২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

কোহলির ‘ইংলিশ দুঃস্বপ্ন’ মাটিচাপা এক ইনিংসেই!

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৩, ২০১৮, ৫:১৯ অপরাহ্ণ


এজবাস্টন টেস্টের প্রথম দিনে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুটকে রানআউট করেছিলেন বিরাট কোহলি। এরপর রুটের পিত্তি জ্বলিয়ে তাঁর সেই উদযাপন ইংলিশ দর্শকেরা সম্ভবত মনে রেখেছিলেন। কাল টেস্টের দ্বিতীয় দিনে কোহলি ব্যাটিংয়ে নামার সময় তাই দুয়োধ্বনি দিয়েছে দর্শকেরা। কিন্তু সেই একই ব্যাটসম্যানটি আউট হয়ে ফেরার সময় উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখিয়েছে একই দর্শকেরা! এই না হলে টেস্ট ক্রিকেট, এই না হলে তারকা!

নাকউচুঁ ইংরেজ দর্শকদের উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানোর কারণ কোহলির ইনিংস—২২৫ বলে ১৪৯ রান। এই সংখ্যায় ইনিংসটা মহিমা বোঝা যাবে না। বোঝা যাবে ম্যাচের তখনকার পরিস্থিতিতে—প্রথম ইনিংসে ভারতের ২৭৪ রানের মধ্যে ১৪৯-ই কোহলির। এর মধ্যে অষ্টম, নবম ও দশম উইকেটে যথাক্রমে শামি, ইশান্ত ও উমেশের সঙ্গে জুটি গড়েছেন ১৩, ৩৫ ও ৫৭ রানের। চার ও দুই রান কিংবা ওভারের শেষ বলে এক রান—শেষ দিকে এই কৌশলে দেশের ইনিংসটা একাই টেনেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। তাতে মাটিচাপা পড়েছে চার বছর আগের এক দুঃসহ স্মৃতি।

২০১৪ সালের সেই ইংল্যান্ড সফর নিশ্চিতভাবেই পাল্টে দিয়েছে কোহলিকে। সেবার পাঁচ টেস্টের সিরিজে ১০ ইনিংসে মাত্র ২৮৮ বল খেলেছিলেন কোহলি। সেই ১০ ইনিংসে তাঁর স্কোর ছিল যথাক্রমে ১, ৮, ২৫, ০, ৩৯, ২৮, ০, ৭, ৬ ও ২০। গড় ১৩.৪০। এরপর থেকেই কোহলির বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানের তকমায় চোট লেগেছিল। এবার তিনি সেই চোট সারালেন পাঁচ টেস্টের সিরিজে দলের প্রথম ইনিংসেই! মাত্র একটি ইনিংসেই ২২৫ বল খেলে টপকে গেছেন আগের সেই সফরের মোট রানকে।

চার বছর আগের সেই সফরে ওভাল টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১৪৮ রানে অলআউট হয়েছিল ভারত। সেই ইনিংসে মহেন্দ্র সিং ধোনির একার অবদানই ছিল ৮২। ইংল্যান্ডের মাটিতে সফরকারি দলের কোনো (শেষ হওয়া) ইনিংসে সেটাই ছিল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত অবদানের হার (৫৫.৪০ শতাংশ)। কালকের ইনিংসটি দিয়ে এই তালিকায় গ্রেগ চ্যাপেল, ব্রায়ান লারা ও হানিফ মোহাম্মদকে কোহলি পেছনে ফেললেও থাকলেন শুধু ধোনির পেছনে। ভারতের প্রথম ইনিংসে রানের দিক থেকে তাঁর ব্যক্তিগত অবদানের হার ৫৪.৩৭ শতাংশ।

শেষ দিকে দলীয় ইনিংসটা কোহলি কীভাবে একা টেনেছেন তাঁর ব্যাখ্যাও দিয়েছে পরিসংখ্যান। অশ্বিন আউট (সপ্তম উইকেট) হওয়ার পর ভারতের বাকি তিন ইশান্ত শর্মা (১৭), উমেশ যাদব (১৬) ও মোহাম্মদ শামি (৪) মিলে মোট ৩৭ বল খেলেছেন। আর এই তিনজনের সঙ্গে উইকেটে থাকতে কোহলি একাই খেলেছেন ১১৬ বল। রান তুলেছেন ৯২। ভাবা যায়! একাই দলীয় ইনিংস টানার অনুপম উদাহরণ।

পরিসংখ্যান বলছে, এই তিনজন উইকেটে থাকতে কোহলি একাই ৭৫ শতাংশ ডেলিভারির মুখোমুখি হয়েছেন। আর এই ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মিলে যত ডেলিভারির মুখোমুখি হয়েছেন কোহলির একাই তার তিনগুণের বেশি ডেলিভারির মুখোমুখি হয়েছেন—যা ৯, ১০ ও ১১ নম্বরদের সঙ্গে নিয়ে ন্যূনতম ১০০ ডেলিভারি খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে গত ১৭ বছরে সবচেয়ে বেশি (৩.১ গুণ)।

এই ইংল্যান্ড সিরিজে ভালো করতে কোহলি কতটা মুখিয়ে তা এসব পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার। ভারতীয় অধিনায়ক ঠিক কী চান, সেটা বোধ হয় ধরতে পেরেছেন শচীন টেন্ডুলকার। কোহলির সেঞ্চুরির পর ভারতীয় কিংবদন্তির টুইট, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ “নক”(সেঞ্চুরি)। টেস্ট সিরিজের সুরটা দারুণভাবে বেঁধে দিয়েছ।’ সেই সুরটা যে জয়ের ইচ্ছা তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT