যেন তা অনুধাবন করে।’
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত যেমন একটি মহান ইবাদত ও অশেষ সওয়াবের কাজ, তেমনি কোরআনের মর্ম অনুধাবনও একটি বিশেষ ইবাদত, অফুরান সওয়াবের কাজ এবং ঈমান, আমল ও এলেম বৃদ্ধির অন্যতম উপায়। মোমিন বান্দা কোরআন তেলাওয়াত করে, মর্ম বুঝতে চেষ্টা করে। এতে তার ঈমানের জ্যোতি আরও বিকশিত হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যখন তাদের সামনে কোরআনের আয়াতগুলো পাঠ করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়।’ (সূরা আল আনফাল : ২)। ‘এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতগুলো লক্ষ করে এবং বুদ্ধিমানরা যেন তা অনুধাবন করে।’ (সূরা ছোয়াদ : ২৯)।
কোরআন মজিদের বিস্তারিত জ্ঞানার্জন ফরজে কেফায়া। তার মানে কিছুসংখ্যক মুসলমান তা করে নিলে সবার দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। তবে জীবন চলার পথে হেদায়াত লাভের জন্য প্রত্যেক মুসলমানকেই কোরআন অনুধাবনের চেষ্টা করা উচিত। কোরআন অনুধাবনের আগে কিছু বিষয় আমাদের মনে রাখা দরকার। যেমনÑ
এক. আল্লাহর কালাম বুঝতে হলে এবং সে কালামের মর্ম উপলব্ধি করতে চাইলে সর্বপ্রথম আল্লাহকে চিনতে হবে, তাঁর পরিচয় লাভ করতে হবে এবং তাঁর সঙ্গে একান্ত সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য প্রথম শর্ত ঈমান। অন্তরে ঈমান না থাকলে শুধু কোরআন গবেষণা করলে তা থেকে হেদায়াত লাভ করা যাবে না। আল্লাহকে আমরা দেখিনি, এ দুনিয়ায় দেখা সম্ভব নয়। আমাদের সামনে আল্লাহর পরিচয় হিসেবে যে নিদর্শনটি আছে তা হলো কোরআন, আল্লাহর কালাম বা বচন। এ চেতনা নিয়ে যখন কোরআন তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন করা হবে তখনই কোরআন ঈমানি শক্তিকে আরও জোরদার করবে।
ক্রমান্বয়ে আল্লাহর নামগুলোর প্রকৃত মর্ম ও মাহাত্ম্য অন্তরে উদ্ভাসিত হতে থাকবে এবং বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে থাকবে। সে জন্য আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের অনেক জায়গায় তাঁর নামের সঙ্গে কোরআন নাজিলের কথাও উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তিনি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছেন সত্যতার সঙ্গে।’ (সূরা আলে ইমরান : ২-৩)। আল্লাহ বলেন, ‘এতে মিথ্যার প্রভাব নেই, সামনের দিক থেকেও নেই এবং পেছন দিক থেকেও নেই। এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।’ (সূরা হা-মিম, সেজদা : ৪২)। ‘এটা তাঁর কাছ থেকে অবতীর্ণ, যিনি ভূম-ল ও সমুচ্চ নভোম-ল সৃষ্টি করেছেন। তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন।’ (সূরা তোয়াহা : ৪-৫)।
দুই. দ্বিতীয়ত পবিত্রতা ও অজু থাকতে হবে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র, তার কালাম কোরআনও পবিত্র। কাজেই অপবিত্র অবস্থায় ও অজুবিহীন কোরআন স্পর্শ করা যাবে না। কোরআনের প্রতি এতটুকু সম্মান ও শ্রদ্ধা না থাকলে কেউ কোরআন অধ্যয়ন করে উপকার লাভের আশা সদূরপরাহত।
তিন. কোরআনের মর্মার্থের দুয়ার খুলতে এবং কোরআনি হেদায়াত গ্রহণ করতে চাইলে তেলাওয়াতকারীকে কোরআন নাজিলের মহান লক্ষ্য সামনে রাখতে হবে। সেই লক্ষ্যÑ যার জন্য আল্লাহ তায়ালা মানবজাতি সৃষ্টি করেছেন, নবীদের প্রেরণ করেছেন এবং আসমানি কিতাবাদি নাজিল করেছেন। আর তা হলো আল্লাহর দাসত্ব স্বীকার এবং জীবনে তা বাস্তবায়ন করার মানসিক প্রস্তুতি। এরূপ মনোযোগ ও মানসিকতা নিয়ে তেলাওয়াতে মগ্ন হলে অবশ্যই সে তেলাওয়াত দ্বারা কোরআন থেকে কিছু সংগ্রহ করা তথা কোরআনের মূল বাণী ও বক্তব্য অনুধাবন করার আশা করা যায়। স্বচ্ছ হৃদয়ে কোরআনি জ্ঞানের ঝরনাধারা প্রবাহিত হবে, হৃদয় ও আত্মা পরিচ্ছন্ন হবে এবং তথ্যজ্ঞানের ভা-ার সমৃদ্ধ হবে।
চার. আল্লাহ তায়ালার কাছে কোরআনের যে মর্যাদা ও অবস্থান এবং আল্লাহ নিজ কিতাবে সে কিতাবের যে বিশেষণগুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলো হৃদয়ঙ্গম করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি আপনাকে সাতটি বার বার পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কোরআন দিয়েছি।’ (সূরা হিজর : ৮৭)। ‘এ কোরআন এমন পথপ্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল এবং সৎকর্মপরায়ণ মোমিনদের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য মহা পুরস্কার রয়েছে।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৯)। ‘যদি কোনো কোরআন এমন হতো, যার সাহায্যে পাহাড় চলমান হয় অথবা জমিন খ-িত হয় অথবা মৃতরা কথা বলে, তবে কী হতো? বরং সব কাজ তো আল্লাহর হাতে।’ (সূরা রা’দ : ৩১)। ‘যদি আমি এ কোরআন পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তায়ালার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্য বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।’ (সূরা আল হাশর : ২১)।
পাঁচ. কোরআন অনুধাবনের এ মহৎ কর্ম শুরুর আগে আরেকটি বিষয় জরুরি। তা হলো, যে মহামানবের ওপর কোরআন নাজিল হয়েছে, তাঁর জীবনী এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিস ও সুন্নাহ অনুসন্ধান ও অনুসরণ করতে হবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা কোরআন নাজিল করে এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে দেওয়ার জন্য সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠিয়েছেন।
নবীজির বাস্তব জীবনই হলো কোরআন মজিদের ব্যাখ্যা ও বাস্তব রূপ। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তাঁর আয়াতগুলো, তাদের পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত। এর আগে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।’ (সূরা আল জুমা : ২)।
অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘এবং আপনার কাছে আমি স্মরণিকা অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি লোকদের সামনে ওইসব বিষয় বিবৃত করেন, যেগুলো তোদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।’ (সূরা আন নাহল : ৪৪)। বস্তুত নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কথা ও কর্মে আমাদের কোরআন বুঝিয়ে গেছেন। সাহাবায়ে কেরাম নবীজি থেকে সেসব আহরণ করেছেন এবং পরবর্তীদের কাছে পৌঁছিয়ে গেছেন। সুতরাং কোরআনের সঠিক অর্থ, মর্ম, ব্যাখ্যা ও প্রয়োগÑ এসব অনুধাবন করতে হলে হাদিস ও সুন্নাহ এবং সিরাতে নববির কোনো বিকল্প নেই। কোরআন অধ্যয়নের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে তা হলো, এমন কোনো তাফসির গ্রন্থকে ফলো করতে হবে, যে গ্রন্থ বৃহত্তর মুসলিম সমাজের কাছে গৃহীত ও সমাদৃত হয়েছে। মনে রাখতে হবে, নিজে উপলব্ধি করা ও জীবনে বাস্তবায়ন করাই কোরআন অধ্যয়নের লক্ষ্য। কাজেই কেউ যেন অল্প একটু বিদ্যা জেনে নিয়ে তা মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করার খায়েশ না করেন। কারণ অল্পবিদ্যা ভয়ংকর।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT